স্টাফ রিপোর্টার :পুলিশের বিরুদ্ধে ছিনতাই-চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পুরনো। সম্প্রতি এ সব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। বিশেষ করে যে সব পুলিশ সদস্য দিনে-রাতে জননিরাপত্তায় টহল দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষের জন্য বেশি নিরাপত্তাহীণ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে নিত্য অভিযোগ উঠেছে—তারা মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। তবে, পুলিশের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দুই-একজন প্রকাশ্যে অভিযোগ করলেও বেশিরভাগ মানুষই হয়রানির ভয়ে মুখ খুলতে চান না।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুর কোনাবাড়ী নছের মার্কেট এলাকায় টহল পুলিশের হাতে তল্লাশির নামে চরমভাবে নাজেহাল হন কয়েকজন গার্মেন্টস কর্মী। রাত অনুমান ১টার সময় নছের মার্কেট চার রাস্তার মোড়ে খাবার খাওয়ার জন্য মাদারীপুর হোটেলে যাওয়ার পথে টহল পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়েন তারা। তল্লাশির এক পর্যায়ে দুর্ব্যবহার ও মারধরের শিকার হন। পরে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন টহল পুলিশের সদস্যরা। দাবি করা টাকা দিতে না পারায় ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা অনলাইন পোর্টাল, দৈনিক আলোকিত সময়ের প্রতিবেদককে বলেন, শুধু টহল পুলিশ নয়, কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড গোটা বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। এ সব পুলিশ সদস্যের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনেও বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন কিংবা পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক বিবেচনা না করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার যাবের সাদেকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি কল রিসিভ করে কেটে দেন।

