বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮



জাতীয় পার্টির সাথে সরকারের সংলাপ, বিরোধীদলের সংজ্ঞা এবং কিছু কথা


আলোকিত সময় :
05.11.2018

সম্প্রতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও সরকারের সাথে সংলাপ ইস্যুতে কিছু সমালোচক বিরূপ করছেন, পাশাপাশি বিরোধীদল হিসেবে জাতীয় পার্টিকে নিয়েই কিছু মন্তব্য করছেন। বাস্তবতা, যে যাই বলুক প্রধান বিরোধীদল ছাড়া সংলাপ হতে পারে না। বিশেষ করে এরশাদ ছাড়া সংলাপ হওয়ার প্রশ্নই অাসে না। এ বিষয়ে অামি কিছু কথা বলতে চাই-

নব্বই পরবর্তী প্রতিটি নির্বাচনেই দেখা গেছে এরশাদ ক্ষমতার নিয়ামক শক্তি। তার সমর্থন ছাড়া কেউ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে নাই। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলো তার রূপকারও পল্লীবন্ধু এরশাদ। জাতীয় পার্টি ক্ষমতা হস্তান্তরের পর দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিকদল সম্মেলিতভাবে অামাদের প্রতি অবিচার করেছিলো। এরশাদসহ পার্টির অধিকাংশ নেতাকে জেলে থেকে নির্বাচন করতে হঢেছিলো। নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। তা সত্বেও পল্লীবন্ধু এরশাদদ ৫টাসহ ৩৫ টি অাসনে জয়লাভ করেছিলো জাতীয় পার্টি। পরবর্তীতে ১/১১-এর সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের কয়েকজন শীর্ষনেতার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয় ঠিকই, কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে তাদের কোনো সভা-সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিলো না। কোনো সমাবেশে প্রতিপক্ষরা হামলাও চালায়নি। তারপরও তিনশ অাসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র ২৯টি অাসনে জয়লাভ করে তারা। তার কারণ তাদের দূর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অন্যান্য রাজনৈতিকদল প্রত্যাখান না করলেও প্রত্যাখান করেছিলো দেশবাসী।
সম্প্রতি, জাতীয় পার্টির সাথে সরকারের সংলাপ নিয়ে কেউ কেউ কটাক্ষ করছেন। তারা জাতীয় পার্টিকে বিরোধীদল হিসেবে মানতেও নারাজ। অামি সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-অাপনারা কোন বিরোধীদল হলে খুশী হবেন!! বিরোধীদলের সংজ্ঞা কী? বিরোধীদল কি তাতে বলে যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যায় না? কিন্তু বেতন-ভাতা ও সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে!! যে বিরোধীদল টেবিল ছোড়াছুড়ি, ফাইল ছুড়ে মারে? পবিত্র সংসদে বসে অপবিত্র কথা বলা? সংসদে বসে জাতীয় নেতাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা?
শুধুই জ্বালাও-পোড়াও এবং ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করলেই বিরোধীদল হওয়া যায়? জাতীয় পার্টি এগুলো করে না বিধায় অামরা বিরোধীদল নই। অামরা এমন বিরোধীদল হতে চায় না। যে যাই কিছু বলুক না কেনো।
শুধুমাত্র রাজনৈতিকদল গুলোর মুখোমুখি অবস্থান ও মতের অমিল এবং অস্থিতিশীল রাজনীতির কারণে ১/১১ সৃষ্টি হয়েছিলো। ধ্বংসাত্মক রাজনীতি কখনও দেশে শান্তি অানতে পারে না। জাতীয় পার্টি সহঅবস্থান ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাস করে। অাজকে দেশের প্রতিটি দল যদি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করতো তাহলে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি অারো বেশি স্বাবলম্বী হতো।
পরিশেষে অামি বলতে চাই, সহনশীলতা দূর্বলতা ভাববেন না। পল্লীবন্ধু এরশাদ শান্তি পছন্দ করেন। তিনি রাজনীতিতে সহঅবস্থান নিশ্চিত করতে চান। অামি মনে করি, বিরোধীদল হিসেবে জাতীয় পার্টির বর্তমান যে অবস্থান, সকল বিরোধীদলেরই একই অবস্থান হওয়া উচিত। তবেই এগিয়ে যাবে দেশ, সুদৃঢ় হবে গণতন্ত্র, মজবুত হবে দেশের অর্থনীতির চাকা।
লেখকঃ
সাহিদুর রহমান টেপা
প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় পার্টি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি