বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮



ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করছে যুক্তরাষ্ট্র


আলোকিত সময় :
04.11.2018

     ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করার সুবাদে ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল, আগামীকাল থেকে তা ফের কার্যকর করছে ট্রাম্প প্রশাসন। জাহাজ নির্মাণ, বাণিজ্য, অর্থায়ন, ব্যাংক ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে এসব নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে। ওয়াশিংটনের এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় কেবল ইরানই থাকছে না; যেসব দেশ কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে কিংবা দেশটির তেল কিনবে, তাদের ওপরও ট্রাম্প প্রশাসনের খÿ নেমে আসবে। এদিকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে যুদ্ধবিমান তৈরি করছে ইরান। তেহরানের ওপর ক্রমাগত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাড়তে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে নানামুখী পদক্ষেপের মধ্যেই দেশীয়ভাবে বিমান তৈরি শুরু করেছে ইরান। শনিবার এ বিমান তৈরি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি। এ সময় তিনি বলেন, খুব শিগগিরই বিমান বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় যুদ্ধবিমান তৈরি করে বহরে যুক্ত করা হবে। খবর বিবিসি ও এএফপির।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তিতে সম্মত হয় ইরান। চুক্তির পর তেহরানের ওপর থেকে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন। তবে চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর অভিহিত করে ওবামার উত্তরসূরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মে মাসে এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর গত শুক্রবার তেহরানের ওপর পুরনো সব নিষেধাজ্ঞা বহালের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এটি হতে যাচ্ছে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর আরোপ করা সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। অন্তত ৭০০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, নৌযান ও উড়োজাহাজ, বৃহৎ ব্যাংক, জাহাজ ও তেল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে তেহরানকে ১২টি শর্ত দিয়েছেন। এর মধ্যে আছে ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ, সিরিয়া ও ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকা। তবে ওয়াশিংটনের এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টানার শর্তে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প শুরু থেকেই এ চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লাগাম টানা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের প্রভাব কমানোর কোনো শর্ত না থাকায় পরমাণু চুক্তিতে ত্রুটির অভিযোগ তুলে মে মাসে সেখান থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে যারাই বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো সম্পর্ক রাখবে তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তবে ভারত, ইতালি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ আটটি দেশকে আপাতত এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। তুরস্কও ইরানের তেল আমানির ক্ষেত্রে এ ছাড় চায়। পম্পেও জানান, ছাড় দেওয়া দেশগুলোকে ইরানের তেল ক্রয় বন্ধে সময় বেঁধে দেওয়া হতে পারে; ওই সময়ের মধ্যে তারা ধীরে ধীরে ব্যবসা গুটিয়ে নেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে বৈধ ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে কোনো মূল্যে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ডলার বাদ দিয়ে নতুন বিনিময় পদ্ধতিতে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা

অব্যাহত রাখার কথাও জানান তারা। শুক্রবার ট্রাম্প ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়ে যে টুইট করেছেন, তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক চলছে। নিষেধাজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প তার ছবির ওপর লেখেন, নিষেধাজ্ঞা আসছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি