বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮



বিয়ে বাড়ির প্রান হাসান মীর


আলোকিত সময় :
03.11.2018

সাইফুর রহমান :
বিয়ে মানে তো শুধু বিয়ে নয়। বিয়ের কেনা-কাটা, দাওয়াত পর্ব, অতিথি আপ্যায়ন সব মিলিয়ে বেশ ব্যস্ত থাকতে হয় দুপক্ষকেই। বিয়ের আয়োজনকে পরিপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তোলার নানা অনুষঙ্গের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতই বাংলাদেশেও ব্যপক জনপ্রিয় ওয়েডিং ড্যান্স। এ পর্বটি ছাড়া এখন প্রায় অসম্পূর্ণই আধুনিক সব বিয়ের অনুস্ঠান। আমাদের আজকের আয়োজন এই ওয়েডিং ড্যান্স এর সেরা কোরিওগ্রাফার হিসেবে যার নাম বেশ জনপ্রিয়, সেই হাসান মীর কে নিয়ে।

বাংলাদেশে পশ্চিমা নৃত্যের অন্যতম সেরা কোরিওগ্রাফার হিসেবে সমসাময়িক ট্যাংগো, সালসা,জুম্বা, হিপহপ, মর্ডান, ফিউশনসহ দেশীয় সব ড্যান্স নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ১১/এ রোড, ৫৭ নং বাড়িস্থ ‘ড্রিম ড্যান্স একাডেমি’তে নিয়মিত ড্যান্স (নৃত্য) শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন হাসান মীর।

বাংলাদেশর সবচেয়ে বড় ঈগলস ড্যান্স কম্পানির কোরিওগ্রাফার তানজিল আলম, এরফানুল হক মৃদুল, জাদু, নিডো ও আদনানের হাত ধরে ২০০৯ সালের দিকে ড্যান্স দুনিয়াকে আপন করে ২০১৩ পর্যন্ত এই কম্পানিতে পারফরমেন্স করেন। এরপর কলকাতায় এক বছরের ড্যান্স কোরিওগ্রাফিং কোর্স শেষে দেশে ফিরেন হাসান মীর।

ড্যান্স কোরিওগ্রাফার হিসেব কাজ করেন দেশের জনপ্রিয় একাধিক স্যাটেলাইট টেলিভিশনে। অন্যদিকে ড্যান্স কোরিওগ্রাফির কারনে, তার হাতেই তৈরী হয়েছেন দেশের অনেক খ্যাতনামা মডেল।

কোরিওগ্রাফার হিসেবে তার নির্দেশিত বেশ কিছু মিউজিক ভিডিও পেয়েছে দর্শক প্রিয়তা। সেই তালিকা থেকে বাদ যায়নি টিভিসি(TVC) ও।

মা বাবাসহ চার ভাই এক বোনের পরিবারে হাসান’ই সবচেয়ে ছোট। ড্যান্স শিখতে তার জীবনের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা / ত্যাগের কথাও জানান পাঠকদের উদ্দেশ্যে,
“চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায়ই ড্যান্সের প্রতি মারাত্তক রকম একটা ভালবাসা চলে আসে, পড়াশুনার পাশাপাশি সবসময় টেলিভিশন দেখে ড্যান্স করতাম, ড্যান্স কে আমার লাইফের একটা অংশ ভেবেই বেছে নিয়েছি।”

“স্কুলের সময়টাতে প্রতিদিন টিফিন না খেয়ে টাকা জমাতে শুরু করলাম এবং ড্যান্স শেখা শুরু করলাম। একটা সময় আমার পরিবার জানতে পারে আমি ড্যান্স শিখি, পরে আমাকে টিফিন এর টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিলো! অনেক কষ্ট করে করে এই ড্যান্স এ এগিয়ে আসা! আমার পরিবার কখনো চায়নি আমি ড্যান্স করি। কিছুদিন পর আমার ‘মা’ কে অনেক হাতে-পায়ে ধরে একটু ম্যনেজ করতে সক্ষম হওয়ায়, আবারো ড্যান্স শেখা শুরু করা সম্ভাব হয়। তাই আমি আমার ড্যান্স একাডেমিতে কোনো ভর্তি বা মাসিক ফি নেই না। বিভিন্ন পারফরমেন্সে তাদের অংশ গ্রহনের মাধ্যমে যোগ্য করার চেস্টা করছি।”

পেশা হিসেবে ড্যান্স’কে সচ্ছলতা ও সাংস্কৃতি বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে হাসান মীর জানান,

আমরা যখন ইন্ডিয়াতে যাই তখন দেখি ওখানকার মানুষরা ড্যান্স কে এতটাই ভালবাসে যা ভাষায় বুজানো যাবে না। সেখানে বড় একটা অংশ মিডিয়া থেকে ইনকাম করে। আমিও চাই আমাদের বাংলাদেশের মানুষ এই মিডিয়াটাকে ভালভাবে এগিয়ে নিয়ে আসুক। ইন্ডিয়াতে ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য অনেক চ্যানেলে প্রোগ্রাম করে, আমি চাই আমাদের বাংলাদেশও এই রকম করে বাচ্চাদের ড্যান্স এর প্রোগ্রাম এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে শো-করুক। যাতে অন্য দেশগুলোর মতো আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরাও ড্যান্সে এগিয়ে যেতে পারে।

সবশেষে তিনি দেশের সকল ড্যান্স এর ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলেন,” যদি ড্যান্স নিয়ে এগিয়ে যেতে চাও,তাহলে ভালো ড্যান্স শিক্ষকের কাছে ড্যান্স শিখো। তোমরাও পারবে একসময় ভালো ড্যান্স শিক্ষক হতে, ইনশাআল্লাহ্”।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি