বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮



চাইলে ছোট্ট পরিসরে আবারো সংলাপ: কাদের


আলোকিত সময় :
02.11.2018

নিজস্ব প্রতিবেদক:   ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। অপজিশন কীভাবে রিয়েক্ট করে এটা তাদের ব্যাপার। আমি তো মনে করি না এখানে ব্যর্থতার কিছু আছে। শুরুটা ভালো হয়েছে। তাদের ৭ দফার ৩টি বিষয়ে আমাদের কোনো বাধা, আপত্তি থাকবে না।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। দীর্ঘদিনের লং গ্যাপ, ডিস্টেন্স এ লং ডিস্টেন্স, এটাকে রাতারাতি ওভারনাইট ম্যাজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন সম্ভব না, ক্লোজ করাও সম্ভব না। কিন্তু গতকাল কিছু বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মামলা আছে, ক্রিমিনাল অফেন্স ছাড়া শুধু রাজনৈতিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, তাহলে তাদের তালিকা পাঠাতে বলেছি। এই তালিকা অনুযায়ী সুষ্ঠ তদন্ত করা হবে।আজ শুক্তবার সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের দোগাছির সার্ভিস এরিয়া-১ এলাকায় ভিজিটরস সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, সংলাপ ৮ নভেম্বর পর্যন্ত হবে। আলোচনায় (গতকাল) কেউ কেউ ২-৩ বার বক্তব্য রেখেছেন। ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা চাইলে আবারো আলোচনা হতে পারে। দূরত্বটা বহু দিনের। টানাপোড়েনের ক্ষেত্রে ২১ আগস্ট, ১৫ আগস্ট আছেই। সেনসিটিভ কিছু ইস্যু। ১৫ আগস্টের প্রতি আমাদের আবিষ্ট আছে। ২১ আগস্ট বিএনপি আমলে নৃশংস ঘটনা ঘটে, আইভি রহমানসহ ২২টি প্রাণ ঝড়ে গেছে। তারপরও আমরা কম্প্রোমাইজ করেছি। পলিটিক্স শুড বি কম্পোমাইজ এ্যাট যাস্ট।তিনি বলেন, আমরা জানি, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার বর্বরোচিত যে হত্যাকাণ্ড, সেখানে হত্যাকারীকে যারা পুরস্কৃত করেছেন এবং যারা তাদের পঞ্চম সংশোধনী করে হত্যাকারীদের বিচার হবে না, এই রকম বিষয় অন্তভুক্ত করেছিল সংবিধানে। তারপরও আমরা পলিটিক্স করি, একটি ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকা আবশ্যক।মন্ত্রী আরো বলেন, বেগম জিয়ার সন্তান কোকোর মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা ছুটে গিয়েছিলেন কোকোর মাকে সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু সেখানে মূল ফটক, ভিতরের দরজা বন্ধ। বঙ্গবন্ধুর কন্যা অপমানজনকভাবে ফিরে আসলেন। বেগম জিয়া দেখা করলেন না। শুধু দেখা করাই নয়, দরজাই বন্ধ করে দিলেন। সেখান থেকে সম্পর্কের তিক্ততা কোথায় গিয়ে পৌঁছতে পারে এবং আমাদের আচ্ছন্নতা কোথায় গিয়ে পৌঁছতে পারে। ১৫ ও ২১ আগস্ট এসব তিক্ত, বিরক্ত বিষয় ঘটে গেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম একজন প্রধানমন্ত্রীর অপজিশনের সঙ্গে সংলাপ। এটি বাংলাদেশে নজিরবিহীন ঘটনা। ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে সাড়া দেওয়া, আমরা দলের লোকজন এই বিষয়টি ভাবতে পারিনি। আমাদের মধ্যে ভিন্নমত ছিল বিএনপির ব্যাপারে, থাকাটাও খুব স্বাভাবিক। তারপরও আমরা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আমাদের সবার আস্থা আছে নেত্রীর ওপর। তিনি যা করবেন জাতীয় স্বার্থে করবেন। তিনি নিজের ওপর কি অপমান, তার জীবনের ওপর এটেম্প, এগুলো ভুলে গিয়ে জাতীয় স্বার্থকে, গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা (ঐক্যফ্রন্ট) যদি চান ছোট পরিসরে আবারো আলোচনা হতে পারে। এ ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্তের ওপর শেখ হাসিনার ছেড়ে দিয়েছেন, তারা যদি চান তাহলে আমাদের জানাতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমার দরজা খোলা, তারা যদি আবার আসতে চান, আসতে পারেন।এ সময় মন্ত্রীর সাথে সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদুর রহমানসহ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি