বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » slide » চেকপোস্টে নারীর সাথে খারাপ আচরণ প্রশংঙ্গে
    এখন ৫ % খারাপ আচরণের অভিযোগও নেই



চেকপোস্টে নারীর সাথে খারাপ আচরণ প্রশংঙ্গে
এখন ৫ % খারাপ আচরণের অভিযোগও নেই


আলোকিত সময় :
25.10.2018

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার) পিপিএম বলেছেন, ‘গভীর রাতে চেকপোস্টে এক নারী সিএনজি যাত্রীকে পুলিশের তল্লাশির সময় খারাপ আচরণের ভিডিওটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যে এই ভিডিওটি আপলোড করেছেন তিনি পুলিশেরেই সদস্য। তিনি ভেবেছিলেন ওই ভিডিওটা প্রকাশ করলে তার হয়তো সুনাম হবে। কিন্তু তিনি যে অপেশাদার আচরণ করেছেন তা বোঝার ক্ষমতাও তার নেই।’

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর ২০১৮) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি চেকপোস্টে তল্লাশি না করে এক নারীর সঙ্গে বিরূপ ও খারাপ আচরণের ভিডিও ভাইরাল হবার পর পুলিশের আচরণগত উন্নতিতে কেনো ওরিয়েন্টশন আছে কিনা জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার ‘পুলিশ সদস্যদের আচরণ কেমন হবে, সে ব্যাপারে আমরা সচেতন। আগে যেভাবে ব্যাপক হারে খারাপ আচরণের অভিযোগ আসতো, তা এখন কমেছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি- এখন শতকরা ৫ ভাগও খারাপ আচরণের অভিযোগ আসে না।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনারের নের্তৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে, যারা ওই নারীর সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুধু এই ক্ষেত্রে নয়, আগামীতেও কোনো পুলিশ সদস্য কোনো নাগরিকের সঙ্গে পেশাদার আচরণের বাইরে কিংবা খারাপ আচরণ করে, পুলিশের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে তবে তার বিরুদ্ধে আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করে (পুলিশের খারাপ আচরণ) কমিয়ে এনেছি। আমরা শুধু মটিভেশন কিংবা প্রশিক্ষণই দেই না, এই ধরণের অপেশাদার আচরণ যেসব পুলিশ সদস্য করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’

নগরীর নিরাপত্তায় অনেক স্থানে চেকপোস্ট রয়েছে। সেখানে খারাপ আচরণ ও হয়রানির করার বিষয়ে অভিযোগ আসে। তাদের ব্যবহার পরিবর্তনে কোনো উদ্যোগ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগ পেতাম। আমাদের মটিভেশন আছে বলেই তা কমে আসছে। অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, জনগণের সেবক। জনগণের ওপর চড়াও হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের আইন প্রয়োগে হবো কঠোর, কিন্তু আচরণে হবো কোমল। আমাদের আচরণ কেমন হবে ধারাবাহিকভাবে তার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আগামীতেও দেয়া হবে। পুলিশ যাতে পেশাদার আচরণ করে সেজন্য নজরদারি রয়েছে। এরপরেও যদি কেউ খারাপ আচরণ করে তবে তার দায়-দায়িত্ব তার। এর দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না।’

সপ্তাহ ব্যাপী ট্রাফিক শৃংখলা কর্মসূচি সম্পর্কে কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি পূর্বেও যেকোন সময়ের তুলনায় নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ট্রাডিশনাল অপরাধ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অজ্ঞান ও মলম পার্টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমরা যেমন শক্ত অবস্থানে আছি। তেমনি মাদকদ্রব্য অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু বলতে দ্বিধা নেই একটি জায়গায় আমরা শত চেষ্টা করেও দৃশ্যমান উন্নতি আনতে পারছি না। সেটা হলো যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কের শৃংখলা।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রথমে ০৫-১৪ আগষ্ট ঈদুল আযহার আগে ১০ দিনের ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করেছি। এই ট্রাফিক সপ্তাহে যে অগ্রগতি হয়েছিল তা ধরে রাখতে আমরা ঈদুল আযহার পরে ০৫-৩০ সেপ্টেম্বর মাস ব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচি পালন করেছি। এই ট্রাফিক কর্মসূচি পালনে ট্রাফিক ব্যবস্থার কিছু উন্নয়ন হয়েছে তবে জনগণের যে প্রত্যাশা আমরা তা পূর্ণ মাত্রায় অর্জন করতে পারিনি। এটিকে টেকসই ও দৃশ্যমান করার জন্য যতটা উন্নতি করা উচিত ছিল তা বহুবিদ সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার জন্য সম্ভব হয়নি। সবকিছু বিবেচনায় এনে সড়কের শৃংখলা নিশ্চিত করে দৃশ্যমান উন্নয়নের জন্য আমরা আবার তৃতীয় বারের মত ৭ দিনের (২৪/১০/২০১৮ হতে ৩১/১০/২০১৮ খ্রিঃ পর্যন্ত ) বিশেষ ট্রাফিক শৃংখলা সপ্তাহ পালন করছি।

বিগত ট্রাফিক কর্মসূচির সাফল্য টেনে কমিশনার বলেন, ইতোমধ্যে পালনকৃত ট্রাফিক কর্মসূচিতে উল্টোপথে চলাচল, হাইড্রলিক হর্ণ, মোটরসাইকেল, হুটার/বিকন লাইটের ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রথম ১০ দিন ব্যাপী ট্রাফিক সপ্তাহে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মাস ব্যাপী ট্রাফিক সপ্তাহে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে ১৪ কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আমরা আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ট্রাফিক সপ্তাহ ও ট্রাফিক মাস চলাকালীন শাহবাগ, মহাখালী, কেআইবি তে সুধী মহলের উপস্থিতিতে ট্রাফিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছি। ইতোমধ্যে একটি ট্রাফিক গাইড বই তৈরি করে প্রায় ১ লাখ নগরবাসীকে দেয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আমরা মাস ব্যাপীচেষ্টা করেছি যাতে করে গাড়ি জেব্রা ক্রসিয়ের সামনে এসে দাঁড়ায়, নির্ধারিত বাস স্টপেজে দাড়িয়ে যাত্রী উঠা-নামানো, এক স্টপেজ থেকে অন্য স্টপেজ পর্যন্ত গাড়ির দরজা বন্ধা রাখা, ফুটপাথ-ফুটওভার ব্রীজ- আন্ডারপাচ- জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে পথচারীর রাস্তা পারাপার, মোবাইলে কথা বলা অবস্থায় গাড়ি না চালানো, রাস্তার বাম পাশ ঘেঁষে গাড়ি দাঁড়িয়ে ছাত্রী উঠা-নামানো করে। এছাড়াও ট্রাফিকের বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। তার মধ্যে সচেতনতামূলক উক্তি দিয়ে মাইকিং, অনস্ট্রীট ব্রিফিং, পোস্টার, লিফলেট, স্টীকার বিতরণ করে পথচারী, চালক, যাত্রীদের সচেতন করা হয়।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, উল্লেখিত ট্রাফিক সপ্তাহে ট্রাফিক পুলিশকে ৪০০ রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা সহায়তা করেছে। ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত ডিউটির পাশাপাশি ৫৪ টি চেকপোস্ট করা হয়। ৩০ টি ফুটওভার ব্রীজে অতিরিক্ত পুলিশ ও রোভার স্কাউট মোতায়েন করা হয়। নগরীর ১৩০ টি পয়েন্টে বাস স্টপেজ লেখা সাইন বোর্ড স্থাপন করেছি। অনেক স্থানে রোড মার্কিং ও জেব্রা ক্রসিং দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনে পত্রালাপ করা হয়েছে অবশিষ্ট স্থানগুলোতে করার জন্য। ঈঅঝঊ প্রকল্পের ৮৮ টি সিগন্যালের মধ্যে ১২ টি ভাল এবং ৭৬ টি খারাপ। ভালো ১২টি সিগন্যাল অটোমেটিক সিগন্যাল হিসেবে ব্যবহার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এতো কিছু করার পরও আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি আমরা কাঙ্খিত উন্নতি পাচ্ছি না। আর এই কাঙ্খিত উন্নতি না পাওয়ার কারণ আমাদের দেশের মানুষের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবনতা।

যখনই রাস্তা থেকে পুলিশ, রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি’র সদস্যরা রাস্তা থেকে সওে এসে তাদের স্বাভাবিক কাজ করে, তখনই সকলে পুনরায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করতে থাকে। এই প্রেক্ষপট বিবেচনা করে আমরা এবার উদ্যোগ নিয়েছি ট্রাফিক শৃংখলা সপ্তাহ আবার পালন করব যা গতকাল (২৪ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে।

চলমান বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহের উদ্দেশ্য নিয়ে কমিশনার বলেন, এবারের ট্রাফিক সপ্তাহের আমাদের মূল যে কাজ তার মধ্যে পথচারীরা রাস্তা পারাপারে অবশ্যই ফুটপাথ-ফুটওভার ব্রীজ- আন্ডারপাচ- জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করবেন। সচেতনতার পাশাপাশি আমরা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করব। প্রত্যেক গাড়িকে সিগন্যাল পড়লে জেব্রা ক্রসিংয়ের সামনে এসে থামতে হবে যাতে করে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পথচারী নির্বিঘ্নে রাস্তা পারাপার হতে পারে। যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সে দিকে আমরা বিশেষ নজর রাখব। মোটর সাইকেল চালক ও আরোহী উভয়কে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। হেলমেট ব্যতীত প্রেট্রোল পাম্প থেকে তৈল সরবরাহ করা হবে না।

সম্মানিত নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কমিশনার বলেন, ফুটপাথ ব্যবহার করণ, ফুটওভার ব্রীজ, জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস দিয়ে রাস্তা পারাপার হউন। মোবাইল ফোনে কথা বলা অবস্থায় রাস্তা পারাপার হবেন না। ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করুন। চালকের ভাইদের প্রতি অনুরোধ গাড়ি চালানোর সময় সিটবেল্ট ব্যবহার করুন, মোবাইল ফোনে কথা বলবেন না, বাস স্টপেজে যাত্রী উঠা-নামা করান, এক স্টপেজ থেকে অন্য স্টপেজ পর্যন্ত বাসের দরজা বন্ধ রাখুন। সর্ব অবস্থায় ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে গাড়ি চালান। এছাড়াও গাড়ির মালিকদের প্রতি অনুরোধ গাড়ির কাগজপত্র আপডেট রাখুন, চালকের নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দিন, দক্ষ ড্রাইভার নিয়োগ দিন ও চুক্তিতে গাড়ি না চালিয়ে বেতনভূক্ত ড্রাইভারের মাধ্যমে গাড়ি চালান।

কমিশনার আরো বলেন, এবারের ট্রাফিক শৃংখলা সপ্তাহে স্কাউট, বিএনসিসিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২১৬ জন সদস্য ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করবে। ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জনগণের মনোযোগ আকর্ষণে নূতন ধরণের ঞঠঈ তৈরী করে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া প্রচার করা হচ্ছে।

আসুন আমরা যার যার অবস্থান থেকে নিজের পরিবার, অধীনস্থ, সহকর্মী ও বন্ধুদের ট্রাফিক আইন মানতে উদ্বুদ্ধ করি। আমরা বিশ্বাস করি জনগণ সচেতনতার সাথে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইন মানলে সড়কের শৃংখলা ফিরে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন, মীর রেজাউল আলম, ডিসি মাসুদুর রহমান প্রমুখ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি