মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » slide » ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার
    রায় প্রকাশের খবরের ধরন দেখে বিস্মিত বিএনপি



২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার
রায় প্রকাশের খবরের ধরন দেখে বিস্মিত বিএনপি


আলোকিত সময় :
12.10.2018

শাহ নিয়াজ, আলোকিত সময়, ঢাকা:

২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের পর গতকাল প্রকাশিত দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় উক্ত হামলাকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা’ বলে আদালতের পর্যবেক্ষণের যে খবর প্রচারিত হয়েছে-তাতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন দেখে দেশের জনগণের মতো আমরাও বিস্মিত হয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফররুল ইসলাম আলমগীর।

১২ অক্টোবর (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে এক সংখিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে-“১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালাতে থাকে। পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিকে রোধ করে। জাতির পিতাকে হত্যার পর জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে বহমান থাকে।”
“২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশুণ্য করার হীন চেষ্টা চালানো হয়” বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্য হুবহু এক। কিন্তু লক্ষনীয় হলো-১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের নৃশংস হত্যাকান্ড, জেলখানায় ৪ জাতীয় নেতার বর্বরোচিত হত্যাকান্ড এবং ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘৃন্য অপরাধকে একসূত্রে গাঁথার যুক্তি সঠিক হলে বিএনপি কিম্বা বিএনপি পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপরাধী বলা হোল কোন যুক্তিতে ? ১৯৭৪ সালে বিএনপি’র জন্মও হয়নি এবং ১৫ আগষ্ট কিম্বা ৩ নভেম্বরের হত্যাকান্ডের বিচারে কোন আদালতই বিএনপি কিম্বা বিএনপি’র কোন নেতাকে অভিযুক্ত- এমনকি সম্পৃক্তও করেনি।
তা’হলে ২১ আগষ্টের ঘটনার বিচারের পর্যবেক্ষণে আগের ২টি ঘটনার উল্লেখ কতটা প্রাসঙ্গিক ? দল বিশেষের রাজনৈতিক বক্তব্যের সাথে আদালতের পর্যবেক্ষণ মিলে যাওয়া কোন স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলেই জনগণ মনে করে।
অন্যদিকে হুজি নেতা মুফতি হান্নানের জবানবন্দি প্রশঙ্গে মির্জা ফকরুল বলেন, সে দৈহিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে যে জবানবন্দী দিয়েছিলেন তা’ তিনি প্রকাশ্য আদালতে লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নেয়ার পরেও তারই জবানবন্দীকে ভিত্তি করে জনাব তারেক রহমান এবং অন্যান্য বিএনপি নেতাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়াটা কতটা মানবিক ও যুক্তিযুক্ত কিম্বা আইনসঙ্গত: হয়েছে তা’ উচ্চ আদালত বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বিরোধী দলের প্রতি সরকার ও সরকারী দলের প্রত্যাশিত আচরণ সম্পর্কে যেসব বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে-তা বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারী দলের আচরণের ঠিক বিপরীত। আমরা আশা করবো সরকার আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ মান্য করবে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এস এম এ কিবরিয়া ও আহসান উল্লাহ মাস্টারের হত্যাকান্ডের উল্লেখ থাকলেও মাননীয় বিচারকের বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সরকারী দলের আচরণ কেমন হওয়া উচিৎ – সে সম্পর্কে দেয়া পর্যবেক্ষণে বর্তমান সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ও সাইফুল ইসলাম হিরু, কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, ছাত্রনেতা জাকিরসহ গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কোন কথা নেই কেন জনগণ তা জানতে চাইতেই পারে। রায়ের পর্যবেক্ষণে কাঙ্খিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে গত ১০ বছরে হাজারো গুম, খুন, গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে পঙ্গু করা, হাজার হাজার গায়েবী মামলা দিয়ে লাখ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীদের বছরের পর বছর ঘরছাড়া করে রাখা, গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন করার বিষয়ে কোন কথা না থাকা রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পারে।

বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় সংঘটিত হত্যাকান্ডের দায়িত্ব যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের হয় তাহলে বর্তমান সরকারের শাসনামলে পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকান্ড, হলি আর্টিজানে হত্যাকান্ড এবং জঙ্গি হামলায় নিহত বিদেশী কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, এনজিও কর্মকর্তা, বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ইমাম-মোয়াজ্জিন, যাজক, পুরোহিত, ব্লগারসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের হত্যাকান্ডের দায় ক্ষমতাসীনদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব বিষয়ে কোন উল্লেখ নেই।

মহাসচিব বলেন আমরা লক্ষ্য করেছি যে, মিডিয়ার একাংশ এই রায় প্রকাশের পাশাপাশি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সম্পর্কে মনগড়া কিছু তত্ত্ব ও তথ্য প্রকাশ করে তাঁর সম্পর্কে জনমনে বিরুপ ধারণা দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দলীয় তদন্তকারীর চক্রান্তে সাজানো মামলায় জনাব তারেক রহমানকে সাজা দেয়া হয়েছে। এটা জানার পরেও কেউ কেউ দল থেকে তাঁর পদত্যাগের যে পরামর্শ দিয়েছেন – তাদের কাছে জনগণ প্রশ্ন করতে পারে যে, এত শত গুম, খুন করার জন্য দায়ী সরকারের পদত্যাগ কি তারা দাবী করেছেন ? নিম্ন আদালতের দেয়া রায়কে যখন আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন ও বিএনপি-কে দুর্বল করার অসৎ উদ্দেশ্য বলছি তখন সেই রায়ের ভিত্তিতে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না।

বিএনপি আশা প্রকাশ করে, ইচ্ছাকৃতভাবে কিম্বা ক্ষমতাবান কারো তুষ্টির জন্য কারো বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো থেকে দায়িত্বশীল মিডিয়া বিরত থাকবে।

বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন,  জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  চেয়ারপারসন এর উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান ও আব্দুস ছালাম।, যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজবী আহমদ ও খায়রুল কবির খোকন। সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।  জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবেদ রাজা ও অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি