বৃহস্পতিবার ২৯ নভেম্বর ২০১৮



শায়েস্তাগঞ্জ হতে হবিগঞ্জগামী হাজারো যাত্রী সিএনজি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি


আলোকিত সময় :
30.09.2018

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেনে শায়েস্তাগঞ্জে আসা যাত্রীসহ হবিগঞ্জগামী হাজারো যাত্রী সিএনজি সিন্ডিকেটের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে। সিএজি চালকরা যাত্রীদের থেকে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ভাড়া আদায় করছে। জানাযায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা থেকে জেলা সদর হবিগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১৩ কি.মি.। হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিনাঞ্চলের বাসিন্দাদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে হবিগঞ্জ যাতায়াত করতে হয় প্রতিদিন। যাত্রীদের সাথে আলাপ কালে জানাযায়, যে সব যাত্রী শায়েস্তাগঞ্জ পুরানবাজার, নতুন ব্রীজ হয়ে হবিগঞ্জ যাতায়াত করেন তারা নিজেদের পছন্দমত বিরতিহীন বাস, মেক্সী, লোকাল বাস, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনে ভ্রমন করতে পারেন। চুনারুঘাট, মাধবপুর অঞ্চলের যাত্রীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন সবসময়। শায়েস্তাগঞ্জের আশপাশ থেকে আসা দেউন্দি সড়কের কয়েকটি চা বাগানের যাত্রী, শাহাজিবাজার, অলিপুর শিল্প এলাকা, সুতাং এর সকল যাত্রীকে শায়েস্তাগঞ্জ রেলক্রসিং হয়ে হবিগঞ্জে যাতায়াত করতে হয়। রেলওয়ে সূত্র জানায়, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জগামী উল্লেখযোগ্য পরিমানের যাত্রীর শায়েস্তাগঞ্জে আগমন ঘটে বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনে। এই ট্রেনে আসা যাত্রীদের হবিগঞ্জ যাওয়ার একমাত্র বাহন হলো সিএনজি অটোরিক্সা। বিশেষ করে নৈশ কালীন ট্রেনের যাত্রীরা সর্বাধিক বিপাকে পড়েন। চতুর সিএনজি চালকরা সুযোগ বুঝে এসব যাত্রীদের থেকে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ভাড়া আদায় করে থাকে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জগামী যাত্রীদের সিএনজি অটোরিক্সা ব্যতিত আর কোন যানবাহন না থাকায় সিএনজি চালকরা মনগড়া ভাড়া আদায় করে এবং যাত্রীরাও উক্ত ভাড়া পরিশোধ করেণ বাধ্য হয়েই। রাত ১০টার পর থেকে এই রুটের যাত্রীদের দ্বিগুন ভাড়া দিতে রীতিমতো বাধ্য করা হয়। হবিগঞ্জ-সিলেট যাত্রীবাহী বিরতিহীন বাস সাভির্সটি শায়েস্তাগঞ্জ জংশন হয়ে সিলেট যাতায়াতের মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জের যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে এই সার্ভিসটি গ্রহন করেছিল। সিএনজি সিন্ডিকেটের জিঘাংসা সুলভ আচরণের কারণে বিরতিহীন বাস সার্ভিসটি এ রুট দিয়ে চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এখন এই বিরতিহীন বাস সার্ভিসটি শায়েস্তাগঞ্জ জংশন হয়ে এখন আর যাতায়াত না করায়, সিলেট মৌলবীবাজারগামী শায়েস্তাগঞ্জের যাত্রীরা নতুনব্রীজ বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে বাসে উঠতে হয়। এদিকে সিএনজি সিন্ডিকেটের একচেটিয়া ব্যবসার ফাঁদ আরও পাকাপোক্ত হয়। এছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই যাত্রী ও সিএনজি চালকদের মধ্যে বাকবিতন্ডা লেগেই থাকে। অপরদিকে যাত্রীদের সহিত সিএনজি চালকদের অশালীন আচরণের কথা বলে শেষ করা যাবেনা। ভুক্তভোগী জনৈক যাত্রী এ প্রতিনিধিকে জানান, কিছুদিন পূর্বে তিনি ভোর বেলা সিএনজি যোগে জরুরী রোগী নিয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফেরার জন্য তিনি আবার ওই সিএনজি চালককে মোবাইল ফোনে আসতে বলেন। ওনার ডাকে ওই সিএনজি চালক হাসপাতালে গিয়ে ওনার সম্মুখে চালকের পরিচিত অন্য যাত্রী নিয়ে চলে যায়। উপায়ন্ত নাপেয়ে তিনি রোগী নিয়ে অন্য আরেকটি সিএনজি দিয়ে বাড়ী ফিরেন। এধরণের ঘটনার সংখ্যা কম নয় এবং হরহমেশা ঘটছে। এমতাবস্থায়, অনতিবিলম্বে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস সার্ভিসটি পূর্বের ন্যায় পূণরায় চালু করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। শায়েস্তাগঞ্জের জনগনকে অনাকাঙ্খিত সিএনজি সিন্ডিকেটের কবল থেকে নিষ্কৃতি প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু সহযোগিতা কামনা করছেন ভূক্তভোগীরা। হবিগঞ্জ জেলা গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস সার্ভিস (মালিক) কর্তৃপক্ষের নিকট এটি শায়েস্তাগঞ্জের আপামর জনসাধারণের জোরালো দাবী।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি