মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » নিরাপদ ডিজিটাল বিশ্ব গড়তে জাতিসংঘের ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী



নিরাপদ ডিজিটাল বিশ্ব গড়তে জাতিসংঘের ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী


আলোকিত সময় :
27.09.2018

অনলাইন ডেস্ক : নিরাপদ ডিজিটাল বিশ্ব গড়তে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকতে হবে। অপব্যবহার হলে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ডিজিটাল বিশ্বকে অধিকতর নিরাপদ রাখতে হলে তথ্য নিরাপত্তা বিধানে নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান থাকা দরকার। সেক্ষেত্রে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন আয়োজিত ‘সাইবার নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

অবশ্যই আগামী প্রজম্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও সুলভ সাইবার বিশ্ব গঠনের জোরালো রাজনৈতিক সংকল্প ব্যক্ত করা উচিত— এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সত্যিকার উৎস শনাক্তকরণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের উদ্বেগ প্রকাশের সুযোগ করে দিতে হবে। জাতিসংঘ মহাসচিব তার নিরস্ত্রীকরণ কর্মসূচিতে এর স্বীকৃতিও দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নিরাপদ ডিজিটাল বিশ্ব গঠনে জাতিসংঘের অপরিসীম ভূমিকা থাকতে হবে। সাইবার নিরাপত্তায় ব্যবহৃত কৌশলসমূহকে আরো অংশগ্রহণমূলক করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। ক্ষতিকর সাইবার কর্মকাণ্ড রোধ ও মোকাবেলায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অনাক্রমণাত্মক উপায় ব্যবহারকে উৎসাহিত করা উচিত। সাইবার বিশ্বে অধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নটি যথাযথভাবে মোকাবেলা করা দরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো নিয়মিতভাবে সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গুটি কয়েক দেশ তথ্যপ্রযুক্তিকে সামরিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহারে কাজ করছে। সন্ত্রাসী ও সহিংস উগ্রবাদীরা তাদের বিষাক্ত বক্তব্য প্রচারে ব্যবহার করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের তাদের ভূখণ্ডকে অন্য রাষ্ট্রসমূহের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হওয়া প্রতিরোধ করতে হবে। বাংলাদেশ এসব প্রতিশ্রুতি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। অন্যরাও তা করবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সাইবার নিরাপত্তা ইকো-সিস্টেম তৈরিতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছে। বাংলাদেশে একটি সাইবার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম রয়েছে, যেটি অপরাপর রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে থাকে। প্রশিক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

আইসিটি ফর পিস-এর সিনিয়র অ্যাডভাইজর এনিকেন টিকের সঞ্চালনায় আরো বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক প্রতিনিধি ইজুমি নাকামিৎসু, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান, ইউএনওআইসিটি’র গ্লোবাল সার্ভিস ডিভিশনের ডিরেক্টর সালেম আভান, মাইক্রোসফটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড পলিসি বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর এঞ্জেলা ম্যাককেইও, এন্তোনিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল টিসালু এবং জাপানের সাইবার পলিসি বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওতাকাও। সমাপনী বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি