মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » অনুমতি না পেলেও শনিবার সমাবেশ করবে বিএনপি : মির্জা ফখরুল



অনুমতি না পেলেও শনিবার সমাবেশ করবে বিএনপি : মির্জা ফখরুল


আলোকিত সময় :
26.09.2018

অনলাইন ডেস্ক : অনুমতি না পেলেও রাজধানীতে আগামী শনিবার বিএনপি সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বরের জনসভায় আমরা দলের নীতি নির্ধারণী বক্তব্য দেবো। ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও কর্মসূচি তুলে ধরবো। আন্দোলন-নির্বাচনের সার্বিক দিক নির্দেশনা দেয়া হবে। আমরা ২৭ সেপ্টেম্বর জনসভার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়,২৯ তারিখ (শনিবার) ছুটির দিন সমাবেশ করলে ভালো হয়। সেদিন যানজটের সমস্যা থাকবে না। লোকজন স্বস্তিবোধ করবে। পুলিশের কথামতো সেভাবে জনসভার অনুমতির জন্য কতৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। কিন্ত এখন ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে। এখনো অনুমতি দেয়ানি প্রশাসন। ওইদিন নাকি আওয়ামী লীগের কর্মসূচি আছে। আওয়ামী লীগের মতবিনিময় মহানগর নাট্যমঞ্চের অডিটোরিয়ামে আর আমাদের জনসভা হচ্ছে সোহরাওয়ার্দীতে। এখানে বিরোধের সম্পর্কটা কোথায়? এটার কারণে আমাদের জনসভা করতে কী সমস্যা, আমার বুঝে আসে না।
বুধবার জনসভার প্রস্ততি নিয়ে দলের ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার, সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের ২৯ তারিখের জনসভাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে সরকারি দল বিভিন্ন কথা বলছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নাসিম সাহেব বলছেন, যেখানে পাও বিএনপিকে আটকে দাও। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলছেন, রাস্তায় নামলে হাত-পা ভেঙে দাও।
মির্জা ফখরুল বলেন, সমাবেশে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও যুক্তফ্রন্টসহ বিভিন্ন দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে কিনা-তা সময় হলেই সব জানতে পারবেন।
২১ আগস্ট মামলায় তারেককে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ বলে মির্জা ফখরুল বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলছে। মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ মামলায় তারেক রহমান ও বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে জড়ানো হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, এ হামলায় কোনোভাবেই বিএনপি জড়িত ছিল না। এ মামলায় মুফতি হান্নানকে ২৪০ দিন রিমান্ডে এনে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করিয়েছে। পরে তিনি আদালতে বলেছেন- তাকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করানো হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় শেখ হাসিনার যে গাড়িটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তিনি এফবিআইকে গাড়িটি দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করেননি। এমনকি ভারতের এক পত্রিকায় তিনি বলেছিলেন- এ হামলার সঙ্গে সেনাবাহিনী জড়িত। এ মামলায় ষড়যন্ত্র করে কোনো রায় দিলে দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, যৌথসভায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায় নিয়ে চক্রান্ত এবং সারা দেশে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের নামে যে চার হাজার ‘গায়েবি মামলায়’ তিন লাখ লোককে আসামি করা হয়েছে, তার নিন্দা জানানো হয়। সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তাঁকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল হাই, রুহুল কবীর রিজভী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, হাফেজ আব্দুল মালেক, অভিনেতা হেলাল খান, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি