মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে তারা সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছেন : প্রধানমন্ত্রী



দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে তারা সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছেন : প্রধানমন্ত্রী


আলোকিত সময় :
24.09.2018

নিউইয়র্কে সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ফোকাস বাংলা

অনলাইন ডেস্ক :  আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারকে উৎখাতের জন্য কামাল হোসেন ও এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপিসহ দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছে। তারা এক হয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। তবে জনগণ তাদের সমর্থন করে না। যারা মানুষ হত্যাকারীদের সঙ্গে জোট করতে পারে, তাদের মুখে দেশের স্বার্থের কথা মানায় না। দেশের উন্নয়ন চাইলে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।

স্থানীয় সময় রোববার রাতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের হিলটন হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রবাসীদের দেওয়া এক সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন তাদের চাওয়া পাওয়ার কিছুই থাকতে পারে না। আপনি কি পেয়েছেন সেটার চেয়ে আপনি দলকে কি দিয়েছেন সেটাই বড় কথা। তিনি তো কখনোই কারও কাছে কিছু চাননি। যা পেয়েছেন, এসব দল তাকে দিয়েছে। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  চিহ্নিত দুর্নীতিবাজরা এখন জনগণের কাছে বড় বড় কথা বলে। আসলে কি তারা কখনো উন্নয়ন করতে পারবে? তারা তো উন্নয়নের নামে লুটেপুটে খাবে। এদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে প্রবাসীদের সজাগ থাকার জন্য প্রবাসীদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের দলের সমর্থনে ‘যুক্তফ্রন্ট’ ও ‘জাতীয় ঐক্য’ প্রক্রিয়া গঠন করছে। এরা সব এক হয়েছে। এদের কেউ সুদখোর, কেউ ঘুষখোর, কেউ মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত, কেউ খুনি। এভাবে তারা আবার এক জায়গায়। এসব দুর্নীতিবাজকে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তারা লড়াই করবেন কিভাবে? কামাল হোসেন লড়াই করবেন? বি চৌধুরী লড়াই করবেন? মান্না লড়াই করবেন?

তিনি আরও বলেন, বিএনপিসহ খুনি, দুর্নীতিবাজ, সুদখোর, বাড়ি দখলকারী-সুবিধাভোগীরা যুক্তফ্রন্ট করেছে। তারা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রবাসীদেরকেও সজাগ থাকার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার চাচা কামাল হোসেন, তারেকের বদু কাকা (বি. চৌধুরী), এরশাদ-জিয়ার সুনজরে থেকে ডাকসুর নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, সুদখোর ড. ইউনূস, কাকরাইলে বাড়ি দখলকারী ব্যারিস্টার মঈনুল, মৃত ব্যক্তির জাল সাটির্ফিকেট তৈরি করে গুলশানে বাড়ি দখলকারী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদরা যুক্তফ্রন্ট করেছেন। ড. ইউনূস হিলারির সহযোগিতায় বর্তমান সরকারকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোন দুর্নীতি হয়নি। বলেছিলাম আপনারা প্রমাণ দেখান। তারা ব্যর্থ হয়েছে। কানাডার আদালত বিশ্ব ব্যাংকের সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাই জেলে রয়েছে, তারেক রহমান ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী। এসব মামলা আমার সরকার করেনি। তার পছন্দের লোকজনই করেছিল। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এসেছি। জনগণ ভোট দিলে ক্ষমতায় থাকবো, না দিলে থাকবো না। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, বিএনপি এত দুর্নীতি করেছে যে তারা এফবিআই’র অফিসার ক্রয় করেছিল সজিব ওয়াজেদ জয়কে হত্যা এবং অপহরণ করতে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। আমার বোন রেহানা আমাকে বলেছে ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকেও খাওয়াতে পারবে না কেন? তাই আমরা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

সমাবেশে বি চৌধুরী- কামাল- মইনুল হোসেনদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভ্পাতি শেখ হাসিনা বলেন, তাদের সঙ্গে গেছেন মইনুল হোসেন। উনি কাকরাইলের বাড়ি-জমি দখল করেছেন, ওই জায়গা নিয়ে মামলা রয়েছে। সাজু হোসেন ভার্সেস রাষ্ট্র। সে মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত। আর ‘ভুয়া’ আম মোক্তারনামা তৈরি করে এক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের ভাইয়ের নামে দখল নেওয়া হয়েছে। এসব লোক এক জায়গায় হয়েছে। অনাথের টাকা আত্মসাথের জন্য খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তার ছেলে তারেক জিয়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে বলেন, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরও তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ ছাড়েন না। কারণ, এমডির পদ ছাড়লে তো গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা মারা যাবে না। এখন তিনি উচ্চ সুদের হারে দরিদ্রদের ঋণ প্রদান করে ধনী।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আগামি জাতীয় নির্বাচনের আগে তার আর যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ হবে না। এজন্য তিনি সবার কাছে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। দেশে থাকা আত্মীয় স্বজনদের নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

শিগগিরই ঢাকা-নিউ ইয়র্ক সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালুর আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদেশের আইন অনুযায়ী শ্লট পেলেই ঢাকা-নিউ ইয়র্ক বিমান পুনঃরায় চলাচল করবে। তখন আপনারা অনায়েসে ও নিশ্চিন্তে দেশে যাতায়াত করতে পারবেন। বর্তমান সরকার মানুষের কল্যাণেই কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণে কাজ করে। ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়নের জন্য কী কাজ করিনি? তাহলে এটাই কী তাদের অপরাধ? কেন সরকার উৎখাত করতে হবে? মনে রাখবেন-আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। আর জনগণ শান্তিতে থাকলে বিএনপি তখন অশান্তিতে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের শৃঙ্খলার স্বার্থে এবং জনগণের নিরাপত্তা দিতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। সাংবাদিকরা কেবল তাদের নিজস্ব স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করে। কিন্তু তারা ডিজিটাল ডিভাইসগুলো দ্বারা সৃষ্ট সামাজিক সমস্যাগুলো বিবেচনা করেন না। এই আইন কারও বিরুদ্ধে নয়, ডিভাইসের খারাপ প্রভাব প্রতিরোধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি এমপি, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ফজলুর রহমান, আক্তার হোসেন, সৈয়দ বসারত আলী, লুত্ফুল করিম, শামসুদ্দীন আজাদ, আবুল কাশেম ও মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আইরীন পারভীন ও মোহাম্মদ আলী মানিক।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে সপ্তাহব্যাপী সরকারি সফরে নিউইয়র্কে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউ জার্সির নিউইয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরে নামলে তাকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন।

জাতিসংঘে এবারের সফরে ৫০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্যবসায়ীদের ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও তার সফরসঙ্গী হয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি