বৃহস্পতিবার ২৯ নভেম্বর ২০১৮



দিনভর ‘জাপান ফেস্ট’


আলোকিত সময় :
16.09.2018

সবুজের বুকে লাল সূর্যের দেশ বাংলাদেশ আর সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। স্বাধীনতার শুরু থেকেই দুই দেশের বন্ধুত্ব। আর দুই দেশের শিল্পীরা এক হয়ে গাইলেন ‘এই বন্ধন হবে না তো শেষ তুমি লাল সবুজের দেশ, আমি সূর্যোদয়ের দেশ’। ঢাকা কেন্দ্রিক জাপানি ব্যান্ড ‘বাজনা বিট’ এর সাথে বাংলাদেশি শিল্পী সন্ধির অপূর্ব পরিবেশনা সমগ্র মিলনায়তনে ছড়িয়ে পড়েছিল শিল্পের সুষমা। জাপানি শিল্পীদের কণ্ঠে বাংলা কথা আর গান মন ভরিয়ে দিল শ্রোতা-দর্শকদের।
জাপান ও বাংলাদেশের শিল্পীরা শুধু দুই দেশের সংস্কৃতি নয়, যেন দুই দেশের বন্ধুত্বের গভীরতাই তুলে ধরলেন গানে, কথায় ও নানা আয়োজনে। এক মঞ্চ থেকেই দুই দেশের শিল্পীরা পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটালেন। আর মিলনায়তন ভর্তি দর্শক-শ্রোতাও জাপানের অনন্য ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ হলো।
ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাস ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে গতকাল বিকালে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী ‘জাপান ফেস্ট ২০১৮’।
এ জাপান ফেস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমির সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে জাপান অন্যতম অংশীদার। মুক্তিযুদ্ধের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্কের যে নতুন মাত্রা পেয়েছিল বাংলাদেশ জাপানের সেই মৈত্রী, বন্ধুত্বের দৃঢ়তা সেভাবেই সামনে এগিয়ে    যাবে। লিয়াকত আলী লাকী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জাপানের মানুষের দার্শনিক গভীরতা তাদের জীবনভাবনাকে উন্নত করেছে। তাদের এই সাংস্কৃতিক ভিত্তি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে।
জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমি বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জাপান ও বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক দিন দিন আরো গভীর হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে গানে গানে জাপানের ঋতু বৈচিত্র্য, ফুল, ফল, নদী ও বাংলাদেশের প্রকৃতির অপরূপ রূপের বর্ণনা করেন জাপানি শিল্পীরা। ‘আমি তোমার সাথে সারাজীবন পথ চলতে চাই, আমি বিভোর হয়ে তোমার প্রেমে পড়ে যাই’ জাপানি শিল্পীর এমন বাংলা গানে বাংলাদেশের শ্রোতারা আপ্লুত। মঞ্চের পর্দায় ফুটে উঠেছিল জাপান ও বাংলাদেশের মানুষের বন্ধুত্বের গভীরতার নানা চিত্র। এসময় জাপান ও বাংলাদেশ দুদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো দর্শকদেরকে মুগ্ধ করেছিল। জাপানি ট্র্যাডিশনাল ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। বন্ধুত্বের এই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মিলনায়তনের লবিতে ছিল জাপানি বনসাই ও বাংলাদেশ ও জাপানের সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বের আলোকচিত্রের প্রদর্শনী।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি