বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮



ভূরুঙ্গামারীতে ইটের গুড়ার সাথে কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরী হচ্ছে দানাদার কীটনাশক


আলোকিত সময় :
10.09.2018

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ঃ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইটের গুড়া ও কেমিক্যাল দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে দানাদার কীটনাশক। দেশের নামিদামী কোম্পানীর প্যাকেটে নিম্ন মানের ধান বীজ ও সার ঢুকিয়ে বাজারজাত করে প্রতারিত করা হচ্ছে কৃষকদের।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমান আদালত এক দোকানে অভিযান চালিয়ে নকল কীটনাশক, ধান বীজ, সার তৈরীর সরঞ্জাম, ইটের গুড়া, খালি প্যাকেট ও কেমিক্যাল উদ্ধার করেছে। সুমন বীজ ভান্ডার নামের একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবত দেশের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন কোম্পানীর ধান বীজ, সার ও দানাদার কীটনাশকের প্যাকেট সংগ্রহ করে নিজের তৈরী ভেজাল বীজ, সার ও কীটনাশক ঢুকিয়ে বাজারজাত করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোঃ আবদুল্লাহ। সে শিলখুড়ি ইউনিয়নের চর উত্তর তিলাই গ্রামের আলাল উদ্দিনের পুত্র। জানা গেছে, সে প্রায় ৭ বছর যাবত ভূরুঙ্গামারী বাজারে এই ভেজাল কৃষি পণ্যের ব্যবসা চালিয়ে স্থানীয় কৃষকদের প্রতারিত করছে। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-২৮, সুফলা ভারত সীড সুফলা-২৮, হীরা-২, এসিআই-২, হীরা-১, তেজ, ইস্পাহানী-১, ব্যাবিলন-২, ব্রি ধান-৪৯, সম্পদ, তিন পাতা সুপার, দানাদার কীট নাশক বাসুডিন, প্রোকেম, রেকাডিন, ফুরাডান, তাজা, ভিট টাকো, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানীর ইউরিয়া সারের খালি বস্তা, বিভিন্ন কোম্পানীর ধান বীজের খালি প্যাকেট, প্যাকেট করণ মেশিন, দানাদার কীট নাশক তৈরীর কাজে ব্যবহৃত ইটের গুড়া, কেমিক্যাল ও বিপুল পরিমান মেয়াদ উত্তীর্ণ তরল কীটনাশক উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে এ সকল খালি প্যাকেট ও বস্তা এনে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত নিম্ন মানের ধান বীজ, নিজের তৈরী দানাদার কীটনাশক ও নি¤œমানের সার ঢুকিয়ে বাজারজাত করে আসছে।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, সুমন বীজ ভান্ডার থেকে একজন ক্রেতা ভিট টাকো কিনে তার সন্দেহ হলে কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উল্লেখিত নকল ও ভেজাল সামগ্রী উদ্ধার করা হয় এবং ওই ব্যবসায়ীর ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা ক্ষোভের সাথে জানান, এত বড় প্রতারণার শাস্তি মাত্র ত্রিশ হাজার টাকা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি