বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮



বাউফলে গণসংযোগে ব্যস্ত আ.লীগ বিএনপি মাঠে নেই


আলোকিত সময় :
08.09.2018

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালী-২ আসন বাউফল। এ আসনে
বর্তমান সংসদ সদস্য সরকারদলীয় চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ। একাদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের সম্ভব্য প্রার্থী হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। উপজেলার
১৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন সভা-সমাবেশ ও
মতবিনিময়। দলে মধ্যে বিকল্প শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় ছয়বারের এই সাংসদের সামনে
এখন লাকি সেভেনের হাতছানি। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে আরও মাঠে
রয়েছেন একাধিক প্রার্থী এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক
অ্যাডভোকেট সামছুল হক রেজা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও আরটিভির
পরিচালক এস এম ফিরোজ আলম,পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক
ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য
জোবায়দুল হক রাসেল। এদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট আসন্ন নির্বাচনে
প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এখনো দোটানায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময় তাদের কাউকেই
মাঠে দেখা যাচ্ছেনা।
১৯৭০ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত এ আসনে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ
খন্দকার সংসদ সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ১৯৭৯ সাল থেকে আ.স.ম ফিরোজ একক
নেতৃত্বে বাউফল উপজেলা আওয়ামীলীগ পরিচালনা করে আসছেন। রাজনৈতিক
বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার কারণে উপজেলা আওয়ামীলীগ তৃণমূল পর্যায়ে খুব শক্ত
অবস্থানে রয়েছে। এ উপজেলার প্রতি ওয়ার্ডে রয়েছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী
সংগঠনগুলোর শক্তিশালী কমিটি। এসব কমিটির সদস্য প্রায় ৩৫ হাজার। ২০০৯ সালের
নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাকে হুইপ ও বর্তমান সংসদে তাকে চীফ হুইপ পদে দায়িত্ব
প্রদান করেন। দীর্ঘ সময় বাউফলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আ.স.ম. ফিরোজ কিছু কিছু
নেতাকর্মীর বিরাগভাজন হন। ২০১২ সালের ২২ মে অনুষ্ঠিত বাউফল পৌরসভা নির্বাচনে
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন দেওয়া নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগে কোন্দল সৃষ্টি হয়।
ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের
সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল মেয়র নির্বাচিত হন। এর পরই মেয়র জুয়েল
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ
ছুড়ে দেন। তখন থেকেই ফিরোজবিরোধী একটি গ্রুপ মেয়র জুয়েলের অধীনে চলে যায়।
তবে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামছুল হক রেজা দলীয়
সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কোন্দলে জড়াননি। এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে
উল্লেখযোগ্য কোনো কোন্দল নেই বলে দাবি নেতাকর্মীদের।
এদিকে ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির শহিদুল আলম তালুকদার ধানের
শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তাকে বাদ দিয়ে জাতীয় পার্টি থেকে
যোগদানকারী শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহমেদ তালুকদারকে মনোনয়ন দেয়
বিএনপি। ফারুক তালুকদারকে দলীয় দায়িত্ব প্রদান করার পর গৃহপালিত বিরোধী দলে পরিণত
হয় বাউফল উপজেলা বিএনপি।
অন্যদিকে জেল, মামলা হজম করে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন শহিদুল আলম তালুকদার। তাকে
মনোনয়ন দেওয়া হলে আগামী নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্ধিসঢ়;দ্বতা সৃষ্টি করতে পারবেন
বলে মনে করেন বিএনপির তৃণমূল ভোটাররা। সারা বছর ঢাকায় অবস্থানকারী ফারুক
আহমেদ তালুকদার মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগ খুব সহজেই জয় পাবে বলেও দাবি তাদের।
সবকিছু মিলিয়ে উপজেলা বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা
বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, বর্তমানে

নেতৃত্ব সংকটের কারণে উপজেলা বিএনপি মাঝি বিহীণ তরীতে পরিণত হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা কিভাবে মোকাবেলা করবেন।
এ আসনে বিএনপি থেকে আরও মনোনয়ন চাইবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর
সম্পাদক মুহম্মদ মুনীর হোসেন, শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি
আনিসুর রহমান ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিনের আমীর ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়
কমিটির সাবেক সভাপতি ড. মু: শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ ছাড়[া এ আসনে জাতীয়
পার্টি (এরশাদ),ইসলামী আন্দলন(চরমোনাই) থেকেও প্রার্থী দেয়া হবে বলে
জানাগেছে। কিন্তু কারা প্রার্থী হবেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাউফল উপজেলা
নির্বাচন অফিসার মো. সেলিম রেজা জানায় পটুয়াখালী-২ আসন বাউফল মোট ২ লাখ
৫১ হাজার ৪২৭জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৭ জন ও নারী ১ লাখ ২৪
হাজার ৯৬০ জন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি