রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮



সাফ ফুটবল, বাংলাদেশের কাছে ১-০ গোলে পাকিস্তানের পরাজয়


আলোকিত সময় :
07.09.2018

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে উপচেপড়া দর্শক। টানটান উত্তেজনা। বাংলার ফুটবলাররা দুর্দান্ত খেলে পাকিস্তানকে আবার হারালো। ৮৫ মিনিটে তপু বর্মনের গোলটি বাংলাদেশকে মহামূল্যবান জয় এনে দিয়েছে। প্রথম খেলায় নেপাল ভুটানকে হারানোর কারণে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথটা অনেকখানি এগিয়ে গেল। অংকের হিসাবে এখনও পাকিস্তান এবং নেপালের ৬ পয়েন্ট করে হওয়ার সুুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে নেপালের বিপক্ষে আগামীকাল। সেই দিনই নিশ্চিত হয়ে যাবে কোন দুই দল সেমিফাইনালে যাবে।

সাত বছর আগে এই মাঠেই পাকিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আবার সেই মাঠেই হারালো। বাংলাদেশের লাখ লাখ ফুটবল দর্শক সেই জয় দেখলেন টিভির পর্দায়। পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ শেষ খেলায় হেরেছিল ২০১৩ সালে নেপালে সাফ চ্যাম্পিনশিপে।

বাংলাদেশের ঘরের মাঠে খেলা। স্টেডিয়াম ভরা দর্শক। সাফের প্রথম দিনে যে পরিমাণ দর্শক ছিল তার চেয়েও বেশি দর্শক ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচে। পাকিস্তান কৌশল খাটিয়েছে। তারা আগেই বুঝে নিয়েছে নিজেদের  শক্তি-সামর্থ্য যেমনই হোক বাংলাদেশের মাঠে বাংলাদেশকে হারাতে সব শক্তি উজাড় করে দেওয়া যাবে না। কারণ পাকিস্তানের শেষ খেলা ভুটানের বিপক্ষে, সেখানে ৩ পয়েন্ট পাবেই! এমন ভাবনা নিয়ে খেলতে নামা পাকিস্তান নিজেদের রক্ষণটাকে আলাদা করে গুরুত্ব দিল। আর যাই হোক গোল হজমের ঝুঁকি নেয়া যাবে না। বাংলাদেশ যেন ঢুকতে না পারে সে জন্য পাকিস্তান তাদের রক্ষণভাগ এবং মাঝ মাঠ পুরোপুরি সিলগালা করে দিয়েছিল। জামাল ভুইয়া, সাদ উদ্দিন, মামুনুল ইসলাম, মাসুক মিয়া জনি, সুফিলরা জায়গা পাচ্ছিল না।

পাকিস্তান বাংলাদেশকে থামিয়ে রাখার অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু অদম্য বাংলার ফুটবলাররা হার না মানা ফুটবল খেললেন। নিজের সামর্থ্যের বাইরে  গিয়ে চেষ্টা করলেন। দেশের মানুষ তখন তাকিয়ে এই ফুটবলারদের দিকে। গ্যালারির দর্শকরা আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছেন হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে ভুভুজেলা। ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ বলে উল্লাস করছিলেন তারা। এমন উত্তেজনার ম্যাচে পাকিস্তানকে যেন ‘গেরিলা আক্রমণে’ পেঁচিয়ে ধরল বাংলাদেশের ফুটবলাররা। অবশেষে ৮৫ মিনিটে গিয়ে সেই অনেক অপেক্ষার গোল পায় বাংলাদেশ। বিশ্বনাথের থ্রো জটলায় পড়লে মাথা লাগিয়ে গোল করেন ডিফেন্স থেকে উঠে আসা তপু বর্মন ১-০। সঙ্গে সঙ্গে পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে দর্শক উল্লাস আকাশ ছুঁয়েছে প্রায়। মাঠে খেলোয়াড়দের উল্লাস। বলতেই হয় ১১ জন নিয়ে মাঠে নামলেও বাংলাদেশ যেন ১০ জন নিয়ে খেলেছে। মাঝমাঠে মামুনুল ইসলাম ছিলেন একেবারে নিষ্প্রভ। ফর্ম নেই। দলকে এতটুকু যোগান দিতে পারেননি। একটা আক্রমণও গড়ে দিতে পারেননি। বল পেলেই পাশে ঠেলে দিয়েছেন। চাপ নিতে হয়েছে জামাল ভুইয়াদের। ভাগ্য ভালো বাংলাদেশ খেলায় হারেনি!

বাংলাদেশ :  সোহেল, ওয়ালী ফয়সাল, তপু বর্মন, বিশ্বনাথ ঘোষ, টুটুল হোসেন বাদশা, বিপলু আহমেদ (ইমন বাবু), জামাল ভুইয়া (অধিনায়ক), মামুনুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান সুফিল (শাখাওয়াত হোসেন রনি), মাসুক মিয়া জনি ও সাদ উদ্দিন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি