রবিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮



বাউফলে এক গৃহবধূর ইজ্জতের মূল্য ১৪ হাজার টাকা !


আলোকিত সময় :
08.08.2018

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের দায়ে ধর্ষকের ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছে গ্রাম্য মাতুব্বররা। এ ঘটনার পরে ধর্ষকের বাবা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেরাজ আলী খান বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাযায়, বৃহস্পতিবার (২ আগষ্ট) গভীর রাতে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ভাংড়া গ্রামের কাজী বাড়ির এক গৃহবধূকে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে শফিক খান নামের এক যুবক। ঘটনার সময় আর্ত চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে ধর্ষককে হাতেনাতে ধরে আটক করেন ধর্ষিতার দেবর হুমায়ন কবির। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থাণীয় গ্রাম পুলিশ রেজাউল ও ধর্ষকের ভাই আনোয়ার ধর্ষক শফিককে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। পরের দিন শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিয়ে শালিস বৈঠকে বসেন এলাকার কয়েকজন মাতুব্বর। গ্রামের মাতুব্বরদের মধ্যে নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাদা হাওলাদারের ভাই মহিউদ্দিন হাওলাদার,আরিফ হাওলাদার ও ইউসুফ হাওলাদার ধর্ষককে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে শাসিয়ে দেন। ধর্ষক শফিক খান নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার দেরাজ আলী খানের ছেলে। ধর্ষকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে আতংকে রয়েছেন ধর্ষিতা গৃহবধূ। ধর্ষিতার শাশুড়ি মাজেদা বেগম বলেন, ১৪ হাজার টাকা দিয়ে চেয়ারম্যানের ভাইয়েরা বিষয়টি শালিস মীমাংসা করে দিয়েছেন। এখন যদি এ বিষয় নিয়ে মুখ খুলি তাহলে আমাদের বিপদ হবে। এদিকে ধর্ষিতা গৃহবধূর স্বামী শাহ জামাল কাজী ঢাকায় দিন মজুরির কাজ করেন। ঘটনার পর ধর্ষিতার স্বামী শাহ জামাল তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। ধর্ষিতা গৃহবধূ জানান, ঘটনার সময় আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে শফিক আমার মুখ চেপে ধরে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। আমার অনুপস্থিতিতে শালিস বৈঠক হয়েছে। আমি এ বিচার মানিনা। ধর্ষিতার দেবর হুমায়ুন কবির জানান, ঘটনার সময় ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে হাতেনাতে ধরে আটকিয়ে রাখি। পরে স্থানীয় চকিদার রেজাউলকে সংবাদ দেই। আমি নিজেই চাপের মুখে আছি। এ বিষয়ে শালিস আরিফ হাওলাদার বলেন, ধর্ষণের কোন ঘটনা ঘটেনি, রাতে শফিক ওই ঘরে ঢুকেছে এ জন্য তার কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইণানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি