রবিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » আজকের পত্রিকা » জাতীয় সংসদ নির্বাচন - ২০১৮ : টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসন
    বড় দুই দলে গ্রুপিং, জোটবদ্ধ সম্ভাবনা কাদের সিদ্দিকীর, জাতীয় পার্টির প্রার্থী চুড়ান্ত



জাতীয় সংসদ নির্বাচন - ২০১৮ : টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসন
বড় দুই দলে গ্রুপিং, জোটবদ্ধ সম্ভাবনা কাদের সিদ্দিকীর, জাতীয় পার্টির প্রার্থী চুড়ান্ত


আলোকিত সময় :
06.08.2018

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনে আ’লীগ, বিএনপি, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী-সমর্থকদের আগাম প্রচার-প্রচারণা ও দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে।
প্রধান রাস্তার দু’পাশে শুভেচ্ছা-দোয়া সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন পরিলক্ষতি হচ্ছে।
আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন-স্থানীয় সাংসদ অনুপম শাহজাহান জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী আতাউল মাহমুদ, শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম খান,অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদ ও সখিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ শওকত শিকদার।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- এ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, শেখ হাবিব ও বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলাম।
কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টি দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব -কাজী আশরাফ সিদ্দিকীকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন চুড়ান্ত করেছে। বাসাইল-সখিপুর আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা যার যার অবস্থান থেকে লবিং ও গণসংযোগে ব্যস্ত রয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে বড় দুই দলের অধিকাংশ নেতারা গ্রুপিং নিরসনে নতুন মুখ প্রত্যাশা করছেন এবারের নির্বাচনে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট না দিতে পারার ক্ষোভ তো রয়েছেই। সাধারণ ভোটাররা ভোটের ফলাফলও বিশ্বাস করে না। কারণ বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোট জালিয়াতি, ভোট ছিনতাই, সহিংসতা ভোটের স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করেছে। সেক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়াটা তাদের প্রত্যাশা। হাইকমান্ডকে মাঠ জরিপের ফলাফল প্রাধান্য দেয়ার আকুতি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। স্বচ্ছ ও সর্ব দলীয় অংশগ্রহণে নির্বাচন চায় তারা। বাসাইল-সখিপুরে গত উপ-নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত সাংসদ শওকত মোমেন শাহজাহানের পুত্র অনুপম শাহজাহান জয়কে সহানুভূতি দেখিয়ে নৌকা প্রতীক দেন। এবার রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন মুখের হাতে নৌকা প্রতীক চাচ্ছেন বাসাইল-সখিপুরের অধিকাংশ আওয়ামী নেতবৃন্দ। তাদের মন্তব্য সব দলের অংশগ্রহণ মানেই নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনপ্রিয় প্রার্থী ছাড়া নিরপেক্ষ নির্বাচন কেমন হবে? এমনিতেই মফস্বলে আমরা সাধারণ ভোটারদের কাছে নানা দায়বদ্ধতায় থাকি।
এদিকে গত উপ-নির্বাচনে গামছা প্রতীক নিয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমকে নির্বাচনে একটি কারণ দেখিয়ে ও অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদকে আরেকটি তৈরিকৃত ত্রুটি দেয়াল সর্বশেষ নির্বাচনে সাবেক জি,এম মালেক আশানুরুপ ফলাফল পেয়েও ক্ষমতায় আসীন হতে পারেনি। এসব ঘটনায় তৃণমূলের নেতা হয়ে প্রতিনিয়ত আমরা তিরস্কারের পাত্র হই। আমরা দেখতে চাই সুন্দর স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালিত সোনার বাংলা। কৃষকের গ্রাম বাংলা। গত বুধবার সখিপুর মোক্তার ফুয়ারা চত্বরের পশ্চিমে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মামুন ও আ’লীগ নেতা অপু প্রত্যাশী প্রার্থীর সমর্থনে আলাপকালে জানান, এবার মনোনয়ন পাবে জোয়াহের ভাই। উপস্থিত আরেকজন বলেন, এমপি জয়ই মনোনয়ন পাবে। তারা দু’জনে একে অপরকে জিজ্ঞেস করেন, যদি জয়-জোয়াহের কেউ নমিনেশন না পায়, তাহলে কে পাবো? উত্তরে আ’লীগ নেতা অপু বলেন, তাহলে প্রকৌশলী আতাউল মাহমুদ নমিনেশন পাবে। তখন যুবলীগ নেতা নিশ্চুপ হয়ে যায়।
নলুয়া বাজারে সুরুজের চায়ের দোকানে বসে সখিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ডি এম শরিফুল ইসলাম শফি জানান, সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়া হলে বাসাইল-সখিপুর ভৌগোলিক দিক থেকে মধ্যবর্তী সীমানায় ও তার জনপ্রিয়তার কারণে ভোট বেশি পাবে। জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জানান, ‘আমিই মনোনয়নের প্রধান দাবিদার। কারণ, দলীয় দুর্দিনে আমিই ছিলাম। ত্যাগী নেতা হিসাবে অদ্যাবধি রয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা অবশ্যই আমাকে মনোনীত করবেন। এটা আমার বিশ্বাস।’ প্রকৌশলী আতাউল মাহমুদ জানান, ‘এমপি জয়, ভিপি জোয়াহের ভাইসহ সকল প্রার্থী-সমর্থকদের বিশ্বাস তাদের প্রার্থী দলীয় নমিনেশন না পেলে সেক্ষেত্রে নমিনেশন পাবে একমাত্র ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ। কেননা সৎ, আদর্শবান ব্যক্তিত্বের অধিকারীরা মানুষের বিবেকের আদালতে জয়ী ও উজ্জল হয়ে ফোটে উঠে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতিতে পথ চলি। ঐক্যমতে বিশ্বাসী। এজন্য আলোকিত বাসাইল-সখিপুর গড়ার লক্ষ্যে নিরন্তর জনকল্যাণে তাদের ভালোবাসা নিয়ে হাতে-হাত, কাধে-কাধ রেখে পথ চলছি। সকলে যেমন বিশ্বাস করে আমি হতে পারি ঐক্যমতের প্রার্থী, তেমনি আমিও বিশ্বাস করি জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ঐক্যমতের প্রার্থী করেই বাসাইল- সখিপুরে জনকল্যাণে মনোনীত করবেন।’
সাংসদ অনুপম শাহজাহান জয়ের মুঠোফোনে তার মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করলেও কোন সাড়া মেলেনি। এমপি জয়ের সমর্থক বাসাইল থানা কৃষক লীগের সভাপতি উজ্জল মোল্লা, কাশিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও ফুলকী ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মু্ক্িতযোদ্ধা কবির হোসেন জানান, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও নৌকা প্রতীকে আমরা কাজ করব। যাতে নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে পারি। বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন তালুকদার জানান, শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম খান সৎ ও যোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বটে। তাকে মনোনয়ন দিলে বাসাইল উপজেলার ভোটারগণ দল-মত-নির্বিশেষ ভোট দেবে। এ ব্যাপারে জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক নেতা সালাম খান মুঠোফোনে জানান, ফিল্ড এরিয়ায় যারা থাকে, যারা তাকে যোগ্য ভাবে, আমি বলবো-তাকেই দলীয় নমিনেশন দিলে আগামী দিনে সকলের জন্য সুফল বয়ে আনবে। অনুসন্ধানে জানা যায়, হেভিওয়েট, যোগ্য, সৎ, অতি পরিচিত শ্রমিক নেতা সালাম খান প্রয়াত সাংসদ শওকত মোমেন শাজাহানেরও শ্রদ্ধাভাজন নেতা। বাসাইল-সখিপুরের অধিকাংশ আওয়ামী নেতাই তাকে সাদরে গ্রহণ করার কথা স্বীকার করেন। তারা জানান, তিনি নির্বাচনে এলে আমরা তার জন্য একযোগে কাজ করব। তিনি নমিনেশন পেলে সফলতা পাব ইন্শাল্লাহ্। মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদ। তিনি জানান, আমি আওয়ামী লীগকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি।কোন জায়গায় ১০ পয়সাও দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নেইনি। তিনি বলেন, সালাম খান শ্রদ্ধাভাজন নেতা। আর আমরা তার উত্তরসূরী। পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারির কাছে অনেকেই ধরা। সেজন্য তারা তার কথা বলবে। অনেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে কাজ বাগিয়ে নিতে ভীড় জমায়। ইতিপূর্বে বাসাইল-সখিপুরে দুটি বিতর্কিত উপ-নির্বাচন হয়েছে। ফেয়ার তদন্তে নমিনেশন দিলে, আমি নমিনেশন পাবো।

সখীপুর কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার কাউন্সিলর মালেক জানান, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনে প্রার্থী একমাত্র সাঈদ আজাদ ছাড়া স্বচ্ছ বিজয় সম্ভব নয়। এজন্য তাকে মনোনয়ন দিতে হবে। সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ শওকত শিকদার জানান, আমি একাধিকবার ভোটে নির্বাচিত সফল উপজেলা চেয়ারম্যান। জনপ্রিয় বিধায় প্রতিনিধিত্ব করি। আওয়ামী লীগ সরকার জনবান্ধব সরকার। জননেত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন।

সখীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য শাহীন খান জানান, বাসাইল-সখিপুরে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী শেখ হাবিব, কাজী শহিদুল ইসলাম,এ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ও ওবায়দুল হক নাছির। বিগত দিনে আযম খানকে একাধিকবার মনোনয়ন দেয়া হলেও আশানুরূপ ফলাফল এনে দিতে পারেননি। সেক্ষেত্রে শেখ হাবিব কিংবা বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলামকে মনোনীত করলে সফল হবে। এ লক্ষ্যে বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলাম নমিনেশন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, মাঠ পর্যায়ে তদন্তকালে আমার সমর্থন বেশী পাওয়া যাবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দলের উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দ আমাকে নমিনেশন দিলে তা হবে বড় সফলতা। বড় দুই দলের গ্রুপিং থাকায় কালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হারেজ বিএসসি জানান, সকল দলের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে যোগ্য ও হেভিওয়েট প্রার্থী বাছাই করে নমিনেশন দিতে হবে। তিনি জানান, বাসাইল-সখিপুরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বড় দলের কোন একটিতে জোটবদ্ধ হলে বিজয়ী হওয়াটা সম্ভব।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মুঠোফোনে জানান, আপাতত আমি কিছুই বলতে চাচ্ছি না। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরই সব বলব।
অপরদিকে, সখীপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ জানান, কাজী আশরাফ সিদ্দিকী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কাজী আশরাফ সিদ্দিকী মুঠোফোনে জানান, যদি জনগণ চায়, সফলতা পাব। জাতীয় রাজনীতির ব্যাপার। বুঝে-শুনে মাঠে কাজ করতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি