বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » আজকের পত্রিকা » বাঘায় পদ্মা গিলে খাচ্ছে বিদ্যালয়, পড়া লেখা নিয়ে বিপাকে ৬’শ শিক্ষার্থী, হুমকির মুখে জনপদ



বাঘায় পদ্মা গিলে খাচ্ছে বিদ্যালয়, পড়া লেখা নিয়ে বিপাকে ৬’শ শিক্ষার্থী, হুমকির মুখে জনপদ


আলোকিত সময় :
06.08.2018

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
২০১২ সালে ভাঙনের কবলে পড়ে কালিদাশখালি মৌজায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বিদ্যালয়টি। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর আটাত্তর লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের পাঁকা ভবন নির্মাণ করেন। বিদ্যালয়ের সেই পাঁকা ভবনটি এখন গিলে খাচ্ছে পদ্মা। ইতোমধ্যে ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়েছে পদ্মা। যেকোন সময়ে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে স্থাপনাটি। অবস্থার প্রেক্ষিতে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে পড়া লেখা নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিদ্যালয়ের ৬’শ শিক্ষার্থী। একই সাথে ভাঙনের কবলে পড়ে বিলিন হতে চলেছে বিদ্যালয় সংলগ্ন বাজার। গত ১৪ বছরে ভাঙনের কবলে পড়ে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের চকরাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চকরাজাপুর বাজার। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার জানান, ১৯৯৮ সালেও ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয় ও বাজারটি। ২০১২ সালে অন্যত্র সরিয়ে বর্তমান স্থানে আনা হয় বিদ্যালয় ও বাজারটি। ৫ বছর যেতে না যেতেই আবার ভাঙনের কবলে পড়েছে বিদ্যালয় ও বাজারটি।

শুধু ওই বিদ্যালয় এবং বাজারই নয়, পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের গোকুলপুর, জোতকাদিরপুর, কিশোরপুর, আলাইপুর, মালিয়ানদহ; চকরাজাপুর ইউনিয়নের দিয়ারকাদিরপুর, টিকটিকিপাড়া, চকরাজাপুর, কালিদাসখালি ও লক্ষীনগর এলাকা।

স্থানীয়রা জানান, গত তিন সপ্তাহে ২৫ কিলেমিটার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে ১০টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার বিঘা জমিসহ গাছপালা, পেয়ারা বাগান, পাট ও আখসহ নানাপ্রকার সবজি ক্ষেত। এবার ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পদ্মার তীরবর্তী গোকুলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম, আজিবার মালিথা, আস্তুল মালিথা, আব্দুল মতিন মালিথা; জোত কাদিরপুর গ্রামের মুনছুর মালিথা, কুদরত আলী, শমসের আলী; পাকুড়িয়ার হাফিজুর রহমান, নয়ন পীর, আসাদুজ্জামান ও শরিফুল; আলাইপুরের চাহার মন্ডল, নাজিম সরকার, নজু প্রামানিক, আজাহার, টুলু মন্ডল, তেথুল মন্ডল ও সোবহান মল্লিক; চকরাজাপুর ইউনিয়নের জামাল উদ্দিন, শামসুদ্দিন রেন্টু, আজাদ শেখ, গোলাম মোস্তফা, মনছুর শেখ ও বাবলু দেওয়ানসহ অর্ধসহ¯্রাধিক কৃষক।

ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল আযম ও ফকরুল হাসান বাবলু জানান, গত তিন দশকে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি, বসত ভিটা, রাস্তা-ঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন সময়ে নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বহারা হয়েছে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার। এই সব পরিবারের সব কিছু কেড়ে নিয়েছে পদ্মা। এদের অনেকেই এখন বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বসত বাড়ি গড়ে বসবাস করছেন।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার শাহিন রেজা বলেন, সোমবার (৬ আগষ্ট) বিদ্যালয় ও বাজারসহ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোসাঃ নাসিমা খাতুন। পরিদর্শনকালে তিনি বিদ্যালয়ের জানালা-দরজা খুলে নিতে বলেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি