শনিবার ১৮ অগাস্ট ২০১৮



আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে আন্তরিক


আলোকিত সময় :
06.08.2018

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
রবিবার (৫ আগষ্ট) দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাগড়াছড়ির ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড সাব-স্টেশন উদ্বোধনকালে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। দেশের মূল স্রোতধারা থেকে পিছিয়ে থাকা পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নে ৫৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ ও ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দূর্গম এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
খাগড়াছড়ির ঠাকুরছড়া এলাকায় ৫৪ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড সাব স্টেশন স্থাপন করে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী বাংলাদেশ। খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলাসহ রাঙামাটির ২ উপজেলা এই সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এসেছে।
এই সাব-স্টেশন স্থাপনের ফলে খাগড়াছড়িবাসীর ভোগান্তি ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। খাগড়াছড়ির ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ গ্রিড উপকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (৫ আগষ্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পাহাড়ী জনপদ খাগড়াছড়ির জন্য নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ফলে পাহাড়ে পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপকেন্দ্রটির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খাগড়াছড়িসহ ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২টি উপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ২১ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সংযোগের উদ্বোধনকালে খাগড়াছড়িবাসীর সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পাহাড়ের মানুষকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় যুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘মা’ উল্লেখ করে ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, আপনার সহযোগিতায় খাগড়াছড়িবাসী দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সমস্যা থেকে মুক্তি পেল। আগে ঝড়-তুফান এলেই চার পাঁচ দিন এই জেলা অন্ধকারে থাকতো। আজ থেকে এখানকার মানুষের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা কেটে গেল।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোঃ রাশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় পামচাষি হাজি মোঃ আলী আকবর ও খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ধনিরাম ত্রিপুরা বক্তব্য রাখেন। এসময় পুলিশ সুপার মোঃ আলী আহম্মেদ খান, পৌর মেয়র রফিকুল আলম, জেলার সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২০১৬ সালের শুরুর দিকে জেলা সদরের ঠাকুরছড়া এলাকায় ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রটির কাজ শুরু হয়। রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা থেকে দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনটি রাঙ্গামাটি হয়ে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত আসে। শহরের অদূরে ঠাকুরছড়া এলাকায় ৬ দশমিক ১০ একর জায়গার ওপর উপকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৩৯৬ কোটি টাকা। পরে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।
আশির দশকে অনেকটা দায়সারাভাবে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে টানা লাইন দিয়েই চলে আসছিল খাগড়াছড়ির নয় উপজেলা ছাড়াও পাশের জেলা রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ। আজ দীর্ঘ ৩৭ বছরের বিদ্যুতের চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেলো খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির ১২টি উপজেলার মানুষ।
এখানে উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে খাগড়াছড়ি সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে গ্রিড উপকেন্দ্রটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছিলেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি