মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮



বান্দরবানের লামায় নৌকা ডুবি,  নিখোঁজ ৩


আলোকিত সময় :
04.08.2018

বান্দরবান প্রতিনিধি :
বান্দরবানের লামায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা ডুবে তিন জন মুরং আদিবাসী নিখোঁজ হয়েছে। শনিবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় লামা পৌরসভার লামামুখ এলাকার মাতামুহুরী নদী ও লামা খালের মোহনায় এই দূর্ঘটনা ঘটে। সাপ্তাহিক হাটবারে লামা বাজার হতে পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় শেষে বাড়ি ফিরছিল তারা।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হল, লামা সদর ইউনিয়নের নতুন লাইল্লা পাড়ার পয়াং মুরু এর ছেলে মেনপ্রে মুরু (৩৫), একই ইউনিয়নের তাউ পাড়ার চিংক্রাত মুরু এর ছেলে রেনসাং মুরু (৪০) ও ফাইতং চিংকক পাড়ার লোলেক মুরু (৫৫)।

নৌকার মাঝি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, লামামুখ মাতামুহুরী নদীর নৌকা ঘাট হতে ১৭ জন যাত্রী নিয়ে পোপা খাল দিয়ে তাউ পাড়া যাচ্ছিলাম। লামামুখ ঘাট হতে ৫ শ গজ দূরে মাতামুহুরী নদী ও লামা খালের মোহনায় নৌকা পৌঁছালে উজানের স্রোতের টান ও পানির ধাক্কায় নৌকা উল্টে যায়। এসময় ১৪ জন যাত্রী সাঁতার কেটে উঠে আসলেও বাকী ৩ জন যাত্রী পানিতে ডুবে যায়। তাদের খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নৌকা যাত্রী থং পং মুরু (১৩) বলেন, আমার বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নৌকা ডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী মেনতাই মুরু (৩৫), মংপুং মুরু (৪০) ও সাংরাউ মুরু (৪৫) বলেন, আমরা ১৬ জন মুরং সম্প্রদায়ের লোক নৌকায় ছিলাম। ১৩ জন কিনারে আসতে পেরেছি। বাকী ৩ জনকে পাওয়া যাচ্ছেনা।

নৌকা ডুবির ঘটনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় লামা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন।

তিনি বলেন, নৌকায় মাঝিসহ মোট ১৮ জন যাত্রী ছিল। ১৬ জন মুরং সম্প্রদায়ের আর ২ জন বাঙ্গালী। মাঝি শফিকুল ইসলাম ও অপর বাঙ্গালী যাত্রী শহীদুল ইসলাম নয়নসহ ১৩ জন মুরং যাত্রী কিনারে উঠে এসেছে। তিনজন নিখোঁজ রয়েছে। এই ইঞ্জিন চালিত নৌকায় যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৮ জন কিন্তু নিয়েছে ১৮ জন। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে এই দূর্ঘটনা ঘটেছে।

দূর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা হল, মেনতাই মুরু (৩৫), মংপুং মুরু (৪০), ল্যাং রাউ মুরু ((৩৫), পাদন মুরু (৪২), হানুয়াই মুরু (৩২), কেম প্রে মুরু (৪৮), সাংরাউ মুরু (৪৫), রাং লা মুরু (৫২), মেনরাং মুরু (৫৫), গইয়ে রা মুরু (৫০), রেনাই মুরু (৪৯), থং পং মুরু (১৩), খিং ওয়াং মুরু (৩০) ও শহীদুল ইসলাম নয়ন (২০)।

দূর্ঘটনার ঘটার অল্পক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লামা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার দলের লিডার বিশান্তর বড়ুয়া বলেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি তিনজন নিখোঁজ হয়েছে। তাদের উদ্ধারে চট্টগ্রাম হতে ডুবুরী আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ধার কাজে লামা থানা পুলিশের সদস্যরাও যুক্ত হয়েছে।

এই ঘটনায় লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি ও লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা দুঃখ প্রকাশ করেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি