বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » কয়লা সংকটে, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্র বন্ধ, বিদুৎ সংকটের মুখে উত্তরাঞ্চলের আট জেলা



কয়লা সংকটে, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্র বন্ধ, বিদুৎ সংকটের মুখে উত্তরাঞ্চলের আট জেলা


আলোকিত সময় :
22.07.2018

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
কয়লা সংকটের কারণে আজ (রবিবার) থেকে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের এক মাত্র কয়লা ভিত্তিক দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগওয়াড তাপ বিদুৎ কেন্দ্র। এতে বিদ্যুৎ সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের আট জেলা।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেন, কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ (বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি) কতৃপক্ষ কয়লা সরবরাহ করতে না পারায়, তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে উত্তোলন কৃত কয়লার মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার মে: টন কয়লা ঘাটতি রয়েছে, এই কারণে গত ১৯ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), কোম্পানীর সচিব (জিএম প্রশাসন)কে প্রত্যাহার করেছে, একই কারণে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মাইনিং এন্ড অপরেশন, ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর)কে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। যদিও খনি কতৃপক্ষ বলছে এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা সিস্টেম লস। তাদের দাবী গত ১১ বছরে এক কোটি ১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে এর মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা সিস্টেম লস।

এদিকে বিদুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেক্ট্রি সাপ্লাই কোম্পানী লিঃ (নেসকো) এর রংপুর জোন এর প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রতিদিন ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন, এর মধ্যে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদুৎ আসে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্র থেকে, কিন্তু কয়লা সংকটের কারণে গত এক মাস থেকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২টি ইউনিট বন্ধ থাকায়, সেখান থেকে মাত্র ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসতো। এই কারণে গত এক মাস থেকে বিদ্যুতের কিছু ঘাটতি দেখা দিয়েছে, এখন পুরোপুরি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় এই ঘাটতি আরো বাড়লো। তিনি আরো বলেন, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হলেও, বাহির থেকে বিদ্যুৎ এনে চাহিদা পূরণ করা হবে। তবে এতে বিদ্যুতের ভোল্টেজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেই সাথে লোড শেডিং বাড়তে পারে।

অপরদিকে, বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিলে বড় রকমের লোকশানের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান অত্র অঞ্চলের কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা। ফুলবাড়ী লাভলী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাঃ লিঃ এর চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি বলেন, প্রতিদিন ২ ঘন্টা বিদ্যুতের লোড শেডিং হলে প্রতিদিন ৪-৫ লাখ টাকা লোকশান গুনতে হবে। একই কথা বলেন মির্জা গ্রæপ অব ইন্ডাঃ এর জেনারেল ম্যানেজার মশিউর রহমান। তারা আরো বলেন, ঘনঘন লোড শেডিং হলে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মেশিনেরও ক্ষতি হয়। এতে লোকশানের পরিমাণ আরো বেড়ে যায়।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর মহা ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, আগামী আগষ্ট মাসের মধ্যে নতুন ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে। কয়লা উত্তোলন শুরু হলেই কয়লার এই সংকট থাকবে না বলে তিনি আশা রাখেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি