বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮



বড়পুকুরিয়ায় পুকুর চুরি


আলোকিত সময় :
21.07.2018

দিনাজপুর প্রতিনিধি :
হদিস মিলছে না দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে তোলা এক লাখ ৪২ হাজার টন কয়লার। বর্তমান বাজার দরে ২২৭ কোটি টাকার কয়লা এখন মজুদ থাকার কথা থাকলেও পরিদর্শন করে তার কিছুই পাওয়া যায়নি।
এ কয়লা কী হয়েছে, সে বিষয়েও কেউ কিছু বলতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খনি প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দায়িত্বে অবহেলার জন্য চারজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

নথিপত্রের হিসাব অনুযায়ী, খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা যেখানে স্তূপ করে রাখা হয়, সেখানে মজুদ ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার টন। কিন্তু বাস্তবে এখন সেখানে এক টন কয়লাও অবশিষ্ট নেই বলে জানান কোম্পানির আরেকজন মহাব্যবস্থাপক।

প্রতি টন কয়লার বর্তমান বাজার মূল্য ১৬ হাজার টাকা। সেই হিসাবে, খোয়া যায় কয়লার মূল্য ২২৭ কোটি টাকা।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সংলগ্ন কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালাতে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু কয়লা সংকটের কারণে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটিতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটিতে এখন আংশিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। ওদিকে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি পূর্ণ শক্তিতে চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য আবু সাঈদ গত সোমবার কয়লা খনি এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পর কয়লা গায়েব হওয়ার ঘটনা প্রথম ধরা পরে।

এই ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একজন মহাব্যবস্থাপককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সাথে আরও একজন মহাব্যবস্থাপক ও উপ-মহাব্যবস্থাপককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কয়লা খনি কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা।

ঘটনা তদন্তে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) কামরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্ল্যানিং) আইয়ুব খান চৌধুরীকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে বিসিএমসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

কয়লা খনি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমদকে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) করে পেট্রোবাংলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত বছর এপ্রিল মাসে তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

কোম্পানি সেক্রেটারি ও মহাব্যবস্থাপক আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে সিরাজগঞ্জে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন, খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নূর-উজ-জামান এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলাম।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি