সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮



খাগড়াছড়িতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত


আলোকিত সময় :
12.07.2018

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করাসহ মা ও শিশুদের কল্যাণে সরকারের প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা জনগণের দৌড় গৌড়ায় পৌঁছে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান ও (প্রতিমন্ত্রী) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা,এমপি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনগণকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছে। তাই দেশের সকল জনগণকে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার আহবান জানান।
বুধবার (১১ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়িতে জেলা পরিবার পরিকল্পনার উদ্যোগে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অফিসার্স ক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী। প্রধান অতিথি সুস্থ-সবল জাতি গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পিত পরিবার গঠনে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আরো সক্রিয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহŸান জানিয়েছেন। একটি দেশের জনসংখ্যা ও উন্নয়ণ অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত উল্লেখ করে পরিকল্পিত পরিবার একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। পরিকল্পিত পরিবার খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মানবাধিকার পূরণের পাশাপাশি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ ও আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের বিকল্প নেই।
একজন মা জীবনে সন্তান সংখ্যা এবং দুই সন্তানের মাঝে বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ফলে তাঁর নিজের ও সন্তানের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার হ্রাস পায়। আমরা চাই দেশের প্রতিটি পরিবার হবে তাদের স্বেচ্ছা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিকল্পিত।’ এ অধিকার সুরক্ষিত করতে সক্ষম দম্পতির কাছে চাহিদা অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা এবং তথ্য পৌঁছে দেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তার সরকার পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রোধ করে দারিদ্র্য বিমোচনসহ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে ৬ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামীণ দারীদ্র জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাঠ কর্মীরা দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রোধ করে দারিদ্র্য বিমোচনসহ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীগণ সপ্তাহে তিন দিন কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক সেবা প্রধান করছে। আমাদের সরকারের এসব উদ্যোগের ফলে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে এবং পরিকল্পিত পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাল্য বিবাহের প্রবণতা থেকে দেশের বৃহত্তর সমাজকে বের করে আনতে হলে দরকার শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি। আর সামাজিক সচেতনতাই পারে বাল্য বিবাহ রোধ করতে। তাই এ অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে মাঠ কর্মীদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহŸান জানান বক্তারা।
আলোচনা সভা শেষে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি