মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮



লক্ষীপুরে খাল ভাঙ্গনে আঁতঙ্কে স্থানীয়রা


আলোকিত সময় :
10.07.2018

লক্ষীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষীপুরের লাহারকান্দিতে ওয়াপদা খালের ভাঙ্গনে আঁতঙ্কে আছেন স্থানীয়রা। এই খালের ভাঙ্গনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে সদর উপজেলার ৫টি গ্রাম। বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ, বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা, রাস্তাঘাট। বাড়ছে খালের প্রস্ততা। কিন্তু সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলরা এমন অভিযোগ স্থানীয় মানুষের।
বারবার খনন ও মেরামত করার আশ্বাস দিয়েও করছেন না জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। আগের মতো আবারো বলছেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের পিয়ারাপুর, পশ্চিম সৈয়দপুর, তালহাটি, চাঁদখালী ও শহীদপুর গ্রাম ওয়াবদা খালের ভাঙনে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। সেই ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও গাছপালা। নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে বাপ-দাদার চিরচেনা বসতভিটা, ফসলি জমি হারিয়ে। ফলে চরম দুর্ভোগে মানবেতর জীবন কাটছে ওয়াবদা খালের দু’পাড়ের হাজার-হাজার মানুষের।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। কয়েকবার খাল খনন, ক্ষতিগস্ত জায়গা বাঁধ ও ধসে যাওয়া রাস্তা সংস্কার করার আশ্বাস দিয়েও কাজ করেনি কেউ।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছরই ভাঙনের ফলে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, ঘর-বাড়ি, গাছপালা খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ২২ হাত দৈর্ঘ্য ওয়াপদা খাল এখন ২০০ হাতে পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজে ও বাজারে যেতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রæত পদক্ষেপ না নিলে চলতি বর্ষায় রাস্তা ঘাট আরো ভাঙনের কবলে পড়বে এবং গৃহহীন হয়ে পড়বে বহু পরিবার। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
লাহারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মশু বলেন, ভাঙনের কারণে খালের দু’পাশের জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি ইতোপূর্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। তারাও দ্রæত খনন, মেরামত ও রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৗশলী মোঃ মুসা বলেন, ওয়াপদা খালের ভাঙনের কারণে সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন অংশ ভাঙছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, ক্ষতিগস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি