মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮



বাঘায় হাসপাতালের চিকিৎসক ব্যস্ত ক্লিনিকে : চিকিৎসকের সাথে স্বজনদের হাতাহাতি


আলোকিত সময় :
10.07.2018

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : 

রাজশাহীর বাঘায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসকের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে রোগীর স্বজনদের। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক না থাকায় এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আকতারুজ্জামান ওই সময় ক্লিনিকেই প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত ছিলেন। সোমবার (৯-৭-১৮)আনুমানিক বিকেল ৫টায় ফিরে আসার পর এ ঘটনা ঘটে ।
জানা যায়, ওইদিন বিকেল ৪ টায় উপজেলার ছাতারি গ্রামের জোয়াদ আলী নামের এক রুগীকে হাই প্রেসার (উচ্চ রক্তচাপ) জনিত রোগে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় তার স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় ওই রোগীকে চিকিৎসা দেন ফার্মাসিষ্ট আব্দুল মজিদ। এতে অবস্থার উন্নতি না হয়ে খারাপের দিকে চলে যায়। এ অবস্থায় জরুরি চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে রেফার্ড করেন তিনি। এসময় জরুরি বিভাগে পৌঁছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক আকতারুজ্জামান। তাকেও চিকিৎসার অনুরোধ করেন রুগীর স্বজনরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় কথা বার্তা বলে জরুরি বিভাগ থেকে তাদের বের করে দেন। এনিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রাজশাহীতে নেওয়ার পথে মারা যান জোয়াদ আলী। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন জোয়াদ আলীর ভাতিজা হুমায়ুন কবির। যার অনলীপি কপি স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আকতারুজ্জামান ‘জননী ক্লিনিক এ্যান্ড ডাাগনস্টিক’ নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের মালিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিন উদ্দীনের ছেলে । যার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন ডা.আকতারুজ্জামান নিজে। ওই সময় ক্লিনিকেই প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত ছিলেন। অপারেশন শেষে জরুরি বিভাগে যান। এসব কারণে বিড়ম্বনায় পড়েন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রুগীরা। আর এ সংবাদ সরবরাহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকের সাথেও বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে অশোভনীয় আচরন করেন ওই চিকিৎসক।
হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক আকতারুজ্জামান বলেন, ওই সময় তিনি আন্তঃ বিভাগে রুগী দেখছিলেন। সহকর্মীর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে জরুরি বিভাগে গিয়ে রুগীর অবস্থা খারাপ দেখে রাজশাহীর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ নিয়ে রুগীর স্বজনরাই তার সাথে খারাপ আচরন করেছেন। তিনি তার জবাব দিয়েছেন মাত্র। জরুরি বিভাগে রুগীর দেখার সময় এক সাংবাদিক তথ্য চাচ্ছিলো। তিনি দিতে পারেননি। অফ টাইমে ক্লিনিকে সময় দেন বলে দাবি তার।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি