সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮



মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে হাজারো বসতি, প্রাণহানির আশঙ্কা


আলোকিত সময় :
09.07.2018

বান্দরবান প্রতিনিধি :

পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানের লামা উপজেলা। এখানকার ছোট-বড় পাহাড়ে জনবসতির ইতিহাস সেই অনন্ত কালের। আদিবাসী জনগোষ্ঠির বংশ পরম্পরায় চলে আসা জীবন-যাপন, জীবিকার আদিম ও জুমচাষের সুবাদে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ পাহাড়ের চূড়া, পাদদেশ ও কূলঘেঁষে বসবাস করে আসছে। সেই সাথে সমতলের নদী ভাঙ্গা ও ভূমিহীন শ্রমজীবী বাঙ্গালীরা ৫০-৬০ বছর যাবৎ পাহাড়ের অনাবাদি ও সরকারের খাস জমিতে বসতি স্থাপনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের জন্য পাহাড় কেটে-খুড়ে আবাদি জমি তৈরি করে জীবন-যাপন করে আসছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম এলেই এ অঞ্চল পরিণত হয় আতঙ্কের জনপদে।

সম্প্রতি টানা কয়েকদিনের মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে শহর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধ্বস শুরু হয়। এতে গত মঙ্গলবার পাহাড় ধ্বসে উপজেলার সরই ইউনিয়নের কালাইয়াপাড়ায় মারা যায় এক পরিবারের ৩ জন। এখনিই পাহাড়ের মৃত্যুঝুঁকিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে না নেয়া হলে, আবারো পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানিসহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পরপর কয়েক বছর পাহাড় ধ্বস ট্রাজেডির কারণে এখন পাহাড় দেখলে সবাই আঁতকে উঠে। এখনও পাহাড়ে রয়ে গেছে হাজার হাজার পরিবার। একের পর এক পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানির মত মানবিক বিপর্যয় ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি পরিকল্পিত বসবাস কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কোন উদ্যোগ। তবে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীরা এখনো কেউ নিরাপদ স্থানে সরে যায়নি। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যাপারে উদ্যোগ নেই কোনো সংস্থার।

এক জরিপে দেখা যায়, জেলার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা হচ্ছে লামা। এখানে পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে বসবাসরত পরিবারগুলোর কোনো নির্দিষ্ট তালিকা নেই প্রশাসনের কাছে। অথচ ইউএনডিপি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ দাতা সংস্থাগুলো প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা তথাকথিত উন্নয়নের নামে ব্যয় দেখিয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে ভয়াবহ পাহাড় ধ্বস ও ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে কোনো ধরণের আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের কর্মসূচি নেই এসব সংস্থার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার আজিজনগর, ফাইতং, সরই, রুপসীপাড়া, সদর, গজালিয়া ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পাহাড় কেটে অপরিকল্পিতবাবে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছে তিন হাজারেরও বেশি পরিবার। পৌরসভা এলাকায়ও পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে রয়েছে ১ হাজারের বেশি পরিবার। তাদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র মানুষ। স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা না হলে, যে কোন সময়েই ঘটতে পারে বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি