মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮



গুহায় আটকে পড়া কিশোরদের উদ্ধারে আজ শুরু হচ্ছে চুড়ান্ত অভিযান


আলোকিত সময় :
08.07.2018

আলোকিত অনলাইন ডেস্ক :

৮ জুলাই রবিবার দিনটিকেই মোক্ষম সময় হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে থাইল্যান্ডের গভীর গুহায় আটকে পড়া ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়েছে। ঠিক কী উপায়ে তাদের বের করে আনা হবে, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গুহার ভেতর গভীর পানিতে ডুবুরিদের সহায়তায় এবং অল্প পানিতে হেঁটে তাদেরকে বের করে আনা হবে। ১৩ জন উচ্চ প্রশিক্ষিত বিদেশি ও পাঁচজন থাই নেভি উদ্ধারকারী ড্রাইভার এ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। একে একে সব কিশোরকে বের করে আনতে তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা এ অভিযানকে ‘হয় এখনই, নয়তো কখনোই নয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে তারা আর বাইরে বের হতে পারেনি। এরপর থেকে টানা ৯ দিন নিখোঁজ ছিল তারা। থাইল্যান্ড সরকার তাদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গত ৩ জুলাই দু’জন ব্রিটিশ ডুবুরি গুহার বেশ কয়েক কিলোমিটার ভেতরে গিয়ে প্রথম তাদের খুঁজে পান। এরপর তাদেরকে খাবার ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ করা হচ্ছে অক্সিজেন।

আজ (৮ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় উদ্ধারকারীদের একটি দল গুহার ভেতরে রওয়ানা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উদ্ধার অভিযানের প্রধান কমান্ডার নারোংসাক ওসোটানাকোর্ন। তিনি জানিয়েছেন, ছেলেদের মনোবল শক্ত আছে, তারা যেকোন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। ওই কিশোররা বাইরে বেরিয়ে আসতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিশোরদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ডুবুরিদেরকে সঠিকভাবে এ সংকীর্ণ গুহাটি পাড়ি দিতে হবে। প্রতিজন কিশোরের সঙ্গে দুজন করে ডুবুরি থাকবেন। পুরো গুহার বিভিন্ন জায়গায় বাড়তি অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে যাতে কোনভাবেই যাত্রাপথে অক্সিজেন সংকটে পড়তে না হয়। বিবিসির একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ১৫ দিন ধরে গুহায় আটকে থাকা কিশোরদেরকে নিয়ে ফেরার পথে গুহার একটি জায়গায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হবে। পরে সেখান থেকে শেষ দফা যাত্রায় তাদেরকে বাইরে বের করে আনা হবে। বাইরে বের করে আনার পর সোজা হাসপাতালে পাঠানো হবে কিশোরদের।

আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, অভিযানের শুরুতে পানির নিচে সংকীর্ণ পথ পাড়ি দিতে হবে কিশোরদের, যেটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে কিশোরদের বের করে আনার সময় থেকে তাদের দীর্ঘ সময় অক্সিজেন মাস্ক পরে পানির নিচে ডুব দিতে হবে। এ ধরণের অভিজ্ঞতা তাদের কারোরই আগে ছিল না। গুহার প্রবেশপথ থেকে ‘তৃতীয় চেম্বার’ বা অভিযান শুরুর এলাকার দিকে যেতে হলে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে উদ্ধারকারীদের। এ পুরো পথটুকু পুরোপুরি শুকনো নয়, তবে বেশিরভাগটাই হেঁটে পার হওয়া যাবে। আর ‘তৃতীয় চেম্বার’ থেকে শিশুদের কাছে পৌঁছাতে হলে তাদেরকে যেতে হবে আরও ১.৭ কিলোমিটার। ওসাতানাকর্ন জানান, ‘গতকাল পানির উচ্চতা সবচেয়ে কম মাত্রার ছিল।’ তবে ওই কিশোরদেরকে তৃতীয় চেম্বারে আসতে ১.৭ কিলোমিটার পথ পুরোটা সাঁতরে আসতে হবে কিনা তা জানাননি ওসাতানাকর্ন। তিনি বলেছেন, বেশিরভাগ পথই হেঁটে পার হওয়ার উপযোগী। শনিবার থেকে পানির উচ্চতা ৩০ সেন্টিমিটার কমেছে। উদ্ধার অভিযানের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ওসাতানাকর্ন বলেন, ‘প্র¯ুতির মানে হলো, অনুকূল আবহাওয়া, পানি ও বাচ্চাদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি।’

একদিন আগে শনিবার নারোংসাক ওসোটানাকোর্ন জানিয়েছিলেন, অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গুহার ভেতরে তাদের আর বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব হবে না। সর্বোচ্চ তিন থেকে চারদিন সময় পাওয়া যাবে। এর মধ্যেই কিশোরদের বের করে আনতে হবে। তবে বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে, তা কিশোরদের উদ্ধারের জন্য আদর্শ বলে জানিয়েছেন তিনি। নারোংসাক ওসোটানাকোর্ন বলেন, ‘আমাদের প্রধান বাধা দুটি : পানি এবং সময়। সেই প্রথম দিন থেকেই আমরা এ দুটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছি। আমাদের সম্ভব সবকিছু করতে হবে। যদিও প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটা কঠিন। কিশোরদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য সঠিক সময়ের ও সুযোগের দরকার ছিল। আমরা সবাই এ সময়টার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’

আটকে পড়া কিশোরদের ও তাদের পরিবারকে উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ থাইল্যান্ড স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ প্রথম কিশোরকে বের করে আনা হতে পারে। কতজনকে আজ বের করা হবে, সেটা জানা না গেলেও উদ্ধারকারীরা বলছেন, যারা ‘শতভাগ প্রস্তুত’ তাদেরকেই আজ বের করা হবে। সেক্ষেত্রে আজকে চারজনকে বের করা হতে পারে। ইতোমধ্যেই উদ্ধার অভিযানস্থল থেকে চিকিৎসক, উদ্ধারকারী ও নিরাপত্তারক্ষাকারী সদস্য ছাড়া বাকি সবাইকে বের করে দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অভিযান ঘোষণা করার পর থাই নেভি সিলের ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে উদ্ধারকারীরা একে অপরের হাত ধরে আছেন। গুহার প্রবেশ মুখে নতুন একটি সাদা পতাকা ওড়ানো হয়েছে। ইতিবাচকতা প্রদর্শন করতে এটি একটি বৌদ্ধ চিহ্ন। পুরো থাইল্যান্ড ও বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষ এ উদ্ধার অভিযানের সফলতা কামনা করছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি