বৃহস্পতিবার ১৯ জুলাই ২০১৮



কোষ্টাল পার্ক হতে পারে বাকঁখালীর মোহনায়


আলোকিত সময় :
07.07.2018

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ বিশ্বে সর্বপ্রথম সফল উপকূলীয় বনায়নকারী দেশ। উপকূলীয় জনগণের আরও অধিক সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বন বিভাগ উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে ওঠা নতুন চরে ১৯৬৬ সাল থেকে ম্যানগ্রোভ বনায়ণ শুরু করে। আর কক্সবাজার শহরের অতি সন্নিকটে প্রকৃতির অপরূপ উপক‚লীয় বনায়ণের পাশে বিশাল চর ও কয়েক হাজার একর এলাকা জুড়ে উপকূলীয় বনায়ণে ঘেরা যেন প্রকৃতির হাতে গড়া একটি অনন্য সুন্দর দৃশ্য। দেখলে মনে হবে এটি যেন আরেকটি সুন্দরবন। স্থানীয়দের কাছে এটি মিনি সুন্দরবন নামে পরিচিত। এই সম্পদের সুষ্ঠ ও সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কোষ্টাল পার্কে রূপ দেয়া যেতে পারে- এমনটি দাবী করেছেন সচেতন এলাকাবাসী ও পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা। সর্বোপরি, সবুজ বেষ্টনী হিসেবে, উপকূলীয় এই বন প্রত্যক্ষভাবে ঘুর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ¡াসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন এবং সম্পদ বিপুল ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

কক্সবাজার আন্তর্জতিক বিমান বন্দরের উত্তর-পূর্ব ও নুনিয়ারছড়ার টুট্টাপাড়ার উত্তর পাশে এর অবস্থান। উপকূলীয় এই বন ও চরের পূর্বে পাশে রয়েছে বাকঁখালী নদী এবং উত্তর পাশে বঙ্গপোসাগর। ওই এলাকায় গেলে দেখা যায়, বিমান উঠা নামার মনোরম দৃশ্য, দূর থেকে দেখা মিলে মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপের। পশ্চিম পাশে রয়েছে নাজিরার টেক শুটকি পল্লী। এছাড়া কাছ থেকে দেখা মিলে নদী ও সাগরের মিতালীর বুক চিড়ে চলে যাওয়া নানা ধরণের জলযান চলাচলের মনোরম দৃশ্য। মোহনায় জেগে ওঠা চরে রয়েছে লাল কাঁকড়ার সমাহার। বিশাল প্যারাবনে রয়েছে বক, গাংচিল, ডাহুক, মাছরাঙ্গা, পানকৌড়ি, শালিক, দোয়েল, বুলবুলিসহ শতাধিক প্রজাতির পাখি।

কক্সবাজার পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক দীপক শর্মা দীপু জানান, বন বিভাগ কর্তৃক উপকূলীয় বনায়ণের সফলতা প্রত্যক্ষ করে সরকার উপকূলীয় ১২ লক্ষ ৩৬ হাজার একর (প্রায় ৫ লক্ষ হেক্টর) এলাকা বনায়ণের লক্ষ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এর নিকট হস্তান্তর ও বন আইনের ৪ ধারায় সংরক্ষিত ঘোষণা করেছে।

বন বিভাগ ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ হেক্টর (প্রায় ৫ লক্ষ একর) চরাঞ্চলে বনায়ণের মাধ্যমে নয়নাভিরাম উপকূলীয় বন প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ উপকূলীয় বনায়ণ কার্যক্রম। তবে পর্যটন জেলা হিসাবে জেগে ওঠা বিশাল এই চর ও প্যারাবনকে পর্যটন শিল্পে কাজে লাগিয়ে বিনোদনের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হওয়া যাবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি