মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮



ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক। কমিটি গঠনে আরেকটু সময় লাগবে


আলোকিত সময় :
05.07.2018

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বুধবার (৪ জুলাই) রাতে গণভবনে ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উপস্থিত থাকা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, সময় স্বল্পতার কারণে ৩২৩ জনের সবার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। ২৫০ জনের কথা শুনেছেন তিনি।

নেতারা জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছে জানতে চান, ছাত্রলীগের পদ-প্রত্যাশীদের নেতা হিসেবে কোনো পছন্দের নাম আছে কিনা। থাকলে প্রস্তাব করতে বলেন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতারা সবাই এক সাথে বলেন, ‘শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’।

এরপর প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, আমি যে সিদ্ধান্ত দেব তোমরা তা মেনে নেবে? তখন নেতারা আবার জানান, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সভায় উপস্থিত নেতারা আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী পদ-প্রত্যাশীদের কাছে দুটি প্রশ্ন করেছিলেন তিনি। একটি হচ্ছে – তোমাদের মধ্যে এত প্রার্থী কেন? অপরটি হচ্ছে, তুমি প্রার্থী কেন?
এসময় পদ-প্রত্যাশীরা বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সামনে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ভূমিকা, বর্তমান নেতাদের ভূমিকা, সংগঠনের নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া, নেতৃত্বের ব্যর্থতা, দলের কোন্দল ইত্যাদি। তবে ছাত্রলীগের নেতারা তাদের বক্তব্যে সংগঠনের নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও বর্তমান নেতৃত্বের দুর্বলতা নিয়েই বেশি কথা বলেন। এ সময় বক্তব্য দেয়ার আগ্রহীর সংখ্যা বেড়ে গেলে মাইক নিয়ে টানাটনি হয়। এতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

ছাত্রলীগ নেতাদের বক্তব্য শুনে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ তো আওয়ামী লীগের চেয়েও সিনিয়র সংগঠন। এই প্রথম ৩২৩ জন পদপ্রার্থীর মত ঘটনা দেখলাম। এর আগে সাধারণত ৩ থেকে ৪/৫ জন প্রার্থী দেখে এসেছি আমরা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তোমরা এখানে অনেকজন। কিন্তু নেতা হবে মাত্র দু’জন। এতে তোমাদের কোনো আপত্তি আছে? তখন উপস্থিত সবাই বলে ওঠেন, ‘নেত্রী আপনি যাকে দায়িত্ব দেবেন আমরা তার নেতৃত্বেই কাজ করব। আপনার নির্দেশনা মেনে চলব। আপনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

এ সময় কমিটি গঠনের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো নাম আছে আমার কাছে। এইগুলো দেখতে সময় লাগবে।
ছাত্রলীগের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি সেই সকাল ৯টা থেকে ফাইল দেখা শুরু করেছি। তারপর সংসদে বক্তব্য রেখে এখানে এসেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তোমাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা আছে। এখন তোমরা খাবার খেয়ে যেতে পারো, না হয় নিয়েও যেতে পারো। এটাতো তোমাদেরই গণভবন।

ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, বয়স নিয়েও কথা বলেছেন কয়েকজন নেতা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে আরেকটু দেখতে হবে। তারপর কমিটি হবে। সময় লাগবে।

প্রসঙ্গত, এবার ছাত্রলীগের দুটি মূল পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিপরীতে ৩২৩ জন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া ব্যক্তি হিসেবে মোট ১৬৯ জন ফরম সংগ্রহ করেছেন। অনেকে আবার দুটি পদের বিপরীতে ফরম সংগ্রহ করেছেন। এসব নেতাকর্মীর বেশির ভাগ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি