শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮



কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে নতুন মানুষের পুরাতন ডায়লগ!


আলোকিত সময় :
04.07.2018

আব্দুল আলীম নোবেল :
কক্সবাজার পৌরসভার চলমান নির্বাচনকে ঘিরে মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে মোট ১০৪ জন প্রার্থী নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিল। ছেড়ে বা ঝড়ে গিয়ে প্রার্থীর সংখ্যা এখন ৯০ এর কোটায় এসে থেমেছে। গত কয়েক দিনে ভোট প্রত্যাশী পৌর প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ দেখে মনে হয়েছে এরা জনসেবার মহান ব্রত নিয়ে নেমেছেন। বাস্তবে কতটুকু সেবার মনমানসিকতা আছে তা এরাই ভাল জানেন। দৃশ্যত দেখে বুঝা যায়, কারো কাছে এই পৌর নগরীর জন্য সমৃদ্ধ উন্নয়ণের কোন রোডম্যাপ নেই, নেই কোন পরিকল্পনা, এমনকি সুনির্দিষ্ট কোন প্রস্তাবনাও। তারা ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। ছোট বড় মহড়া তো কম দেখছিনা প্রতিদিন। ঠিক আগের নির্বাচনগুলোর মত মিথ্যা প্রতিশ্রæতির ফুলঝুরি। নতুন মানুষের পুরাতন ডায়লগ। মনে রাখবেন, এইসব লোক ঠকানো প্রতিশ্রæতি আমার-আপনার চেয়ে সাধারণ মানুষ ভাল বুঝে। গতবারে যারা ছিল তারাও এমনটি বলে সাধারণ মানুষের ভোট নিয়ে নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। কই তেমন কোন পরির্বতন তো আসেনি। জনসেবায় গরিব, অসহায়, নির্যাতিত, নিপিড়িত মানুষের কাছে কে কতটুকু ছিল তা কম জানে না পৌরবাসী। এবার রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থীর অংশ গ্রহণ বরাবরের চেয়ে একটু আলাদা বৈশিষ্ট্য হতে পারতো। কারণ এবারের বেশিভাগ প্রার্থী নতুন, বয়সে তরুণ এবং শিক্ষিত। এই জনপদের সচেতন নাগরিক আশা করেছিল তাদের নির্বাচন করার কৌশল হবে ভিন্ন, থাকবে নতুনত্ব। সাধারণ মানুষের সামনে গ্রাউন্ড লেভেলে চেপে থাকা অসংখ্য সমস্যার কথাগুলো কারো না কারো নির্বাচনী প্রতিশ্রæতির প্র¯াÍবনার মধ্যে ওঠে আসবে। যেটি নতুনদের করা উচিত ছিল। সেই কথাগুলো যদি প্রকাশ পেতো জনগণের সামনে মুখোশ খুলে যেতো দুর্নীতিবাজ, অযোগ্য, জনবিছিন্ন, ঠিকাদার র্মাকা জনপ্রতিনিধিদের।। প্রার্থীদের লক্ষ্যহীন দৌড়ে উন্নয়ণের মিথ্যা প্রতিশ্রæতির মহড়া দেখতে চাই না আমরা।

কার হাতে দায়িত্ব দিলে এই শহরের উন্নয়ণ হবে নতুন করে সিন্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে এবার। আগামী ২৫ জুলাই কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন। কক্সবাজার পৌরসভার জন্ম ১৮৬৯ সালে। সেই যাত্রার ১৪৮ বছর পার হলেও আশানুরূপ কোন পরির্বতন আজ পর্যন্ত দেখেনি কক্সবাজারবাসি। যেখানে ব্যাপক উন্নয়ণ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল সেই তুলনায় বলতে গেলে এই শহরে কিছুই হয়নি। সাধারণ মানুষের ম্যান্ডেড নিয়ে পরিবর্তনের ন্বপ্ন দেখিয়ে অনেক রথি-মহারথি চলে গেছেন। রেখে গেছেন অপরিচ্ছন্ন, অনিরাপদ, গিঞ্জি, অপরিকল্পিতও অনুন্নত একটি পৌরশহর। বর্তমানে যে পরিস্থিতি, পরিবেশ প্রতিবেশের কথা বাদই দিলাম, কক্সবাজার পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়ণের যে যাত্রা – তা আগামী প্রজন্মের বসবাসের জন্য হয়ে ওঠবে একটি বিষফোঁড়া। মাত্র ৩২.৯০ কিলোমিটার আয়তনের কক্সবাজার পৌসভায় ২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৭৭ জন বলা হলেও বর্তমানে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করছেন এই শহরে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা প্রায় ৮৪ হাজার।

একটি প্রবাদ আছে, কেউ আপনার সুখের দায়িত্ব নিয়ে বসে নেই। আপনার কাজই আপনাকে সুখ এনে দেবে। মনে রাখবেন, সময় যতই ভাল বা খারাপ হোক তা বদলাবেই। প্রাকৃতিক, নৈর্সগিক, ঐতিহাসিক এমনি বহু বিশেষণে বিশেষায়িত আমাদের এই কক্সবাজার। বর্তমানে কক্সবাজারের স্বল্প মেয়াদি অল্প পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে এর অগ্রযাত্রা ভাবিয়ে তুলছে চিন্তাশীলদের। যোগ্য জনপ্রতিনিধিদেরকে বাদ দিয়ে, নগদ লাভের অলিক সুখের আশায় কিছু সরকারী বেসরকারী কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির উপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চাইছি আমরা। এখানেই আমাদের চিন্তা শক্তির বড় বিপর্যয়। দৃষ্টি শক্তি বদলালে বদলে যাবে জীবনমান। কথায় কথায় আমরা দিবাস্বপ্ন দেখি। সুখসমৃদ্ধ অনন্য এক জনপদের স্বপ্ন দেখি। নিজেকে কি কোন দিন প্রশ্ন করে দেখেছি- এই নগরের উন্নয়ণের জন্যে, আগামী প্রজম্মের জন্য একটি বাসযোগ্য কক্সবাজার গড়তে আমি কতটুকু চিন্তা করেছি? আমার স্বপ্ন, আমার প্রত্যাশা, আমার মননের কতটা অংশগ্রহণ আছে এখানে। জানি, এমন প্রশ্নের বেশির ভাগ উত্তরই আসবে নেতিবাচক।

আমরা বড় বড় কথা বলে দোষ চাপাই পদস্থদের উপর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সুপরিকল্পিত,সমৃদ্ধ পর্যটন নগরী গড়তে সকলে হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁেধ কাঁধ মিলিয়ে নিরলস পরিশ্রম করতে হবে। এতে এগিয়ে যাবে আমাদের প্রিয় এই নগরী। বিশেষ করে অত্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠা নগরায়ণ মোটেও আমাদের জন্য সুখের নয়। পরিবেশ-প্রতিবেশের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা নেই কারো। যে যেভাবে পারছে অনিয়ম করে যাচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, অনিয়মের প্রতিযোগিতায় নেমেছি আমরা। আমি যদি নিজেই এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বের না হতে পারি, তাহলে কেউ আমাকে বের করতে পারবে না। সবার আগে নিজেকে সচেতন হতে হবে। এখানে কোন সুখ নেই। দৃশ্যত সাময়িক রং মাখানো সুখ দেখলেও বরাবরই চরম ক্ষতি করে চলছি আমার স্বজাতির। এ ক্ষেত্রে দেশপ্রেম জাগ্রত না হলে, কারো মাথায় কুড়াল মারলেও কাজ হবে না। আগামীর পরিকল্পিত কক্সবাজারের জন্য আজই পদক্ষেপ নিতে হবে।। আসুন শপথ নিই একটি সমৃদ্ধ ও সুপরিকল্পিত কক্সবাজার বিনির্মাণের। সবার আগে আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কেউ রাতারাতি আমাদের পরিবর্তন এনে দেবে না। পরিবর্তনের ডাক কাউকে না কাউকে দিতে হবে।
লেখক- সাংবাদিক ও সমন্বয়ক
পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলন
ফোন : ০১৮২৪৪০৩০৮৩



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি