শুক্রবার ২০ জুলাই ২০১৮



টান টান উত্তেজনায় ছাত্রলীগ
কে হচ্ছেন আগামী দিনের কান্ডারী ?


আলোকিত সময় :
04.07.2018

নিজস্ব প্রতিবেদক :

টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে।
কে হবেন আগামী দিনের ছাত্রলীগের কাণ্ডারী তা নিয়ে উত্তেজনার শেষ নেই। নতুন কমিটি প্রায় চূড়ান্ত, সবকিছু ঠিক থাকলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামের ঘোষণা আসতে পারে আজই।
বিগত সময়ে কমিটি ঘোষণার আগে কয়েকজন নেতার নাম ঘুরে ফিরে আলেচনায় আসলেও এবারের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। কেউই জানে না কে আসবেন নেতৃত্বে।

নেতাকর্মীদের রুদ্ধশ্বাস এই অবস্থায় আজ রাতে গণভবনে পদ প্রত্যাশীদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকের পর আজই ঘোষণা হতে পারে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব।

এবারই প্রথম সম্মেলনের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও নতুন কমিটি ঘোষণা হয়নি। নেতৃত্ব বাছাই নিয়ে চলছে নানা আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা। কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কথিত নেতা বানানোর সিন্ডিকেট। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগ কোন সিন্ডিকেটের হাতে থাকবে না। এছাড়া বিগত সময়ে একেকবার একেক অঞ্চলকে (যেমন- ফরিদপুর, উত্তরবঙ্গ, বরিশাল, চট্টগ্রাম) প্রাধান্য দিয়ে নেতা বানানো হলেও এবার তা থাকবে কি না এ নিয়েও সংশয় রয়েছে।

এদিকে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও তাকিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে। সবার মাঝেই এবার বিরনাজ করছে অন্নœ রকমের এক উত্তেজনা। বিগত সময়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেও কারা নেতৃত্বে আসছে তা আগেই প্রচার হয়ে যেত। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে ছাত্রলীগের কমিটির দেখভাল করছেন বিধায় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি কারা আসছেন নতুন নেতৃত্বে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পদপ্রত্যাশীদের খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ নেতাদের তদবিরে যারা এগিয়ে আছেন তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে এগিয়ে রয়েছেন কিনা তা বলতে পারছে না কেউ। তাই কোন্ কোন্ নেতারা এগিয়ে আর কারা পিছিয়ে তা খোদ দলের নেতারাও জানেন না। ছাত্রলীগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের কমিটি নিজ হাতে দেখছেন। তিনি যাদের ভাল মনে করবেন তাদেরকেই নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন।

বর্তমান কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ২০১৫ সালের ২৬ ও ২৭ জুলাই সংগঠনটির ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর প্রায় ২ বছর ৯ মাস পর গত ১১ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১২ মে দ্বিতীয় অধিবেশনে ভোটের পরিবর্তে সমঝোতার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরিফুর রহমান লিমনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগের শীর্ষ দুটি পদের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৩২৩ জন। যারা ফরম সংগ্রহ করেছেন তাদের সকলকেই সন্ধ্যায় গণভবনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে সম্মেলনকে সামনে রেখে চলছে নিজেকে ত্যাগী ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান প্রমাণ করার প্রতিযোগিতা। এর সঙ্গে সমানতালে চলছে একে অন্যকে জামায়াত-শিবির, ছাত্রদলের কর্মী প্রমাণ করার কাঁদা ছোড়াছুড়ি। এর মধ্যেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজন, সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, সহ-সভাপতি আদিত্য নন্দী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লালন, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ আরিফিন, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম, উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান আল ইমরান, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, সহ-সম্পাদক খাদিমুল বাসার জয়, কর্মসূচী ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসেন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু, উপ-স্কুলছাত্র বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার বৈদ্য।

নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, যারা যোগ্য, মেধাবী, নিয়মিত ছাত্র, ভালো সংগঠক, যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবে, শেখ হাসিনার ভিশনকে বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং আগামী দিনের যে কোনো দুঃসময় মোকাবেলা করতে পারে এমন যোগ্যতা সম্পন্নরা নেতৃত্বে আসবে।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানান, কমিটির নতুন নেতাদের সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়েও দিতে পারেন শেখ হাসিনা। অথবা কমিটি পরে ঘোষণা করতে পারেন। এব্যাপারে নেত্রীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

তবে আজ কী হতে যাচ্ছে সেব্যাপারে ধারণা নেই বিদায়ী ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সকলকে আজ ডেকেছেন। তিনি কী সেখানে ৩২৩জন সকলের সঙ্গে কথা বলবেন, নাকি শুধু আমাদের উদ্দেশ্যে কথা বলবেন এটা একমাত্র তাঁর সিদ্ধান্ত।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডেকেছেন। আমরা আশা করছি, সেই কমিটি তিনি হয়তোবা সেখানেই উপহার দেবেন।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে অনেক যাচাই-বাছাই হয়েছে। অনেক কাজ করতে হয়েছে। এ বিষয়ে অনেক তদন্ত করতে হয়েছে। কিন্তু এখন তা ফাইনাল স্টেজে আছে। আশা করি শিগগিরই এ কমিটি হবে।’

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিও ঘোষণা করা হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি