রবিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮



৫০ হাজার টন সার খোলা আকাশের নিচে


আলোকিত সময় :
29.06.2018

খুলনায় বিএডিসি’র পাঁচটি গুদামে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত সার আমদানি হয়েছে ছয় মাস আগে। বিএডিসি’র আমদানি করা নন ইউরিয়া সার রাখা হয়েছে ভৈরব নদের তীরে রুজভেল্ট জেটি, খুলনা ওয়াসা ভবনের সামনে ও শিরোমনি এলাকায়। খোলা আকাশের নিচে রাখা এ সারের পরিমাণ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। সৌদি আরব, মরক্কো, কানাডা, বেলারুশ ও তিউনিশিয়া থেকে এই সার আমদানি করা হয়। মংলা বন্দর থেকে খুলনা নগরীতে আনা পরিবহণ ঠিকাদারকে সার রাখা বাবদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মাসের পর মাস ভাড়া গুণতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বোরো আবাদ শেষ হয়েছে তিন মাস আগে। এক মাস পরে আমনের আবাদ শুরু হবে। চিংড়ি ঘেরছাড়া অন্য কোনো ফসলে এখন নন ইউরিয়া সারের ব্যবহার নেই। চাহিদার চেয়ে বেশি সার আমদানি হয়েছে ছয় মাস আগে থেকে। মরক্কো ও তিউনিশিয়া থেকে টিএসপি, কানাডা ও বেলারুশ থেকে এমওপি, সৌদি আরব ও মরক্কো থেকে ডিএপি সার আমদানি করা হয়।
বিএডিসি খুলনার সূত্র জানায়, বিএডিসির’র আমদানি করা সার মংলা বন্দর থেকে বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, নবাব এন্ড কোম্পানি, এসএস শিপিং ও নওয়াপাড়া ট্রেডার্স পরিবহণ ঠিকাদার হিসেবে খুলনা নগরীর রুজভেল্ট জেটিতে নিয়ে আসে। গুদামে স্থান না থাকায় মংলা বন্দর থেকে তাদের আনা সার মজুদ করা সম্ভব হয়নি। সে কারণেই তারা খোলা আকাশের নিচে সার মজুদ করেছে।
পরিবহণ ঠিকাদার নওয়াপাড়া ট্রেডার্সের কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিএডিসির কর্মকর্তারা সার বুঝে না নেওয়ায় সামনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। সার নষ্ট হলে বিএডিসিকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মংলা বন্দর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের পরিবহণকৃত ২ লাখ ব্যাগ নন ইউরিয়া সার রুজভেল্ট জেটিতে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে। এ স্থানের ভাড়া বাবদ মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে ৪৫ লাখ টাকা করে গুণতে হয়। এ অবস্থা চলছে চার মাস যাবৎ।
পরিবহণ ঠিকাদার এসএস শিপিং’র কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, মংলা বন্দর থেকে নিয়ে আসা ১৫ হাজার মেট্রিক টন নন ইউরিয়া সার শিরোমনিতে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ মুহূর্তে সার খুলনার বাইরে পাঠাতে পারছে না। কারণ: উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে আমন আবাদে আগস্টের আগে সার ব্যবহার হবে না। শিরোমনিতে সার রাখা বাবদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাসে ২ লাখ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে।
নাগরিক নেতা শেখ মো. আইনুল হক জানান, খুলনা ওয়াসা ভবন এলাকায় নন ইউরিয়া সারের রাসায়নিক দ্রব্য বাতাসের সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে সার মিশ্রিত পানি পার্শ্ববর্তী পুকুর ও জলাশয়ে পড়ে মাছের ক্ষতি করছে। এছাড়া ওই পানি ব্যবহারে মানবদেহে ত্বকেরও ক্ষতি করছে। তিনি লোকালয় থেকে এ সার সরিয়ে অন্যত্র রাখার দাবি জানান।
বিএডিসি খুলনার যুগ্ম পরিচালক (সার) প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, শিরোমনি গুদামের ধারণক্ষমতা ৭ হাজার মেট্রিক টন। গুদামের চত্বরসহ সেখানে সাড়ে আট হাজার মেট্রিক টন সার মজুদ করা হয়েছে। রুজভেল্ট জেটি এলাকার গুদামে তিন হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার স্থলে চত্বরসহ গুদামে সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন মজুদ করা হয়েছে। বয়রাস্থ গুদামে আড়াই হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা। সেখানে আড়াই হাজার মেট্রিক টনই আছে। সার ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাতাস ও পানি স্পর্শ করার সম্ভাবনা নেই।
অন্যান্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, বোরো ও আমন মৌসুমে নন ইউরিয়ার চাহিদা খুবই কম। শীতকালীন শাক-সবজিতে নন ইউরিয়ার প্রয়োজন হয়।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি