শুক্রবার ২০ জুলাই ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » লিড ১ » বন্যা পরিস্থিতি অবনতি , পানিবন্দী ২ লক্ষাধীক মানুষ : নিহত -৩



বন্যা পরিস্থিতি অবনতি , পানিবন্দী ২ লক্ষাধীক মানুষ : নিহত -৩


আলোকিত সময় :
16.06.2018

তানভীর আঞ্জুম আরিফ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

আবারো অবনতির দিকে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি।

মৌলভীবাজার শহরের সবাই নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার জন্য মাইকিং করে আহ্বান জানিয়েছেন পৌর মেয়র। কমলগঞ্জে পানি স্রুতে নিখোঁজ হওয়া একই পরিবারের ২ জনসহ ৩ জনের লাশ উদ্বার করেছেন পুলিশ।

আরো বেড়েছে মনু নদীর পানি, শনিবার দুপুরে চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদ সীমার ১৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চরম ঝুকিতে পড়েছে মৌলভীবাজার শহর রক্ষাবাধ। শহরের সাইফুর রহমান রোডের অন্তর ২০ টি জায়গা দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি ঢুকছে শহরে। বন্ধ রয়েছে সাইফুর রহমান রোডের যান চলাচল।

শুক্রবার দিবাগত রাতে সেনাবাহিনীর ৬ সদস্যের দল পর্যবেক্ষণ শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড কে বাধে বালির বস্তা ফেলতে বলে। রাত থেকেই কয়েক হাজার বালুর বস্থা শহর রক্ষা বাধে ফেলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ জালাল, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহ প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী পার্থসহ গণমাধ্যম কর্মীরা।

গত রাতে সেনাবাহিনী ৬ সদস্যের অগ্রবর্তী দল পর্যবেক্ষণ শেষ আজ শনিবার দুপুরে ৬০ সদ্যসের টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

১৬ জুন (রবিবার) দুপুরে মৌলভীবাজার শহর রক্ষা বাধে কাজ করতে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে।

মনুনদের পানি গতকাল রাতের বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার থেকে বেড়ে শনিবার দুপুরে ১৫৯ সেন্টিমিটারে পৌছেছে।
এ দিকে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর এবং শমেশরনগরে বন্যার পানির স্রোতে গতকাল রাতে নিখোঁজ হওয়া বাপ ছেলে সহ তিন জনের মরদেহ উদ্বার করেছে কমলগঞ্জ পুলিশ। জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমদুল হক।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শাহবন্ধর থেকে শেরপুর পর্যন্ত ঢাকা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ৩০ টি জায়গা দিয়ে প্রতিরক্ষা বাধ উপচে পানি ঢুকছে। হাজার হাজার এলাকাবাসী ঈদের আনন্দ রেখে রাস্থায় নেমে এসেছে নিজ নিজ উদ্যোগে বালুর বস্থা ফেলে প্রতিরক্ষা বাধ মেরামতের চেষ্টা করছে। সকাল ১১ টা থেকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়েছে একালাবাসী।

মনু নদের পানি শহর রক্ষা বাধের ভিতরে শহর থেকে ৫ ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী পার্থ জানিয়েছেন, আর মাত্র ৫ ইঞ্চি পানি বাড়লেই শহর রক্ষা বাধের উপর দিয়ে উপচে পানি ঢুকবে।

এদিকে প্লাবিট হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। অন্তত ২ শ গ্রাম পানি বন্ধি অবস্থায় ঈদ পালন করেছে। উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে দেশে বিদেশের জেলাবাসী। প্রবাসীরা স্বজনদের চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন বারবার ফোন দিচ্ছেন স্বজন এবং গনমাধ্যম কর্মীদের।

শনিবার দুপুরে শহর তলির মাতার কাপন এলাকায় মনু নদীর ভাংগন দেখা দিয়েছে এতে

জেলার কমলগঞ্জ থানা রক্ষায় ১ হাজার বালুর বস্থা পাটিয়েছে পাউবো।

পাউবো জানিয়েছে ইতি মধ্যে ২০ হাজার বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে মনু এবং ধলাই নদির প্রতিরক্ষা বাধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রক্ষা করতে।

হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ থেকে আরো বস্তা মৌলভীবাজারে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন পাউবোর মহা পরিচালক মো. মাহফুজ রহমান।

এ দিকে শুক্রবার বিকেল থেকে রাজনগর এবং কুলাউড়ায় সেনাবাহিনী প্লাবিত এলকায় উদ্বার তৎপরতা কার্যক্রম শুর করে দিয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, কুলাউড়া এবং রাজনগরে সেনাবাহিনী প্লাবিত এলাকায় কাজ করছে, শহর রক্ষা করতেও কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরো জানান, মৌলভীবাজারে ১৫ টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাধ ভেঙে ২ লক্ষ মানুষ পানি বন্দী। ৫৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী মজুদ আছে এবং বিতরণ করা হচ্ছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি