মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮



ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে
শহর জুড়ে বন্যার আতঙ্ক


আলোকিত সময় :
15.06.2018

তানভীর আঞ্জুম আরিফ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের মনু নদের পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে উজানের পানি এসে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধে আঘাত আনছে। ফলে মূল শহর ও তার আশপাশের অন্তত ২০টি স্থানে বাঁধ চুঁইয়ে পানি বের হচ্ছে। এমতাবস্থায় পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে পানি আরেকটু বাড়লে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করতে পারে।

সরেজমিনে আজ শুক্রবার (১৫ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ততম এ সড়কের ৩ ফুট উপর স্তরে প্রতিরক্ষা বাঁধের ভেতরে পানি প্রবাহিত হয়ে। শহরের এম সাইফুর রহমান রোডে মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের ১৬টি স্থান দিয়ে চুঁইয়ে শহরে পানি প্রবেশ করছে। ফলে সকাল থেকেই শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কে যান চলাচল জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । এরই মধ্যে নদের নিকটবর্তী কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে দোকানের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। এমন অবস্থার মধ্যে হালকা বৃষ্টিপাত তাদের মধ্যে আরও ভয় তৈরি করেছে।
এম সাইফুর রহমান রোডের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তারা এই প্রতিবেদককে জানান , প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর এই রোডে প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগ অনেক পুরাতন স্থাপনা। নদীর পানি আর বাড়তে থাকলে যেকোন সময় বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খেয়াঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মাদক লাল রায় জানান, পানি একটু একটু করে নদ থেকে রাস্থায় গড়িয়ে যাচ্ছে। আমাদের দোকানে ঢুকছে। বাঁধ ভেঙে গেলে সারা শহর ডুবে যাবে।

স্টাইল পয়েন্টের স্বত্ত্বাধিকারী তপন দাস জানান , ২ দিন থেকে বাঁধ চুঁইয়ে পানি বের হচ্ছে। আজ সন্ধ্যার পর থেকে ব্যাপক হারে শহরে পানি প্রবেশ করছে। পানির স্থর শহরের অনেক উপরে রয়েছে। অনেক পুরাতন বাঁধ এটি সুতরাং কখন কি হয় বলা মুশকিল।

একই রোডের ব্যবসায়ী জাহেদ হোসেন জানান , বাঁধের পাশেই আমার বসত ঘর। ঘরের ভেতর বিকেল পর্যন্ত হাঁটু জল ছিল। সন্ধ্যার পর থেকে হু হু করে জল বেড়ে কোমর পর্যন্ত হয়েছে। বিগত ১০ বছরে এরকম পানি হয়নি।

এদিকে, উজানের পানি নিচ দিয়ে দ্র্রুত বেগে নামার ফলে শহর ও শহরতলীর আরো ৮টির বেশি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সব থেকে ঝুঁকিতে রয়েছে সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট, দুর্লভপুর ও কসবা এলাকা।

এছাড়া উপজেলার কামালপুর থেকে মোমরুজপুর পর্যন্ত কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ইতোমধ্যে চাঁদনীঘাট থেকে মনুব্যারেজ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর অবস্থিত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকাবাসী। এই এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নিচ দিকে অনেকাংশ ধেবে গেছে। স্থানীয়রা বাঁধটি টিকিয়ে রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। একই অবস্থা কসবা এলাকায়। স্থানীয়রা রাত জেগে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে মনু নদে সর্বোচ্চ বিপদসীমা ১৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড হয়েছে। যা বিগত ১১ বছরের সর্বোচ্চ পানি প্রবাহ ছিল। তবে শহরের অংশে পানি কম ছিল। মনুর কয়েকটি ভাঙন দিয়ে পানি গ্রামাঞ্চল প্রবাহিত হওয়ার পর সে পানি পুনরায় নদে পড়ছে। ফলে নদীর পানি উজান থেকে নেমে নিম্নাঞ্চলে প্রভাব ফেলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, রাত ১০ টা পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ১৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সাইফুর রহমান রোডের গার্ড ওয়াল পুরাতন হওয়াতে বিভিন্ন
ফাঁক দিয়ে পানি ঢুকছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ৩ আসনের সাংসদ ও প্যানেল স্পিকার সৈয়দা সায়রা মহসনি এম,পি, জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম , পৌর মেয়র ফজলুর রহমান সহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি আরও বাড়লে শহর রক্ষায় বিকল্প কিছু ভাবা হবে বলে জানান তারা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি