বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮



সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদ বাজার


আলোকিত সময় :
14.06.2018

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে পরিবার পরিজনদের জন্য পোশাক কিনতে নেজা প্লাজা ,লতিফ প্লাজা, দোজা বিপণী বিতান ,ইউনাইটেড প্লাজা, সুরমা মার্কেট বস্ত্র বিতান ও কসমেটিক্সের দোকানগুলিতে বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার ক্রেতারা এখন ব্যস্ত। সুনামগঞ্জে গত বছর বন্যার পানিতে বোরো ফসল সম্পূর্ণ তলিয়ে যাওয়ায় হাওরপাড়ের লোকদের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গিয়েছিল। দোকান গুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় ছিল না। এবছর ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার লোকজন এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রোজার ঈদকে সামনে রেখে প্রতিটি পরিবারে তাই আনন্দেও জোয়ার বইছে। কেনাকাটা করতে গার্মেন্টসের দোকান, জুতার দোকান ,কসমেটিক্স ও অন্যান্য দোকানগুলোতে জমে উঠেছে ঈদের বাজার।

এবারের ঈদে পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি- ক্রেতারা এমন অভিযোগ করলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন অত্যাধুনিক ডিজাইনের পোশাক আনায় দামও একটু বেশি। জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদে নতুন পোশাক কিনতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপণিবিতানগুলোতে ছুটছে সব শ্রেণীর-পেশার মানুষ। দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে আয়ের সঙ্গে মিল রেখে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। তবে প্রতিটি দোকানে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে মহিলা ক্রেতার সংখ্যা বেশি। শুধু বড়রাই নয়,পছন্দমতো পোশাক কিনতে শিশুদের নিয়েও দোকানে ভিড় করছেন মা-বাবা। এবারের ঈদেও নতুনত্বের ছোঁয়া এসেছে বাজারে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দোকানে রাখা হয়েছে নতুন নতুন ডিজাইনের নানা রঙের পোশাক। এসব পোশাকের পাশাপাশি নিত্যনতুন জুতা-স্যান্ডেলের প্রতিও চাহিদা রয়েছে বেশ। এবারের ঈদে বিক্রেতারা নতুন ডিজাইনের অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম ইচ্ছা মত বাড়াচ্ছে বলে অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেন। বাড়তি দামের কারণে ছেলেমেয়েদের চাহিদা পূরণ করতে মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত পরিবারগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যেই টেইলার্সগুলোতে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। থান কাপড়ের বেচাকেনা কম হলেও রেডিমেড জামাকাপড় কিনতে ক্রেতারা ভীড় জমাচ্ছেন গার্মেন্টসের দোকানগুলোতে।

আর যাদের ঘর বাড়ি নেই, রাস্তা এবং অফিস, আদালত পাড়ার বারান্দা যাদের আশ্রয় স্থল, সে সমস্ত সুবিধা বঞ্চিত আশ্রয়হীন শিশু-কিশোররা তাকিয়ে আছে সমাজের বিত্তবানদের দিকে। পথশিশু রসুল , রফিক, আলীরাজ, আলী হোসেন এদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘স্বপ্ন ডানা’ নামে একটি সংগঠন প্রতি ঈদে তাদের সাহায্য করে। বড় লোকেরা তাদের দেখে না। ঈদের জামা কাপড় ভাগ্যে জুটবে কি না তা তারা এখনো জানে না। বিত্তবান লোকদের ইচ্ছার দিকে চেয়ে আছে আশ্রয়হীন এই সব শিশু-কিশোররা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি