বৃহস্পতিবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » জেলা » মৌলভীবাজারে পাকিং বিহীন শতাধিক শপিং মহল
    তীব্র যানজটে শহরবাসী



মৌলভীবাজারে পাকিং বিহীন শতাধিক শপিং মহল
তীব্র যানজটে শহরবাসী


আলোকিত সময় :
12.06.2018

তানভীর আঞ্জুম আরিফ , মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
আর কদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে স্বজনদের সাথে ঈদ উপভোগের জন্য নারীর টানে অনেকেই গ্রামের উদ্দেশ্যে শহর ছাড়ছেন। আবার কেউ কেউ হচ্ছেন শহরমুখী ।

ঘরমুখো মানুষের ফলে মৌলভীবাজারেও বাড়ছে জনসরগম। প্রবাসী অধ্যুষিত এবং পর্যটন খ্যাত জেলার বাসিন্দাদের কাছে এমবি কথ স্টোর বেশ পরিচিত। টেইলারিং ও জুতা থেকে শুরু করে এখানে পাওয়া যায় সব ধরনের পণ্যসামগ্রী। ফলে এখানে প্রবাসী ক্রেতাদের ভিড় থাকে সব সময়। ওই শপিং মলটি সেন্ট্রাল রোডের পশ্চিমবাজার এলাকায় রাস্থার পাশে। যার নেই কোনো নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা বাধ্য হয়ে রাস্থার পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রাইভেটকার দাড় করিয়ে কেনাকাটা করছেন।

মৌলভীবাজার শহরের ব্যস্থতম সেন্ট্রাল রোডে রয়েছে শতাধিক শপিং মল, ব্যাংক-বীমা, বস্ত্র বিতান, রেস্টুরেন্ট, বিভিন্ন কোম্পানির শো-রুমসহ বড় বড় শপিং মল এবং বহুতল ভবন। এগুলোর কোনোটিতেই নেই নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। বিদেশি ও দূরদুরান্ত থেকে আগত ক্রেতারা রাস্থায় গাড়ি রেখে কেনাকাটা করছেন। ফলে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলে অন্যান্য বছরের মতো এবারও তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের এই যানজট নিরসনে কর্তৃপরে নেই কোনো কার্যকরী পদপে।

দীর্ঘদিনের সভা-সমাবেশ ও বৈঠকের কোনো ফলাফল পায়নি জনগণ। বরং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাস্থায় চলছে ব্যবসায়ীদের এই পার্কিং ব্যবস্থা। জনগণের চরম দুর্ভোগ প্রশাসনের অনেকেই দেখেও না দেখার ভান করছেন। এ পরিস্থিতিতে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ।
যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এসব শপিং মলগুলোর সামনের রাস্থার প্রায় অর্ধেক দখল হয়ে যায়। ফলে পাঁচ মিনিটের ওই রাস্থা অতিক্রম করতে হয় ৩০ মিনিটে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতারা। মৌলভীবাজারের কোর্ট রোড ও সেন্ট্রাল রোডে বিভিন্ন ধরণের দোকান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাত্রীরাও এই রোড দিয়ে বেশি চলাচল করেন। ফলে তীব্র যানজট লেগে থাকে সবসময়।
বরং অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই রাস্তায় উপর চলছে ব্যবসায়ীদের এই অবৈধ পার্কিং ব্যবস্থা। অনেকেইে এসব দেখেও না দেখার বান করছেন। এনিয়ে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার বাসিন্দাদের কাছে এমবি কথ ষ্টোর ও বিলাস ডিপাটমেন্টাল ষ্টোর একই নামে পরিচিত। টেইলারিং ও জুতা থেকে শুরু করে এখানে পাওয়া যায় সব ধরনের পণ্য সামগ্রি। যার কারণে এখানে প্রবাসী ক্রেতাদের ভীড় থাকে সব সময়। ওই শপিং মহল দুটি সেন্ট্রাল রোডের পশ্চিমবাজার এলাকায় রাস্তার দু-পাশে একটির বিপরীতে অন্যটির অবস্থান। তাদের নেই কোন নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। যার কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রাইভেট গাড়ি দাঁড় করে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। শপিং মহল দুটি মুখামোখি থাকায় উভয় দোকানের গাড়িতে যাত্রী চলাচলের রাস্তার প্রায় অর্ধেক দখল হয়ে যায় ক্রেতাদের পার্কিংয়ে। ফলে ক্রেতাদের ৫মিনিটের ওই রাস্তা অতিক্রম করতে ব্যায় হয় ৩০ -৪০ মিনিটে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পুহাচ্ছেন ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের।

মৌলভীবাজারের সেন্ট্রাল রোডে সবধরনের দোকান এবং অন্যান্য প্রতিষ্টান অবস্থিত। তাই যাত্রীরাও এই রোড দিয়ে বেশি চলাচল করেন। যার ফলে তীব্র যানজট লেগে থাকে সবসময়। দুর্ভোগ পুহাচ্ছেন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে আসা হাজার হাজার যাত্রী।

১১ জুন (মঙ্গলবার) সরেজমিনে শহরের চৌমুহনী পয়েন্ট থেকে সেন্ট্রাল রোড প্রদণি করলে দেখা যায়, এমবি কথ স্টোর,বিলাস ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর সহ শহরের চৌমুহনী এলাকায় পাঁচতলা বিশিষ্ট আঁখি প্লাজা, তিনতলা বিশিষ্ট ওয়াছির প্লাজা, চারতলা বিশিষ্ট আহমদ ম্যানশন, বিশিষ্ট জুলিয়া শপিং সিটি, বউরাণী বিউটি পার্লার, হোসেইন মার্কেট হাজি মন্তাজ মিয়া ম্যানশন, শরিফ ভিলা হাজেরা ভবন , হোসেন ম্যানশন, পশ্চিমবাজার এলাকায় তিন তলা বিশিষ্ট রহমান প্লাজা, সাত তলা বিশিষ্ট ওয়েষ্ট পয়েন্ট, দুই তলা বিশিষ্ট সেলিনা স্টাইল, ছয় তলা বিশিষ্ট কবির টাওয়ার, সেন্ট্রাল রোডের লট্ট শো-রুম, এপেক্স জুতার শো-রুম, সেরা টাউন প্লাজা, শাপলা ম্যানশন, দশ তলা আরণ টাওয়ার ও জেক্স টেক্সটাইলসহ রয়েছে আরও একাধিক ভবন ও দোকান।
সেসব ভবনের নেই কোনো নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। এ সকল বহুতল ভবনে শতাধিক শপিং মল, ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের রয়েছে।
ক্রেতারা বাধ্য হয়ে যাত্রী চলাচলের রাস্থার পাশে গাড়ি পার্কিং করে কেনাকাটা এবং ব্যাংক লেনদেন করছেন। রাস্থায় সৃষ্টি হয় চরম যানজট । ফলে চৌমুহনী হতে কুসুমবাগ যেতে ৫মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগে ৩০মিনিট।

এসময় ঈদের কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজন ক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, শপিং মহল গুলোতে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় আমরা স্বাচ্ছন্দভাবে কেনাকাটা করতে পারছিনা। একস্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে যাতায়াত করাও সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে আমাদেরকে অবর্ননিয় দূর্ভোগ পুহাতে হয়।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিণিয়ার আবুল হোসেন জানান, যে সময় এই শপিং মহল গুলো নির্মাণ করা হয় তখন আইনীভাবে পার্কিং রাখার বাধ্যবাধকতা ছিলনা। কিন্তু ২০০৯ সালের পরে যে সকল বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে সে গুলোতে পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

অপরদিকে শহরের বিভিন্ন ফুটপাত সাধারণ মানুষের নিরাপদ পথ চলাচলের জন্য করা হলেও তা আবার ছোটখাটো হকারদের কারণে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও অবৈধ স্ট্যান্ড থাকার কারণে যানজট বেশি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। মাঝে মধ্যে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ হলেও কিছুদিন পর তা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।

অন্যদিকে নিজেদের লোকবল ও সার্বিক সীমাবদ্ধতা থাকার পরও শহরের সবগুলো সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে ট্রাফিক বিভাগও হিমশিম খাচ্ছে। প্রচন্ড রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা নিজের ঘাম ঝরিয়ে এসব যানজট থেকে শহরকে সাভাবিক রাখতে ও মানুষের নিরাপদ পথচলার পথ প্রশস্ত্র করতে কাজ করছেন।

মৌলভীবাজার শহরে দ্বায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সার্ব ইন্সপেক্টর আবুল কালাম জানান, মৌলভীবাজার শহরে হঠাৎ করে যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে, চালকদের অসেচতনতা, আইনকানুন না মেনে নাগরীকদের নিজেদের খোয়ালখুশি মতো যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং।
তিনি আরও জানান, বিপণী বিতান এমবি কথ ষ্টোর ও বিলাস ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ শহরে বড় বড় শপিং মলগুলোতে নেই কোনো পার্কিং ব্যবস্থা। পাশাপাশি শহরে সড়কগুলোতে ধারণ মতার তুলনায় বেড়ে গেছে অতিরিক্ত যানবাহন। আর এসব কারণেই মূলত এই শহরে বাড়ছে যানজট।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি