মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » slide » পাহাড়ের পাদদেশে মৃত্যুর হাতছানি, ঝুঁকি নিয়ে তবুও বসবাস



পাহাড়ের পাদদেশে মৃত্যুর হাতছানি, ঝুঁকি নিয়ে তবুও বসবাস


আলোকিত সময় :
12.06.2018

বান্দরবান প্রতিনিধি,বশির আহমেদ:

পার্বত্য জেলাগুলোয় তিনদিনের বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই শঙ্কার মধ্যেই পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন লোকজন। সেখানে বাসিন্দারা পাহাড়ের মাটি কেটে গড়ে তুলেছেন আধাপাকা টিনের বাড়ি। ভারি বর্ষণে পাহাড়ের মাটি ধসে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে ব্যাপক প্রাণহানি।

বান্দরবান শহরের ইসলামপুর, লাঙ্গিপাড়া, হাফেজ ঘোনা,কালাঘাটা, বনরুপা,ক্যাচিং ঘাটাাসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শতাধিক পরিবার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পাহাড় ধস ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। এদিকে অবিরাম বর্ষণ অব্যহত থাকায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন ঝিরি, ছড়া দিয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। এ ছাড়া বান্দরবানের দণিাঞ্চল লামা, আজিজনগর, ফাসিয়াখালী, ফাইতং, গজালিয়া, নাই্যংছড়ির ঘুমধুম এসব এলাকায়ও পাহাড়ের পাদদেশে নতুন নতুন বসতি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে সাত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি গড়ে তুলেছে ৩০ হাজারেরও বেশি পরিবার। বসবাসের প্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা এবং বৃ নিধনের কারণে একের পর এক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে।

সরকারি তথ্য মতে, ২০০৬ সালে জেলা সদরে ৩ জন, ২০০৯ সালে লামা উপজেলায় শিশুসহ ১০ জন, ২০১০ সালে নাই্যংছড়ি উপজেলায় ৫জন, ২০১১ সালে রোয়াংছড়ি উপজেলায় ২জন, ২০১২ সালে লামা উপজেলায় ২৮ জন ও নাই্যংছড়ি উপজেলায় ১০ জন, ২০১৫ সালে লামায় ৪ জন, সিদ্দিকনগরে একজন ও সদরের বনরূপা পাড়ায় দুইজন এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৩ জুন সদরের কালাঘাটায় সাতজন এবং রমা সড়কে ২৩ জুলাই পাঁচজন পাহাড় ধসে মারা গেছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন জানান, টানা ২-৩ দিন বৃষ্টি হলেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনকে প্রশাসনের প থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়। পাহাড়ের পাদদেশে যারা থাকেন, বর্ষাকালে তাদের জন্য সেখানে থাকাটা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এত পরিবারকে একসঙ্গে পুনর্বাসন করাও প্রশাসনের পে হঠাৎ সম্ভব নয়।

পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে গত রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারে পাহাড়ের ঢাল, পাদদেশে এবং নিকটবর্তী স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সকল লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। রোববার (১০ জুন) রাতে পৌরসভার ৬ থেকে ১০ ও ১২ নং ওয়ার্ডে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নিদের্শ দেওয়া হয়। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা লোকজন নিজ ইচ্ছায় সরে না গেলে তাদেরকে সরিয়ে দিতে অভিযান চালাবে স্থানীয় প্রশাসন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি