সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮



নির্বাচনে অংশ না নিলে অস্তিত্ব বিলীন হবে বিএনপির


আলোকিত সময় :
12.06.2018

সাইফুর রহমানঃ

বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
১১ জুন (সোমবার) গুলিস্থান মহানগর নাট্টমঞ্চে শেখ হাসিনার কারা মুক্তিদিবস উপলক্ষে যুবলীগের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
কামরুল বলেন, “যারা বিভিন্ন কথা বলছেন, ত্তাবধায়ক সরকার নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না। তাদের স্পষ্ট বলতে চাই। আপনাদের এসব দাবি মানার কোন প্রশ্নই উঠে না। আপনাদের সঙ্গে সংলাপের কোন প্রশ্নই উঠে না। সংবিধানের বাইরে একচুল যাওয়ার আমাদের কোন সুযোগ নেই।
“সংবিধান সম্মত ভাবেই নির্বাচন হবে এবং এই নির্বাচনে আপনারা অংশ গ্রহন করবেন কি করবেন না সেটা আপনাদের বিষয়। আপনারা নির্বাচনে অংশগ্রহন না করলেও নির্বাচন থেমে থাকবে না।”
“জনগন নির্বাচনে অংশগ্রহন করলেই সেটা হবে অংশগ্রহন মুলক নির্বাচন।এটা আপনাদের মনে রাখতে হবে। জনগন পার্টিসিপেট করলে কে করলো বা কে নির্বাচনে অংশগ্রহন করলো না সেটা ভাবার বিষয় নয়।”
“নির্বাচন নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করবেন না। নির্বাচনে আপনারা যদি অংশগ্রহন না করেন। আপনাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। অস্তিত্বের সার্থেই আপনারা নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেন।”
আগামী নির্বাচন প্রজন্ত এই সংসদ বহাল থাকবে জানিয়ে কামরুল বলেন, “নির্বাচনকে, নির্বাচন কমিশনকে কিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় সেই চেষ্ট করছে বিএনপি। এই নির্বাচন কমিশন একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন।
“আর বিএনপি যেহেতু সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন না, সংসদে তাদের কোন প্রতিনিধি নাই সুতরাং নির্বাচন কালীন সরকারে থাকারও কোন সুযোগ নাই “
“নির্বাচনকালীন সরকার যতক্ষন থাকবে অর্থাৎ আগামী নির্বাচন পর‌্যন্ত এই সংসদ বহাল থাকবে। এটাই সংবিধানের কথা। সংবিধানের কথা হচ্ছে সংসস বহাল রেখে আগামী নির্বাচন হবে। এর ব্যত্যয় ঘটার কোন সুযোগ নেই।”
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করার কোন সুযোগ নেই জানিয়ে কামরুল বলেন, “বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করার কোন সুযোগ নেই। জেল কোর্ট অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে।”
বিদেশিদের ধর্ণা দিয়ে বিএনপি ক্ষতার সাদ গ্রহণ করতে পারবে না বলে জানিয়ে কামরুল বলেন , “ভারতের বিরুদ্ধে জনগনকে ক্ষিপ্ত করে আজকে আপনারা ভারতের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। আপনাদের প্রতিটি কথাবার্তা ভারত বিরুধী। আজকে আপনারা সেই ভারতে গেছেন। কোন রকমে যেন তারা বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্থক্ষেপ করে।
“বাংলাদেশে অত্যান্ত শুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে ভারতকে টেনে আনার চেষ্টা করবেন না। বিদেশিদের কাছে ধর্ণা দিয়ে কোন লাভ নেই। ভোটারদের কাছে যেতে হবে। ভোটাররা যেই স্বীদ্ধান্ত নিবে সেই স্বীদ্ধান্তই আসল স্বীদ্ধান্ত।”
“বিদেশিদের কাছে ধর্ণা দিয়ে কোন অবস্থাতেই আপনারা ক্ষমতার সাদ গ্রহণ করতে পারবেন না।
সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী দিনটির(১১জুন) গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আজকের দিনটি কেবল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস নয়, এই দিনটি ‘জনগণের ক্ষমতায়নে’র এবং গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের মুক্তির দিবস।”

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত তার বক্তব্যে বলেন, আজকের ১১ জুন শুধু একমাত্র কারামুক্তি দিবস নয় । এটি তার নবম কারা মুক্তি দিবস। রাস্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার আজ ৭১ বছর বয়সে প্রায় ১৫ বছর রাস্ট্রিয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। ৭০ বছর বয়সী প্রাচীন একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রি হিসেবে ৩৮ বছর দায়িত্ব পালন করে আসছেন । ২৩ বছর তিনি গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। আজকের এই কারামুক্তি দিবসটি তার আন্দলন সংগ্রামের সর্বশেষ অধ্যায়। এই পর্যায়ে তিনি ৩২৫ দিন কারা অভ্যান্তরে ছিলেন। তার জীবনে তিনি ছয়টি পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছেন , ছয়টিতেই বিজয় অর্জন করেছেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন।রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনা প্রথম কারা বরন করেন ১৯৮৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী, তৎকালীন স্বৈরশাসক এইস এম এরশাদ তাকে গ্রেফতার করে ১৫ দিন অন্তরিন করে রাখে। দ্বিতীয় বার কারা বরন করেন ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ,একই বছর নভেম্বর মাসে তাকে দুই বার গৃহবন্দি করে রাখা হয়। চতুর্থ বার কারা বরন করেন ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ এবং তাকে তিন মাস গৃহ বন্দি করে রাখা হয়। পঞ্চম বার ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টবর ও তাকে ১৫ দিন গৃহ বন্দী করে রাখা হয়। ষষ্ঠ বার কারাবরন ছিল ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর, এক মাস তাকে অন্তরিন করে রাখে । সপ্তম বার ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পুনরায় তাকে গ্রেফতার করে নিজ গৃহেই তাকে অন্তরিন করে রাখা হয়। অস্টম বার ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর পুনরায় গ্রেফতার করে বঙ্গবন্ধু ভবনে অন্তরিন করে রাখা হয়। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সামরিক বাহিনী সমর্থিত তৎকালীন কেয়ারটেকার সরকার ৩২৫ দিনের মাথায় তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এই মুক্তির পিছনে এদেশের মানুষের অকুন্ঠ সমার্থন ছিল। তাই তার মুক্তির মধ্যেদিয়ে এদেশের মানুষের সামরিক যাতাকলে নিস্পাসিত হওয়া থেকে বাচিয়েছে।

আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহামান, যুগ্ম-সম্পাদক সুব্রত পাল, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

এদিকে মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন দিনটির গুরুত্তের কথা তুলে ধরে বলেন, আজকের এই দিনে যদি রাষ্ট্রনায়ক শেখা হাসিনা কারা অভ্যান্তরে থাকত, তাহলে বাংলাদেশের মানুষের বুকে সামরিক তন্ত্র বসেছিল তাহলে আজকের এই উন্নায়ন আর হতো না। সেদিন গনতন্ত্র মুক্তির কারনেই আজকের বংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে।
অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন, মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সম্পাদক মন্ডল সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ইকবাল মাহমুদ বাবলু প্রমুখ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি