রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮



রাঙ্গামাটি থেকে মধু মাসের রসালো ফল যাচ্ছে ঢাকার বাজারেও


আলোকিত সময় :
09.06.2018

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি :

বাংলা সালের দ্বিতীয় মাস জ্যৈষ্ঠ। আবহমানকাল থেকেই এই মাস বাঙ্গালীদের নিকট মধুমাস হিসেবে পরিচিত। আমাদের দেশে আম-কাঁঠাল-লিচু-আনারসসহ হরেক রকমের রসালো ফল এই মাস পাকে। বাজার থাকে মধু মাসের ফলের মুহু মুহু গন্ধে। তাই এই মাসটি বাংলার মানুষের নিকট মধুমাস হিসাবে প্রিয়।
পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির পথে ঘাটে, নদীর ঘাটে, হাট-বাজারগুলো এখন আম-কাাঁঠাল, লিচু ও আনারসের মৌ-মৌ সুগন্ধে মন মাতিয়ে তুলছে। প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা কাপ্তাই লেক দিয়ে বোট ভর্তি বাগান থেকে চাষীরা তাদের উৎপাদিত আম-কাঁঠাল, লিচু ও আনারস বাজারে নিয়ে আসছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর আনারস, আম-কাঠাঁল এবং লিচুর ফলন ভাল হওয়ায় এই সব টসটসে রসালো ফলগুলো এখন স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের অন্য জেলা গুলোতে বাসে পিঠে ও ট্রাকে করে প্রতিদিন টনে টনে চলে গিয়ে সারা দেশের চাহিদা মেঠাচ্ছে।
পাহাড়ি অঞ্চলের মৌসুমী ফলের কদরও আলাদা। এই সব ফল স্বাদ ও গন্ধ আলাদা । রাঙ্গামাটিতে আনারসের যে স্বাদ ঢাকায় এর স্বাদ উল্টো। কারণ হিসাবে জানা গেছে পাকা ফল মজলে স্বাদ হয় বেশী। রাঙ্গামাটির ফল ফরমালিন মুক্ত হওয়ায় এসব মৌসুমি ফলের চাহিদা রয়েছে বেশী। পাইকারি ব্যবসায়ীরা পাহাড়ের আনারস, লিচু আম-কাঠাঁল বাজারজাত করার জন্য প্রতিযোগিতা দিয়ে বাগান মালিক থেকে ক্রয় করে নিয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার আরতে সরবরাহ করছে। পাইকারের হাত ঘুরে এসব ফল চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এ বছর কালবৈশাখী কম হওয়ায় রাঙ্গামাটিতে মৌসুসী ফলের ফলন বেশী হয়েছে। শহরের ট্রাক টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন অর্ধশত এই সব ফল বোঝাই গাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। তবে প্রচুর উৎপাদনের পরও কাঁঠাল বাগান থেকে বাজারে নিয়ে আসার জন্য বাগান চাষি পরিবহন খরচ ও বিভিন্ন ধরনের টোল ও চাদাঁ পরিশোধসহ অন্যান্য খরচের কারণে এই সব ফলের পিছনে যে ব্যয় হচ্ছে সে হিসেবে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না বলে ভূক্তভূগি বাগান মালিক ল²ী চাকমা জানায়। কাপ্তাই হ্রদের পানি বাঁড়ানো ও কমানোর ক্ষেত্রে সঠিক পন্থা অবলম্বন না করায় পাহাড়ের বিভিন্ন ফসলাদি উৎপাদন করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে ভূক্তভোগী চাষিরা জানায়।
কয়েক বছর আগেও পার্বত্যাঞ্চলে রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমী ফল আসতো এখন চায়না থ্রি এখানকার চাহিদা মিঠিয়ে ঢাকা চট্টগ্রামের বাজার দখল করে নিয়েছে। রাঙ্গামাটির বাজারে প্রতিশত চায়না থ্রি লিচু বিক্রয় হচ্ছে ২ থেকে আড়াইশ টাকায়। প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত লিচু আনারস কাঠাল কৃষকরা নৌকা বোটে করে শহরের সমতাঘাট, তবলছড়ি, পৌরা ট্রাক টার্মিনাল এবং রির্জাভ বাজার নিয়ে আসে। সেখান বসে পাইকারি বাজার। খুচরা বিক্রেতা থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে এই সব ফল জেলার বাইরে নিয়ে যায়। প্রতি মঙ্গলবার, বুধবার ও শনিবার সমতা ঘাট ও পৌর ট্রাক টার্মিনালের পাশে কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ পানিতে পরিবহন বোট নিয়ে বসছে ভাসমান ফলের বিশাল বাজার। সেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার ফল বেচা কেন হয়ে থাকে।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-২০১৮অর্থ বছরে মে মাস পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে ২৩ হাজার ৪১০ মে.টন। লিচুর ফলন হয়েছে ১৩ হাজার ২৮৬ টন। অনুরূপ ভাবে ১৭৯৭হেক্টর জমিতে ৫০ হাজার তিনশ পঞ্চাশ মে.টন আনারস উৎপাদন হয়েছে। ওই সময়ে মধ্যে ৪ হাজার ১৮২ হেক্টর জমিতে ১ লক্ষ ৫ হাজার ৪৮০ মে.টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছে।
রাঙ্গামাটি সদরের কুতুকছড়ি ইউনিয়নের তৈমুদং এলাকার আনারস চাষি অমর আলো চাকমা জানান গতবারের তুলনায় এবার আনারসের দামও ভাল পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর প্রতিটি আনারস বিক্রয় করেছি ৭-৮ টাকা দরে। এবার একটি বড় সাইজের আনারস ১১-১৩ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে।
শহরের বনরূপা বাজারে কাঁঠাল বিক্রি করতে আসা গুলে¬া চাকমা ও সুচিত্র চাকমা বলেন, এবার কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। গত বছরতো পাহাড় ধসের কারণে আমাদের অনেক কাঁঠাল নষ্ট হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় কাচাঁ ফল পচে নষ্ট হয়েছে। এবার আবহাওয়া ভাল আছে। আশাকরছি ভালো ব্যবসা হবে।
এ প্রসঙ্গে রাঙ্গামাটির কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষ্ণ প্রসাদ মলি¬ক বলেন, এবার সবচেয়ে ফলন ভালো হয়েছে আনারসের। রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়িতে আনারসের ফলন ভালো হয়ে থাকে। তিনি বলেন, তবে শিলাবৃষ্টির কারনে তরমুজ ও আমের ফলন কম হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত কোন ফলে ফরমালিন দেয়া হয় না। যার ফলে এখানকার ফলের চাহিদা বেশী।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি