শনিবার ২৩ জুন ২০১৮



প্রথাগত আইনে বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের আহবান


আলোকিত সময় :
09.06.2018

 রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি :

নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণের প্রথাগত বিচার ব্যবস্থা সমূহ সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি স্থানীয় নীতিমালা প্রণয়নের আহবান জানিয়েছেন নারী নেতৃবৃন্দরা। তারা বলেন, প্রথাগত আইন বাসÍবায়নে অনেক সময় রাজনীতি কারণে এগুলো বাধাগ্রস্থ হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানেও নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

শনিবার (৯ জুন) সকালে স্থানীয় এনজিও আশিকা সম্মেলন কক্ষে প্রথাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক আইনে নারীর প্রতি বৈষম্য দুরিকরণে লক্ষ্যে এক প্রেস কনফারেন্সে এই দাবীগুলো তুলে ধরেন নারী নেতৃবৃন্দ।

প্রোগ্রেসিভ ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) এর আয়োজনে প্রোগ্রেসিভ-এর নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, নারী নেত্রী ও হিমাওয়ান্টির নির্বাহী পরিচালক টুকু তালুকদার, বিশিষ্ট নারী আইনজীবী এ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, হেডম্যান নেটওর্য়াকের সাধারণ সম্পাদক খয়ে মারমা প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দরা বলেন, প্রথাগত বিচার ব্যবস্থা আজ পার্বত্য অঞ্চলের জন্য একটি গৌরবময় অধ্যায়। এই গৌরবময় প্রথাগত বিচার ব্যবস্থা ও রীতিনীতিকে আরো গণমুখী এবং যুগের সাথে সমন্বয় করার লক্ষ্যে কিছু কিছু পরিবর্তন আজ যুগের দাবী। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নারীরা না প্রকার অসমতা এবং নির্যাতনের শিকারে পরিণত হচ্ছে ক্রমাগত। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুরষদের একচ্ছত্র আধিপত্য এখনো বিরাজমান এই সমাজ ব্যবস্থায়। এই ধরণের রীতিনীতি কোন অবস্থাতে একজন নারীকে কর্মদ্দোগী করতে উৎসাহিত করেনা। এই অবস্থার
পরিবর্তনের প্রয়োজন এখন সময়ের দাবী। তাই নারীর আর্থিক, স্বাধীনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা জরুরী।

বক্তরা আরো বলেন, প্রচলিত প্রথা অনুসারে বংশ পরস্পরা হেডম্যান/কার্বারী নিয়োগ হয়ে আসছে কেবল পুরুষরাই। ইদানিং চাকমা সার্কেল প্রধানের ঐক্লাস্তিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে হেডম্যান/কার্বারী পাশাপাশি নারী কার্বারী নিয়োগ প্রদান করেছেন এবং তারা সামাজিক বিচার কার্যে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু অন্য দুইটি সার্কে মং এবং বোমাং সার্কেল এই বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত। এতে করে নারীর সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রদান অন্তরায়। হেডম্যান কার্বারীর উত্তরাধিকারী হিসেবে যোগ্য পুরুষ না থাকলে সেই ক্ষেত্রে একজন যোগ্য নারীকে উক্ত পদে আসীন করার প্রক্রিয়া প্রচলিত করা দরকার। তাই স্থায়ী ভাবে নেতৃত্ব সৃষ্টি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজকে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির দাবী জানান।
বক্তরা বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সমাজে বিয়ের সনদ বা দালিলিক প্রমাণপত্র না থাকার কারণে বিয়ে অস্বীকারের প্রবণতা বেড়ে চলছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ নারী তার স্বামীর ঔরসজাত সন্তানের ভরণ-পোষণ আদায় করতে পারছে না। বিবাহিত নারী ও তার সন্তানরা বঞ্চিত হচ্ছে উত্তরাধিকার থেকে। তাই চাকমা সার্কেল, মং সার্কেল ও বোমাং সার্কেলে এ বিবাহ সংক্রান্ত দালিলিক সনদপত্র রেজিষ্ট্রিভূক্ত করা প্রয়োজন।

নারী নেতৃবৃন্দরা বিবাহ সনদ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নারী-পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্কের দালিলিক প্রমাণ, স্ত্রী ও সন্তানদের উত্তরাধিকার প্রদান ও প্রতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিসহ প্রথাগত রীতিনীতি, রেওয়াজ, বিচার ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং নারীবান্ধব করার মাধ্যমে নারীদের আত্মবিকাশের পথকে সুপ্রশস্ত করে সমগ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জাতিসত্বার উন্নয়ন সুনিশ্চিত করার দাবী জানান।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি