বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮



ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি থেকে সাংবাদিক,সবশেষে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ আটক


আলোকিত সময় :
09.06.2018

চারঘাট প্রতিনিধিঃ

গত বুধবার বিকেল থেকে চারঘাট বাঘার মানুষের অন্যতম আলোচনার বিষয় সাংবাদিক মিজান ২২ বোতল ফেন্সিডিল ও ৭০ পিস ইয়াবা আটকের খবর। একজন মানুষের উথান ও পতনের গল্প।

বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে চারঘাট পৌরসভার সামনে মিজানুর রহমানকে আটক করে চারঘাট মডেল থানা পুলিশ। তাকে আটক করার সময় ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিল পৌরসভার কর্মচারী ও কয়েকজন কমিশনার। কিছুক্ষনের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনা স্থলে ভীড় বাড়তে থাকে কয়েকশত লোক সেখানে উপস্থিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী পৌরসভার র্কায-সহকারী মাসুদ রানা জানান, পুলিশ সেখানে দাঁড়িয়ে অনেক মোটর সাইকেলই চেক করছিল। সে সময় মিজান সাংবাদিক মোটরসাইকেল নিয়ে আসলে পুলিশ তার গতি রোধ করে তাকে তল্লাশি করলে তার কাছে থেকে ২২ বোতল ফেন্সিডিল ও ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য মিজানু রহমান দৈনিক সানশাইন ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার চারঘাট প্রতিনিধি। তিনি ফ্যামিলি সহ রাজশাহীতে থাকেন। সপ্তাহে দুই একদিন চারঘাটে আসেন। দুইটা প্রত্রিকার চারঘাট প্রতিনিধি হয়েও তিনি কিভাবে চারঘাটে না থেকে শহরে বসে নিউজ করেন,তা নিয়ে স্থানীয় লোকাজনের ভেতরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অন্য কোনো পেশা ছাড়া শুধু সাংবাদিকতা করে তার রাজকীয় চাল চলনও সাধারন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে।

স্থানীয় এক সাংবাদিক জানান, মিজানুর রহমান কর্মজীবনের শুরুতে একটা ছোট ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি হিসাবে চাকরি করতেন। এর পরে তিনি চারঘাটের স্থানীয় কিছু সাংবাদিকদের সাথে সখ্যতা গড়ে পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। তেমন কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও তীক্ষ্ণ বুদ্ধির কারনে খুব দ্রুতই পরিচিতি লাভ করেন এবং চারঘাটের কিছু মাদক ব্যাবসায়ীর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। সে সাংবাদিক আরো জানান,মিজান বিভিন্ন ভাবে মানুষকে ব্ল্যাকমেল করতো। যেসব মাদক ব্যবসায়ী তার সাথে সখ্যতা করতো না শুধু তাদের নিয়ে নিউজ করতো। কিন্তু চারঘাট বাঘার অধিকাংশ মাদক গডফাদারদের সাথেই তার সখ্যতা ছিল নিবিড়। তার ভাগ্নি জামাই মাদক সম্রাট জয়নাল মুন্সীর উথানও তার হাত ধরেই।

এ বিষয়ে চারঘাট মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন,মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক তার শাস্তি অবশ্যই পাপ্য।সাংবাদিক মিজানের আতœীয়রা সবাই মাদকের গডফাদার হবার কারনে অনেকেই তার ব্যাপারে জানতে চায়, কিন্তু আমরা বলতে পারতাম না।কিন্তু এখন দেখছি সে নিজেই মাদক ব্যবসা করে।

চারঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, সাংবাদিক মিজানের চালচলন সব সময়ই সাধারন মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তিনি বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারন মানুষদের হয়রানি করতো।বিভিন্ন মাদক ব্যাবসায়ীর সাথে সখ্যতা ছিল।আর সেজন্যই মাদক সহ মিজান ধরা পড়াতে মোটেও অবাক হননি বলে তিনি জানান।

সাংবাদিক মিজানুর রহমান আটকে চারঘাট মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান,পুরো চারঘাট এলাকা জুড়েই মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চলছে।তারই অংশ হিসাবে চারঘাট পৌর ভবনের সামনে গাড়ি চেকিং চলছিল। সে সময় সাংবাদিক মিজানুর দ্রুত গতিতে আসলে,পুলিশ সন্দেহবসত তার গাড়ি থামিয়ে তাকে তল্লাশি করে। তখন তার ডান পকেট থেকে ৭০ পিস ইয়াবা ও আমের ব্যাগের পাশে থাকা অন্য একটা ব্যাগ থেকে ২২ পিস ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি সত্যতা নিশ্চিত করেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি