শনিবার ২৩ জুন ২০১৮



ভৈরবের কোটিপতি মাদক সম্রাট কৌশলে কারাগারে


আলোকিত সময় :
08.06.2018

ভৈরবে মাদক ব্যবসা করে ফরিদ মিয়া নামে এক মাদক ব্যবসায়ী এখন কোটিপতি। তার বাড়ি শহরের গাছতলা ঘাট এলাকায়। তার মূল বাড়ি ছিল পৌর এলাকার চন্ডিবের গ্রামে। এক সময় সে ছিল নির্মাণ শ্রমিক।

শ্রমিক থেকে এখন সে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ১০ বছর যাবত সে মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। ভৈরব শহরের গাছতলাঘাট এলাকায় তার রয়েছে ৫তলা একটি আলীশান বাড়ি। এছাড়াও রয়েছে তার পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকায় একটি গরুর খামার ও পুকুর।

এখানে তার কয়েক বিঘা জমিও রয়েছে যার বাজার মূল্য কোটি টাকা হবে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায় মাদক সম্রাট ফরিদের আশুগঞ্জ এলাকায়ও সম্পত্তি রয়েছে। মাদক ব্যবসা করার জন্য তার রয়েছে একাধিক মাইক্রোবাস। এ দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় কমপক্ষে ১২টি মামলা হয়েছে।

একাধিক মামলায় গ্রেফতার হলেও সে বার বার আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। গত ৭/৮ বছর আগে ভৈরব র‌্যাব সদস্যরা তাকে মাদকসহ আটক করলে সে গাড়ির কাচ ভেঙে গাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

এ ফরিদ পুলিশকে হয়রানি করতে একাধিকবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ পুলিশের আইজি, পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করে। তার অভিযোগ ছিল আমি মাদক ব্যবসা করতাম কিন্তু এখন আর এ ব্যবসা করব না কিন্তু পুলিশ তাকে বার বার হয়রানি করে।

গত কয়েক মাস আগে ভৈরব থানার এসআই জিয়াউর রহমান তাকে তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। ঘটনাটি তার বাসায় সি সি ক্যামেরায় রেকর্ড হলে সে উল্টো ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পুলিশ তার হাতে ইয়াবা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

শুধু তাই নয় ফরিদ গত দু’বছর আগে ঢাকা প্রেস ক্লাবে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগে জানায় পুলিশের কারণে সে মাদক ব্যবসা ছাড়তে পারছে না।

এভাবেই সে দিনের পর দিন ভৈরবে কৌশলে মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। গত ১৭ মে ঢাকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আহসানুল রহমান একটি টিম নিয়ে ভৈরবে এসে তাকে তার স্ত্রীসহ বাসা থেকে ৪৯০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা হলে সে এখন কিশোরগঞ্জ কারাগারে বন্দি আছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি