মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮



ঈদ ও মেলা উপলক্ষে বাঘায় বাড়ছে মৌসুমী ভিক্ষুকের সংখ্যা


আলোকিত সময় :
07.06.2018

বাঘা(রাজশাহী) প্রতিনিধি :

এখনো কয়েকদিন বাঁকি আছে ঈদ-উল ফিতর ঈদের। শুরু হয়ে গেছে কেনা কাটা। ঈদের মেলা উপলক্ষে ওয়াকফ ষ্টেটের বিশাল মাঠ জুড়ে বসতে শুরু করেছে হরেক রকমের পণ্যর ষ্টল। আর এই ঈদ ও মেলা সামনে রেখে বাঘায় বৃদ্ধি পেয়েছে মৌসুমী ভিক্ষুকের সংখ্যা। বছরের এই সময়টাকে টার্গেট করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তারা এসময় আসে বাঘায়। এদের বেশিরভাগই অপেশাদার ভিক্ষুক।
উপজেলার ছোট-বড় বিভিন্ন মার্কেট, অভিজাত এলাকা, বাস টার্মিনাল, বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাটে দিনদিন এসব ভিক্ষুকের উৎপাত বেড়ে গেছে। কমপক্ষে সহ¯্রাধিক ভিক্ষুক ঈদকে সামনে রেখে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছে। অন্য সময়ের তুলনায় অন্তত তিন গুণ বেড়েছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। মৌসুমী ভিক্ষুকদের অধিকাংশই ভাসমান। তাদের রাত কাটে, মাজার এলাকাসহ স্কুল কলেজের বারান্দা, বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতে ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে মানুষের ভিড়, সেখানেই ভিক্ষুকদের জটলা। নামাজের সময় মসজিদের সামনের অংশই ভিক্ষার মূল স্থান হিসেবে ব্যবহার করেন তারা। এ মুহূর্তে যেখানে ঈদের কেনাকাটা বেশি,সেখানেই ভিক্ষুকের সংখ্যা বেশি। ওইসব এলাকায় তাদের কারণে হাঁটাচলাও রীতিমতো মুশকিল হয়ে পড়েছে।
বৃহসপতিবার (০৭-০৬-১৮) বিকেলে মাজার এলাকায় কথা হয় রকেনার সাথে । প্রতিবন্ধী ১ মেয়েসহ ২ছেলে রেখে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। জায়গা জমি নাই। ভিক্ষা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। অন্ধ মেয়ে রাশিদাকে নিয়ে ভিক্ষায় নেমেছেন পিতা(৬০) সাদের আলী। ১ ছেলে ও ১ মেয়ে তার। মেয়েটি অন্ধ। বিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু সংসার টেকেনি। ছেলে-মেয়েসহ অন্ধ রাশিদাকে ছেড়ে দিয়েছে তার স্বামী। এখন সংসার চলে ভিক্ষার টাকায়। বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার নওপড়া গ্রামে। সারা বছর ভিক্ষাবৃত্তিতে থাকা বৃদ্ধ রজ্জেত আলীর দৈনিক আয় ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। কিন্তু রোজার মাসে একেকজন ভিক্ষুকের দৈনিক গড়ে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয় বলে জানান তিনি। কারণ হিসাবে জানান, রমজান মাসে মানুষ দান খয়রাত বেশি করে বলে তাদের লাভও বেশি হয়।
বয়স্ক ভাতা পান,এমনও কেউ কেউ ভিক্ষায় নেমেছেন, ফিতরাসহ যাকাতের টাকা-পয়সা, শাড়ি কাপড় পাওয়ার আশায়। উপজেলার চক সিংগা গ্রামের জবেদা জানান, স্বামী আতাউর প্রতিবন্ধীর যে ভাতা পান,তাতে ৪ সদস্যর সংসার চলেনা বলেই তার ভিক্ষায় নামা।

বাঘার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে মানুষ ভিক্ষাবৃত্তিতে নামে। সাধারণত দারিদ্র, পারিবারিক অবহেলা, মনস্থাত্বিক কারণেই মানুষ ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করে থাকে। তাদের প্রতি কোনো অবজ্ঞা আমি দেখাচ্ছি না। তবে ভিক্ষার নামে তারা যে অত্যাচার করে, তা অকোংশে বিরক্তিকর।’ এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের পুনর্বাসনে যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে ্এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার পদক্ষেপে এগিয়ে আসতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি