মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » জেলা » সান্তাহার স্টেশন সংলগ্ন দোকান গুলো শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র ভরসা



সান্তাহার স্টেশন সংলগ্ন দোকান গুলো শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র ভরসা


আলোকিত সময় :
06.06.2018

 

জিললুর রহমান,আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশন সংলগ্ন পশ্চিমে গড়ে ওঠা দোকান গুলোতে বেচাকেনা করে শতাধিকেরও অধিক ছিন্নমুল পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। যাদের জায়গা ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করার মতোও সামর্থ নেই, এমন স্বল্প পুঁজির ছিন্নমুল দরিদ্র ব্যবসায়ীরাই এখানে বহুদিন থেকে বিভিন্ন খোলা দোকানে ব্যাবসা করে আসছেন। এসব দোকানে শ্রমজীবিক দরিদ্র মানুষরা অল্প খরচে চা, বিস্কুটসহ অন্যান্য খাবার খেয়ে থাকেন। যারা বেশি টাকা খরচ করে ভাল দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনে খেতে পারেন না শুধু সেই হতদরিদ্ররাই এই সব দোকানের খরিদ্দার।

জানাযায়, সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিমে প্লাটফরমের সংলগ্ন স্থানে রেলওয়ে জায়গায় এলাকার ছিন্নমুল দরিদ্র মানুষ অস্থায়ী ভাবে খোলা চা,পান ও অন্যান্য খাবারের প্রায় ২২টি দোকান বহুদিন থেকে বসিয়ে ব্যবসা করে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। রেলওয়ে সম্পত্তিতে এসব স্থাপনা হওয়াই উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগন পরিদর্শনে আসলে ওই সব দরিদ্রদের দোকানপাট অন্যত্র সড়িয়ে নিতে হয়। পরিদর্শন শেষে আবার তারা জীবিকার তাগিদে আগের স্থানে দোকান তৈরী করে বেচাকেনা করেন। এই ভাঙ্গাগড়া খেলায় দোকানীদেরও তেমন একটা আয় হযনা বলে দোকানদারদের দাবী। তারপরও সেখানে দোকান না বসালে তাদের আহারের পথ হয়না। গত ১০এপ্রিল জি.আই.বি.আর খন্দকার শহিদুল ইসলাম বাৎসরিক পরিদর্শনে আসেন সান্তাহার স্টেশনে।  পরিদর্শন শেষে তিনি ফিরে যাওয়ার দীর্ঘ প্রায় ২মাস অজ্ঞাত কারনে বসতে দেয়া হয়নি এসব দোকানীদের। ফলে নিম্ন আয়ের এসব ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকে অর্ধহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছিল। স্থানীয়রা জানায়, দোকানীরা দরিদ্র হওয়ায় তাদের প্রতি কেউ নজর রাখেন না। ফলে দোকান বসাতে না পেরে প্রায় দিনই না খেয়ে থাকতে হয় তাদের। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দরিদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান বসিয়ে বেচাকেনা শুরু করলে একটি মহল তাদের উচ্ছেদ করার জন্য নানা কৌশল নিচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ে টিকিটঘরের পার্শ্বেয় বসা বীরমুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন পান ষ্টল ও দরিদ্র ক্ষুদে ব্যাবসায়ী বজলুর পানের দোকান বসতে না দেয়ায় বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা। দোকান বসতে না দেয়ায় হুশিয়ারীসহ বসানো দোকান তুলে দেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান এসব অসহায় দোকানিরা। রেলওয়ে আইন কানুন যেন সবই তার হাতে। এখানকার একজন ক্ষুদে ব্যাবসায়ী বাদশা জানান, এখানে চা-পানের দোকান করে প্রায় ১০০টি পরিবারের জীবিকা নির্বাহসহ বেকারত্ব দূর হয়ে থাকে। সান্তাহার জিআরপি থানার ওসি আকবর হোসেন জানায়, এসব দোকান নতুন নয় বহুদিন ধরে বসে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি