বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮



এবার আমি চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’ নেইমার


আলোকিত সময় :
04.06.2018

মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার এদিক-ওদিক হলেই হয়তো এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপাস্বপ্নের মধ্যমণি আর হতে পারতেন না তিনি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পাওয়া চোটে আরো চার বছর আগেই ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারত নেইমারের। হয়নি যে, সে জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতারও শেষ নেই তাঁর, ‘এমন একটি চোটের জন্য আমি জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনালটি মিস করেছিলাম, যেটি আমার ক্যারিয়ারও শেষ করে দিতে পারত। ওটা আমার ক্যারিয়ারকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়ার মতো চোট ছিল। চোটটা আর মাত্র দুই সেন্টিমিটার ডানে পেলেই কিন্তু আমাকে হুইলচেয়ারে বসে পড়তে হতো। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমি দ্রুতই সেরে উঠেছি এবং নিজের সবচেয়ে ভালোবাসার কাজটি করে যেতে পারছি। এবার আমি চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

সেটি আরেক বিশ্বকাপে এসে দলের জন্য ট্রফি জেতার চ্যালেঞ্জ। চার বছর আগে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নেইমারবিহীন ব্রাজিলের ভরাডুবিও হয়েছিল। ৭-১ গোলের হারে বিধ্বস্ত হয়েছিল স্বাগতিকরা মিনেইরোতে। ১৯৫০ সালেও মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হার ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে আছে ‘মারাকানাজো’ বা ‘মারাকানা বিপর্যয়’ নামে। একইভাবে জার্মানির কাছে হারও এখন ‘মিনেইরাজো’ নামে ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসে। তবে নেইমার বলছেন সেই ঘটনা অনেক পেছনে ফেলে এসেছেন তারা, ‘ওই হারটা হজম করা মুশকিলই ছিল। তবু সেই জার্মানি ম্যাচের পর আমরা অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি।’ পেরিয়ে এসে তাঁর মনে হচ্ছে, ‘সব সময়ই বিশ্বাস করি আমাদের পক্ষে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব। দুর্দান্ত একটি দল আমাদের এবং আমরা যথেষ্ট পরিশ্রমও করেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো বিশ্বকাপ জেতার মতো মান আমাদের আছে।’ যেভাবে বাছাই পর্বের বাধা পেরিয়েছে ব্রাজিল, সেটি নেইমারকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে আরো, ‘দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বাছাই পর্ব পেরোনো প্রথম দল আমরা। বাছাই পর্বে অন্তত ১৮টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে আমাদের। তাও আবার সেসব খেলতে হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দেশ এবং ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে। ফুটবলারদের জন্য যা ছিল খুব বড় এক পরীক্ষাও। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই কিন্তু আমরা কয়েক ম্যাচ হাতে রেখেই বাছাই পর্ব পেরিয়েছি। যা সবার জন্যই ছিল বিশেষ কিছু। রাশিয়াতেও আমরা একইভাবে এগিয়ে যেতে চাই।’

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে পুরো ছন্দে দেখা যাবে বলেও বিশ্বাস চোট কাটিয়ে ওঠা নেইমারের, ‘আমি এখন পুরো ঠিক আছি। হ্যাঁ, ইনজুরি নিয়ে শুরুতে দুশ্চিন্তা ছিল। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে দ্রুত আমার অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তও হয়। আমার মনে হয় আমাদের সব কিছুই ঠিকঠাক থাকবে।’ তাই নিজেদের গ্রুপ প্রতিপক্ষের কাউকেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না তিনি, ‘এটা বিশ্বকাপ। আপনি এখানে আছেন কারণ আপনি সেরা ৩২টি দেশের একটির প্রতিনিধি। এখানে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই। সুইজারল্যান্ডের দারুণ ফুটবল ইতিহাস আছে। নতুন দেশ হিসেবে জন্ম নেওয়ার পরে সার্বিয়াও তাদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। আর কোস্টারিকা কতটা শক্তিশালী দল, সেটি বোঝাতে বোধ হয় একটি তথ্যই যথেষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ায় নেই, কিন্তু কোস্টারিকানরা আছে। কাজেই এটা খুব কঠিন গ্রুপ। আমি বলব অন্যতম কঠিন গ্রুপ বিশ্বকাপের। কাজেই নকআউট পর্যায়ে যেতে হলে আমাদের থাকতে হবে নিজেদের সেরা ছন্দে।’

বিশ্বকাপ জেতার জন্য নিজ নিজ দলের হয়ে সেরা ছন্দে থাকতে চাইবেন লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও। এঁদের প্রথমজনের সঙ্গে বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন নেইমার। প্রতিপক্ষে পেয়েছেন রোনালদোকেও। ওই দুজনও নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেবেন বলে মনে করেন এই ব্রাজিলিয়ান, ‘মেসি এবং ক্রিস্তিয়ানো, দুজনেই গ্রেট ফুটবলার। তাদের প্রজন্মের সেরা। মেসির সঙ্গে আমি খেলেছি, যেটি আমার জন্য বিশাল সম্মানের ব্যাপার। সত্যিই খুব পছন্দ করি ওকে। ফুটবলার হিসেবেই শুধু নয়, মানুষ হিসেবেও। মেসির সঙ্গে একই ক্লাবের হয়ে খেলাটা ছিল আমার স্বপ্ন। আমার দৃষ্টিতে ও অবশ্যই সেরা। তবে ক্রিস্তিয়ানোকেও বাদ দিতে পারবেন না আপনি। ওর পরিসংখ্যানও কম বিস্ময়কর নয়। যদিও আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল, দুই দলের জন্যই বিশ্বকাপটি হবে কঠিন এক পরীক্ষা। তবে আমি নিশ্চিত যে দুই জাদুকরই দেশের জন্য সেরা ফল আনার জন্য নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে।’ টাইমস অব ইন্ডিয়া



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি