শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮



কুড়িগ্রামে সম্প্রসারিত হচ্ছে স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ


আলোকিত সময় :
24.05.2018

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : 

স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ সম্প্রসারনের লক্ষ্যে ২০১৭ সাল থেকে কাজ শুরু করেছে কুড়িগ্রাম মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার। গত বছর নিজস্ব খামারে গলদা চিংড়ির রেনু ও পোনা উৎপাদন করে সফলতা পাওয়ায় এ বছরও গলদা চিংড়ির পি.এল (রেনু) উৎপাদন করে কৃষদের মাঝে বিক্রী শুরু করেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার কার্প জাতীয় মাছের সাথে গলদা চিংড়ি চাষে কৃষকরা বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে মৎস্য খামার সুত্রে জানা গেছে।
কুড়িগ্রাম মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার সুত্রে জানা গেছে, মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ সম্প্রসারনের লক্ষে বরগুনার আমতলী ও পায়রা নদী থেকে মা চিংড়ি এবং পেকুয়া, চকরিয়া কক্সবাজার থেকে লবনাক্ত পানি সংগ্রহ করে আনা হয়। এরপর লবনাক্ত পানিতে স্বাদু পানি মিশিয়ে সেখানে মা মাছের ডিম ফোটানো হয়। পরে সেই ডিম স্বাদু ও লবনাক্ত পানির মিশ্রনে ২৮ থেকে ৩২ দিন পর্যন্ত প্রক্রিয়া জাত করে পি.এল (রেনু)তে পরিনত করা হয়। গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও জেলায় স্বাদু পানিতে চিংড়ি চাষ সম্প্রসারন প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রামে মৎস্য বীজ খামারে উৎপাদিত গলদা চিংড়ির পি.এল(রেনু) মৎস্য চাষীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে চিংড়ির পি.এল বিক্রী কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, কুড়িগ্রাম মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার ব্যবস্থাপক মুসা কালিমুল্ল্যা, গাইবান্ধা মৎস্য খামার ব্যবস্থাপক গোলজার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মৎস্যচাষীরা।
কুড়িগ্রাম মৎস্য বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে পলদা চিংড়ির রেনু কিনতে আসা উলিপুরের আসাদুজ্জামান জানান, আমি ১৫/১৬ বছর থেকে কার্প জাতীয় মাছের চাষ করে আসতেছি। আমি শুনে আসছি গলদা চিংড়ি মূল্যবান মাছ আর এটা দেশের দক্ষিনাঞ্চলে হয়। পরে শুনলাম কুড়িগ্রাম মৎস্য খামারে এর রেনু বিক্রী হচ্ছে এজন্য কিনতে এসেছি। আর গত বছর যারা এ মাছ চাষ করে লাভবান হয়েছে তাদের কাছেও খোঁজ খবর নিয়েছি। আশা করছি আমি খামারের কার্প জাতিয় মাছের সাথে গলদা চিংড়ি চাষ করে লাভবান হতে পারবো।
মৎস্য খামার সংলগ্ন কৃষক তারা মিয়া জানান, গত বছর কার্প মাছের সাথে একই পুকুরে গলদা চিংড়ি চাষ করে লাভ হয়েছি। এবার চাষ করার জন্য রেনু কিনতে এসেছি।
কুড়িগ্রাম মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক মুসা কলিমুল্ল্যা জানান, প্রথম দিন জেলার ৪ জন মৎস্য চাষীর নিকট ৭০ হাজারটি চিংড়ির পি.এল বিক্রী করা হয়েছে। যার প্রতিটি চিংড়ি রেনুর মূল্য ১ টাকা করে। আর একমাস পর খামারে উৎপাদিত প্রতিটি চিংড়ির পোনা ৫ থেকে ৬ টাকা করে বিক্রী করা হবে। চলতি মৌসুমে পর্যায় ক্রমে জেলায় ১শ জন মৎস্য চাষীর নিকট ৩ লাখ চিংড়ি পি.এল (রেনু) ও ৬৫ হাজার জুভেনাইল(পোনা) বিক্রীর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ২০১৭ সালে ৩ লাখ পি.এল ও ৬৫ হাজার জুভেনাইল উৎপাদন করে ৫০ জন মৎস্য চাষীর মাঝে বিক্রী করা হয়েছিল। এতে ব্যায় হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর বিক্রী হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
কুড়িগ্রামে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, আমরা স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ি চাষে সফলতা পেতে শুরু করেছি। কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছে। আশা করছি আগামী বছর গুলোতে এ জেলায় ব্যাপক হারে গলদা চিংড়ি চাষ শুরু হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি