সোমবার ১৮ জুন ২০১৮



বাউফলে বাউবি’র বাতিল কেন্দ্রে ফের পরীক্ষা


আলোকিত সময় :
19.05.2018

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ

অনিয়ম ও নকলের অভিযোগে বাতিল হওয়া সেই পটুয়াখালীর বাউফল ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ফের ব্যাপক অনিয়মের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরীক্ষা চলছে। উম্মুক্ত পরীক্ষা উম্মুক্তভাবে দেওয়ার জন্য প্রত্যেক পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে ঠান্ডা ফি ।
পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রত্যেক কক্ষে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা থাকলেও তা বন্ধ রাখা হচ্ছে। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ওই কলেজের শিক্ষকদের মাধ্যমে কক্ষ পরিদর্শকেরা এতে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ১১ মে বাউবির অধীনে স্নাতক(পাস) ও বিএসএস প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এই পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ১০ আগষ্ট। এতে বাউফল সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রথম বর্ষে ৩১৮ জন, দ্বিতীয় বর্ষে ৩৩১ জন, তৃতীয় বর্ষে ২৮৯ জন, চতুর্থ বর্ষে ১৫২ জন, পঞ্চম বর্ষে ১৯২ জন ও ষষ্ঠ বর্ষে ১৬৮ জন।
এর আগে ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে বাউবি কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসেন। তখন তাঁরা ব্যাপক অনিয়ম ও নকলের প্রবণতা দেখতে পান। এছাড়াও বাউফল ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে একজনের পরীক্ষা অন্যজনে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে পরবর্তী বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয় ওই কেন্দ্রে থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজে। সেখানে সুষ্ঠু ও অপেক্ষাকৃত অনেকটা নকলমুক্ত পরিবেশে ওই বছর ভালো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বছরের ১৪ অক্টোবর দৈনিক মানবকন্ঠ সহ বিভিন্ন পত্রিকায় ‘অনিয়মের অভিযোগে বাউফলে বাউবির কেন্দ্র পরিবর্তন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
পরীক্ষা পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বাংলা বিষয়ের প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম। তাঁকে সহযোগিতার জন্য আছেন একই কলেজের আরও তিন শিক্ষক। রফিকুল ইসলাম অধিকাংশ সময় থাকেন অনুপস্থিত। গতকাল (শুক্রবার) ছিল স্নাতক প্রথম বর্ষের ইংরেজী বিষয়ের পরীক্ষা। বেলা ১১ টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অনুপস্থিত। তিনি আবার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন একই কলেজের ইসলামিক শিক্ষা বিষয়রে প্রভাষক মো. শহিদুল ইসলামকে।
পরীক্ষার্থীরা যে যাঁর মত করে পরীক্ষা দিচ্ছে। কক্ষ পরিদর্শক থাকলেও তাঁরা সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রত্যেক কক্ষে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকলেও তা বন্ধ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, কয়েক প্রভাবশালীর পরীক্ষাথীর জন্য ফের ভেন্যু পরিবর্তন করে যে কলেজের শিক্ষার্থী আবার সেই কলেজেই পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ ওই প্রভাবশালীরা পরীক্ষাথীরা নিজে কক্ষে বসে পরীক্ষা না দিয়েও বিগত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে। কিভাবে সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাঁদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিরা পরীক্ষা দেয়। যা এই কেন্দ্রেই সম্ভব। তিনি আরও বলেন, যে কলেজের ছাত্র সেই কলেজের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিলে কোনোভাবেই নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না।
এক অভিভাবক বলেন,‘উম্মুক্ত পরীক্ষা উম্মুক্তভাবে দেওয়ার জন্য ঠান্ডা ফি (অতিরিক্ত টাকা) বাবদ প্রত্যেক পরিক্ষাথীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,‘উম্মুক্ত পরীক্ষার নেওয়ার জন্য সিসি ক্যামেরার প্রয়োজন নেই।’ তিনি আরও বলেন, ঠান্ডা ফি বাবদ কোনো পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। পরীক্ষা পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করলে তিনি ধরেননি। পরে একাধিকবার চেষ্টা করলে বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে বাউবি’র উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন,‘নকল যাতে না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিতর্কিত কেন্দ্রে ফের পরীক্ষা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি