বৃহস্পতিবার ২৪ মে ২০১৮



ধর্মপাশায় ইউপি সসদ্যের বিরুদ্ধে শতাধিক ভিজিএফ কার্ডধারীর চাল রেখে দেওয়ার অভিযোগ


আলোকিত সময় :
08.05.2018

ধর্মপাশা প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নূর জামালের বিরুদ্ধে ওই ওয়ার্ডের শতাধিক ভিজিএফ কার্ডধারীর চাল নিজে রেখে দিয়ে কার্ডধারীদেরকে শুধুমাত্র পাঁচশত টাকা করে দিয়ে বিদায় করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী কার্ডধারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়. উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নে অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই হাজার৫২৪টি পরিবারের মধ্যে ৩০কেজি করে চাল ও পাঁচশত টাকা করে বিতরণের জন্য বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর থেকে এপ্রিল মাসে ৭৫টন ৭২০কেজি চাল ও নগদ ১২লাখ ৬২হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। রবিবার থেকে ওই ইউনিয়নের ভিজিএফ কার্ডধারীদের মধ্যে চাল ও নগদ টাকা বিতরণ শুরু হয়। এই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে ২৫২জন ভিজিএফ সুবিধাভোগী রয়েছেন। সোমবার সকাল দশটা থেকে পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ওই ওয়ার্ডের ভিজিএফ কার্ডধারীদের মধ্যে চাল ও নগদ টাকা বিতরণ শুরু হয়। ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নূর জামাল ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাইকুরাটি ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে তাঁর ওয়ার্ড থেকে আসা শতাধিক ভিজিএফ কার্ডধারীদের কে ইউনিয়ন পরিষদে না যেতে বলেন। এ সময় তিনি শতাধিক ভিজিএফ কার্ডধারীদেরকে পাঁচশত টাকা করে দিয়ে তাঁদেরকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। এমনকি তাঁদের নামে বরাদ্দ পাওয়া চাল তিনি নিজে নিয়ে যাবেন বলে তাঁদেরকে জানান। অনেকেই এতে আপত্তি জানালে এই টাকাও তাঁরা পাবেন না বলে ইউপি সদস্য তাঁরেদকে সাফ জানিয়ে দেন। তাই নিরুপায় হয়ে তাঁরা শুধুমাত্র টাকা নিয়েই বাড়ি ফিরে যান।
নাম প্রকাশ না করার শতে কয়েকজন ভিজিএফ কার্ডধ্রাীর অভিযোগ বলেন, আমাদের ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নূর জামাল এলাকায় খুবই প্রভাবশালী। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তিনি আমাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তাই নিরুপায় হয়ে তাঁর কথা মতো আমরা টাকা নিয়েই বাড়ি ফিরেছি। তদন্ত হলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে।
ইউপি সদস্য নূর জামাল বলেন, লোভে পড়ে আমি চরম ভুল করে ফেলেছিলাম। এখন আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি । ভবিষ্যতে আর এমনটি হবে না।
ইউএনও পুলক কান্তি চক্রবর্তী বলেন, খবর পেয়ে সরোজমিনে ওইদিন বেলা আড়াইটার দিকে আমি পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে যাই। এ ঘটনা নিয়ে ইউপি সদস্য নূর জামালকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ২০-২৫জনকে চাল না দিয়ে শুধুমাত্র টাকা দিয়ে বিদায় করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে ওই ইউপি সদস্য ক্ষমা চাওয়ায় এবং যাদেরকে চাল দেননি তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ খরচে চাল পৌছে দেবেন বলে লিথিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন। এর কোনো ব্যক্তয় ঘটলে ওই ই্উপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি