মঙ্গলবার ১৪ অগাস্ট ২০১৮



অবশেষে কারাগারে ঠাঁই হলো বদমেজাজী চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবালের


আলোকিত সময় :
08.05.2018

মিরসরাই প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ১২নং খৈয়াছরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীগ নেতা জাহেদ ইকবাল চৌধুরী। বহু অপকর্মের হোতা এই চেয়ারম্যান সর্বত্র ‘বদমেজাজী’ চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। পিটিয়েছেন মসজিদের মুসল্লি, কলেজ ছাত্র, সরকারী কর্মকর্তা, অধ্যাপক সহ অনেককে। উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় নাজেহাল করেছেন বিভিন্ন দপ্তরে অফিসারদের। নিজ কুকর্মে দেশের জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক দৈনিকে শিরোনামের খোরাখ হয়েছিলেন অসংখ্যবার। অবশেষে বদমেজাজী জাহেদ চেয়ারম্যান সা¤্রাজ্যের অবসান হলো। পুলিশের উপর হামলা ও অস্ত্রলুটের মামলা ২ বছরের দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে ঠাঁই হয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। মহামান্য আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূক্তভোগীরা।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নাজেহাল, বন বিট কর্মকর্তাকে মারধর ও কারণে-অকারণে মানুষের সাথে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন ঘটনায় সমালোচিত মিরসরাইয়ের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরীকে মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকসা চালাতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর হামলা, অস্ত্র লুট মামলায় দুই বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। তিনি মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য। গত বছরের ১৫ জুলাই বিকাল থেকে ঘটনার সূত্রপাত। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবালের নেতৃত্বে ওই দিন বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় আড়াই ঘন্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে সিএনজি অটোরিকসা চালকরা। অবরোধ সরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ চালকদের উপর লাঠিচার্জ করলে বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় দফায় দফায় উভয় পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এসময় পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলি চালায়। মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ সাইরুল ইসলামের সার্বিক তত্ত¡াধায়নে মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তৎকালীন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়া আহমেদ সুমন ঘটনাস্থলে গিয়ে চালক ও ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবালের সাথে কথা বলে সন্ধ্যা ৭টায় মহাসড়ক থেকে অবরোধ সরিয়ে নেয়। তবে পুলিশের একটি রাইফেল লুন্ঠিত হওয়ায় রাত ১০টার সময় বড়তাকিয়া বাজারে অবস্থিত খৈয়াছরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল সহ ৪জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই ঘটনার আগের দিন ১৪জুলাই মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলায় চেয়ারম্যান জাহেদ অতিথির আসনে ১ম কাতারে বসতে না পারার জের ধরে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সামনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরীকে প্রকাশ্যে নাজেহাল করে। এমনকি গোলাম রহমান চৌধুরকে মাতে উদ্যত হয়। এসময় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ তাকে থামিয়ে দেয়। এই ঘটনায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও শিক্ষকবৃন্দ হতবাক হয়ে যায়। একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে কোন কারণ ছাড়াই উপজেলা পর্যায়ের একজন সরকারী কর্মকর্তাকে এভাবে নাজেহাল করায় জাহেদ ইকবালের খুঁটির জোর কোথায় ছিল এ নিয়ে প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। তার এমন নেতিবাচক কর্মকান্ডে বিব্রত খোদ দলীয় নেতাকর্মীরা। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে অনেক ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন জাহেদ ইকবাল চৌধুরী। বন বিট কর্মকর্তা আশিককে মারধর করে ব্যাপক সমালোচনার জন্মদেন তিনি। ঘটনায় বিট কর্মকর্তা জাহেদ ইকবাল চৌধুরীকে আসামী করে মামলাও দায়ের করেছিলেন।
এছাড়াও নিজামপুর কলেজের সামনে মহাসড়কে একটি বাসে যাত্রী কবি ও সাহিত্যিক মাহমুদ নজরুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী পিটানোর ঘটনায় সর্বত্র সমালোচিত হয়েছিলেন চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল। নিজ এলাকায় একটি মসজিদে মুসল্লিদের সাথেও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। খৈয়াছরা ঝর্ণায় এলাকায় নিজ বাংলালোয় চট্টগ্রামের একটি নামকরা কলেজের অধ্যাপককে পিটিয়েছিলেন এই বদ মেজাজী জাহেদ চেয়ারম্যান।
বিভিন্ন ঘটনার বিচারে চেয়ারম্যান জাহেদ পার পেয়ে গেলেও দ্রæত বিচার আইনে গত বছরের জুলাই মাসে করা মামলায় তাকে অবশেষে কারাদন্ড ভোগ করতে হলো। এছাড়াও একই মামলা তার ভাই অন্য একজনকে ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন – ১২নং খৈয়াছরা ইউপি ছেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী, তার ভাই আসিক ইকবাল চৌধুরী এবং একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সুমন। সোমবার (৭মে) অতিরিক্তি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রবিউল আলম এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৫ জুলাই চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরীসহ ৮জনের নাম উল্লেখ ও ১৬৫ জনকে অজ্ঞাত করে আইনশৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রæত বিচার) আইন ২০০২ (সংশোধনী) ২০০৪ এর ৪ ও ৫ ধারায় একটি মামলা করেন (মামলা নং-১৪/১৭) জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোঃ জাকির হোসেন। মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরে ২ আগষ্ট আদালতে চার্জশীট দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জহির উদ্দিন। আতালত একই বছরের ৩ নভেম্বর চার্জ গঠন করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী,মিরসরাইয়ে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের আস্থাভাজন পরিচয় দিয়ে চলতো চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী। কিন্তু মোশাররফ ভাই কখনই তার কুকর্মকে প্রশয় দিতেন না। তার প্রমান চলমান মামলার রায়। মাননীয় মন্ত্রী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। চেয়ারম্যানের কর্মকান্ড নিয়ে আওয়ামীলীগ বিব্রতবোধ করতো।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি