মঙ্গলবার ১৪ অগাস্ট ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » আজকের পত্রিকা » ধর্মপাশার খাদ্য গুদাম দুটিতে সরকারি ন্যায্য মুল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায় হতাশ কৃষক



ধর্মপাশার খাদ্য গুদাম দুটিতে সরকারি ন্যায্য মুল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায় হতাশ কৃষক


আলোকিত সময় :
07.05.2018

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এই দুটি সরকারি খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি ন্যায্য মুল্যে এখনো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি। গত ২মে থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে কৃষকেরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে মনপ্রতি ধান ৫৫০টাকা থেকে ৬৫০টাকা দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। খাদ্য গুদাম দুটি ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু না হওয়ায় এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ধর্মপাশা সদর বাজার ও মধ্যনগর বাজারে দুটি খাদ্য গুদাম রয়েছে। চলতি বছরের ৩০এপ্রিল খাদ্য অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ কার্যালয় থেকে ধান- চাল সংগ্রহের জন্য এই কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ ছিল চলতি বছরের ২মে থেকে এ উপজেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এই দুটি খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হয়ে তা চলবে ৩১আগস্ট পর্যন্ত। কিন্ত এখনো তা শুরু হয়নি। প্রতি কেজি ধান ২৬টাকা দামে প্রত্যেক কৃষক সর্বনি¤œ ৪০কেজি থেকে সর্বোচ্চ তিন টন ধান গুদামে বিত্রি করতে পারবেœন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহের জন্য কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে এ উপজেলায় ৬২টন আতপ চাল ক্রয়ের ব্যাপারে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্থানীয় মিল মালিকদের কাছ থেকে এই চাল সংগ্রহ করা হবে। প্রতি কেজি চাল ৩৭টাকা দামে এই চাল সংগ্রহ করা হবে।
উপজেলার রায়পুর গ্রামের কৃষক মাফিকুল মিয়া (৪৫) বলেন, গত বছর আমরার তিন আল জম্বিই হানিত তল অইছিল। জমিত থাইক্যা এককাডা ধানও ঘরও তুলতাম হারছি না। ইবার কিছু টেহা ঋণ কইর‌্যা ২০কিয়ার জমিত ধান চাষ করছিলাম। ভালা ধান অইলেও ধানের দাম কম অওয়ায় মন খারাপ অইয়া গেছে। সরহারি গুদামও ধান নিব হুনছিলাম। গুদাম ধান বিক্রি করতে হারলে খুউব ভালা অইলয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম হায়দার বলেন, গত ২মে থেকে এ উপজেলায় সরকারি ন্যায্য মুল্যে খাদ্য গুদাম দুটিতে ধান সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন ধান ক্রয়ের কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে মিল মালিকদের কাছ থেকৈ ৩৭টাকা কেজি দামে ৬২মেট্রিক টন চাল কেনার জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। জেলা ধান-চাল সংগ্রহ কমিটির সভায় বরাদ্দের বিভাজন শেষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুলক কান্তি চক্রবর্ত্তী বলেন, সরকারি ন্যায্য মুল্যে কৃষকদের কাছ থেকে গুদাম দুটিতে ধান সংগ্রহের ব্যাপারে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি